1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ১২:৪৮ অপরাহ্ন

আমার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের কথামালা

লুৎফর রহমান রিটন
  • প্রকাশটাইম: বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১

প্রিয় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ এবং প্রিয় বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের মুহূর্তগুলো উপভোগ করেছি দশদিনব্যাপী, প্রাণ ভরে। নাচে-গানে-আবৃত্তি-অভিনয়ে-বাদ্য-বাজনায়-পোশাকে-আশাকে এবং আতশবাজীর ছন্দ-রিদমে ম্যাজিকেল মুহূর্তগুলো অদ্ভুৎ একটা শিহরণ বইয়ে দিয়েছে আমার শরীরে ও মনে। বুকে আর করোটিতে।


দশম দিনের সমাপ্তি অধিবেশনে ইন্সট্রুমেন্টাল সেগমেন্টে আমাদের চৌকশ মিউজিশিয়ানরা যে অপরূপ সুরলহরী নির্মাণ করেছিলেন তার ছন্দ-দ্যোতনায় দুর্দান্ত এক ঢেউ বয়ে গিয়েছিলো আমার রক্ত কণিকায়। তবে এই আয়োজনে ফ্লুট বা বাঁশির একটা পিস খুব জরুরি ছিলো। বাঁশির অভাব খুব অনুভব করেছে আমার শ্রুতি। জাতিরজনককে নিয়ে আমার খুব প্রিয় সুরস্রষ্টা অস্কারজয়ী এ আর রহমানের গাওয়া চমৎকার গানটা, যেটা লিখেছে জুলফিকার রাসেল, যার গায়কী সুর ও সঙ্গীতায়োজন আমাকে নিয়ে গিয়েছিলো ভালোলাগার সর্বোচ্চ তুঙ্গে। রহমান আসেননি, কিন্তু তাঁর অডিওটা বেজেছে দুর্দান্ত দাপটে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অন্য ভাষায় অসাধারণ একটা গান আমাদের য়্যাসেট হলো।


