1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন

“অতিভক্তি চোরের লক্ষণ”

লেখক: আমিনুল ইসলাম কাসেমী
  • প্রকাশটাইম: বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০২১

গ্রামাঞ্চলের একটা প্রসিদ্ধ প্রবাদ। বেশী ভক্তি দেখানো এটা কিন্তু ভাল লক্ষণ নয়। অনেক সময় সেটা বুমেরাং হয়ে যায়। বেশী ভক্তি দেখাতে দেখাতে এক সময় তারা ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। শেষমেষ ইজ্জত নিয়ে বাঁচা বড় দায়।




এগুলো অহরহ দেখে আসছি আমরা। বর্তমান সমাজে এর বহু প্রমাণ। যারাই বেশী হুজুর! হুজুর! করে, এক সময় তারা কিন্তু মীর জাফরের ভুমিকায় চলে যায়। নতুবা এমন কিছু কাজ ঐ সকল ভক্তরা করে, যাতে সেই মহান ব্যক্তিকে বিতর্কিত করে ছাড়ে। সে ব্যক্তি আর সামনে চলার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
আমরা দেখেছি, এদেশের জনপ্রিয় বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী সাহেবের জনপ্রিয়তা। হঠাৎ যেভাবে তিনি জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন, তা কল্পনার বাইরে। আজহারী সাহেব যেখানে যেতেন, সেখানেই জনসমুদ্র। মানুষ আর মানুষ। ময়দান ভরে গিয়ে আশেপাশের বিল্ডিং, গাছপালার উপরে মানুষ ভরে যেত। কোথাও তিল ধরনের ঠায় থাকতনা। মানে সে এক বিশাল কান্ড- কারখানা।




অনেকে বুঝে উঠতে পারতেন না, ব্যাপার টা কি? অনেক বিজ্ঞ মহল হয়রান হয়ে যেত। কারো জ্ঞানে ধরতনা বিষয়টা। অথচ আজহারী সাহেব এমন কোন বড় শায়েখ তিনি ছিলেন না। বা তাঁর বক্তৃতায় কোন বড় আকর্ষণ খুঁজে পায়নি অনেকে। তারপরেও সেখানে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। একচেটিয়া ভাবে সেখানে জমায়েত হয়েছে।তবে তাঁর বক্তৃতায় কিছু চুটকি ছিল। কিছু বিদেশী ভাষা তিনি ব্যবহার করতেন। আবার তিনি কিছু জনপ্রিয় গান গাইতেন। হয়ত এর টানে যুবকদের হৃদয়ে ঝড় তুলত।এবং যুব সমাজ দলবেঁধে সেটা শোনার জন্য পাগলপারা হয়ে থাকত।




আমরা সে সময়ে লক্ষ্য করেছিলাম, যারা আজহারী সাহেবের চিন্তা- চেতনার খেলাফ চলাফেরা করেন, তারাই আজহারী সাহেবের মাহফিলে বেশী ভীড় জমিয়েছে। এবং কোথাও আজহারী সাহেব গেলে, সেখানে সেসমস্ত লোকেরা তার আশ- পাশে ঘুরঘুর করেছে।এক পর্যায়ে এমন হল, আজহারী সাহেবের অতিউৎসাহী ভক্তরা বাড়াবাড়ি করে ফেলল। তার মাহফিলে মহিলা গিয়ে জমা হতে লাগল। কোথাও তো মহিলা – পুরুষ একই প্যান্ডেলে। আর সাথে সাথে সমালোচনার জোয়ার বয়ে গেল আজহারী সাহেবের উপর দিয়ে। তাছাড়া আজহারী সাহেব নিজের এত্ত পরিমাণ জনপ্রিয়তা দেখে তিনি কিছু কিছু বিষয়ে বিতর্কিত মাসায়েল উপস্হাপন করা শুরু করলেন। তাতে পুরো দেশের সচেতন নাগরিক সেটা কিন্তু আর ভাল চোখে দেখল না। এরপরে কি ঘটল, সেটা আমাদের সকলের জানা।




আমাদের মাওলানা মামুনুল হক সাহেব নিঃসন্দেহে তিনি যোগ্য আলেম। বিশেষ করে তাঁর মহান পিতা ছিলেন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। যিনি বাংলাদেশসহ দেশের বাহিরে খ্যাতি ছড়িয়ে ছিলেন। তাছাড়া দীর্ঘ ষাট বছর যাবতকাল বুখারী শরীফের দরস দিয়ে ছিলেন শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ,। তাঁর খ্যাতি ছিল বিশ্বময়। সেই খ্যাতিমান ব্যক্তির সন্তান হলেন মামুনুল হক সাহেব।
কথায় বলে, কিছু কাটে ধারে, আর কিছু কাটে ভারে। কিন্তু মামুনুল হক সাহেব উভয় দিক থেকে তিনি। তাঁর যোগ্যতাও আছে, আবার তাঁর ভারও আছে। তিনি শায়খুল হাদীসের সন্তান। সে হিসেবে তাঁর ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা। তাঁর যোগ্যতার বলেও, আবার পিতার ওয়েটের কারণে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে আমরা তাঁকে বলছি, শায়েখ ইবনে শায়েখ।




কিন্তু মুশকিলের বিষয় হল, এই আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা যেন তাঁকে কোন বেকায়দায় না ফেলে দেয়। যেটা এখন বিজ্ঞ মহল আশংকা করছেন। তিনি তো ঠিকই ষ্টেজে জ্বালাময়ী বয়ান দিচ্ছেন। কিন্তু অতিউৎসাহী ভক্তরা যাচ্ছে কোন দিকে? তারা তো মামুন সাহেবকে বিতর্কিত না করে ফেলে।
কেননা, এসকল ভক্তদের তো কোন ঠিকানা নেই। সম্পুর্ণ ঠিকানা বিহীন। এরা কোথায় গিয়ে কি করে তার কোন ইয়ত্তা নেই। ভক্তির ঠেলায় অপকর্ম করে বসল, শেষমেষ তাঁকে আজহারীর মত বেকায়দায় ফেলে না দেয়।




এজন্য হুঁশিয়ার হওয়া দরকার মামুন সাহেবের। কয়েকটা বিষয়ে আপনার লক্ষ্য রেখে সামনে চলা উচিত।
১/ কথা- বার্তা এখন আগের মত আক্রমানাত্মক ভঙ্গিতে না বলে সাবলিল ভাষা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যদি এটা গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে হয়ত কিছুটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তখন সুবিধাবাদীরা সুযোগ পাবেনা।
২/ মামুন সাহেবের সংগঠন মজবুত করা প্রয়োজন। যাতে তিনি যেখানে যাবেন, নিজের সংগঠনের লোকেরা তাঁকে সাহায্য করতে পারে। নিজের সংগঠন এবং ভিন্ন লোকদের নিরাপত্তা আকাশ- পাতাল ব্যবধান। তাই নিজস্ব লোক তৈরী করুন।
৪/ যেখানে তিনি যাবেন, সেখানকার কর্তৃপক্ষ শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। নচেৎ এত্ত বড় প্রোগ্রাম যে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা।
৫/ এখন থেকে ওয়াজের দাওয়াত সাংগঠনিক ভাবে নিলে ভাল হয়। যে কেউ দাওয়াত দিলে সেখানকার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করা উচিত।
সাঈদী সাহেব যখন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছিলেন,তখন তিনি সাংগঠনিক ভাবে দাওয়াত নিতেন।সংগঠনের লোকেরা তাঁকে বিশাল নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে রাখত। সংগঠনের বাইরে তিনি যান নি।




মুফতী রেজাউল করীম এবং মুফতী ফয়জুল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) তারা কিন্তু সাংগঠনিক ভাবে দাওয়াত নিয়ে থাকেন। এবং তাঁর কর্মিরা তাঁকে নিজস্ব বিশাল বাহিনী নিয়ে ময়দানে সহযোগিতা করে থাকে।
চরমোনাইওয়ালাদের নিরাপত্তা দেখলে অবাক হতে হয়। আমার মনেহয়,বাংলাদেশে এমন মজবুত সংগঠন আর নেই, যারা নিজের নেতাকে এমন নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে রাখতে পারে।কোথাও তাদের প্রোগ্রাম হলে, খুবই সতর্ক থাকে। মিছিলের গজে গজে তাদের নিজস্ব কর্মি নিয়োগ করতে দেখা যায়।কেউ সংগঠনের বাইরে যাতে অন্য কোন স্লোগান না দিতে পারে,সেটার প্রতি খেয়াল রাখা হয়।




বিগত ফ্রান্স সরকার কর্তৃক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবমাননার বিরুদ্ধে যখন রাজপথে মিছিল হয়েছিল, একজন সংগঠনের বাইরের স্লোগান দেওয়ার সাথে সাথে কর্মিরা তাকে পাকড়াও করেছিল। মানে চরমোনাইওয়ালাদের প্রতিটা প্রোগ্রাম তারা অনেক সতর্কতার সাথে করে থাকে।
আল্লাহ তায়ালা হেফাজতকারী। তবে সব সময় তারা এলার্ট থাকে। যাতে কোন দুস্কৃতিকারী অঘটন ঘটাতে না পারে।




এজন্য মামুনুল হক সাহেবের সংগঠন মজবুত করা খুবই জরুরী। পুরো ৬৪ জিলায় আপনার নিজস্ব লোক থাকতে হবে। তাহলে আপনার জন্য মঙ্গল। তখন কিন্তু ঐ অতিউৎসাহীরা পলায়ন করবে। এখন আপনার সংগঠন নেই দেখে ওরা মাতবরী করে যাচ্ছে। আর আপনার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে। জায়গায় জায়গায় বিভিন্ন মাহফিলে সেখানকার আয়োজকদের হাতে কর্তৃত্ব থাকছে না। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কোথাও তো আপনার মত মানুষের নিজেকে স্বেচ্ছাসেবকের ভুমিকা পালন করতে হচ্ছে। যেটা নিয়ে আবার কিছু লোক সমালোচনার সুযোগও পায়।




সুতরাং অতিভক্তি,অতিউৎসাহী কোনটা কিন্তু ভাল নয়। আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা এটা অবশ্যই আমাদের ওলামায়ে দেওবন্দের অহংকার । কিন্তু তাঁর এই জনপ্রিয়তার মাঝে মীর জাফরগণ যেন প্রবেশ না করতে পারে। কেননা, ওরা দেওবন্দী আলেমদের জনপ্রিয়তা কোনদিন সহ্য করেনি। বরং কিভাবে বেকায়দায় ফেলা যায় সেই চেষ্টা করেছে। আমরা তাই অতিভক্তি লোকদের থেকে যেন আপনি হেফাজতে থাকেন। আপনার প্রোগ্রাগুলো যেন ভিন্ন কারো হাতে চলে না যাক। এই কামনা করি।
আল্লাহ সকলকে হেফাজত করুন। আমিন।

( শিক্ষক ও কলামিষ্ট)

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR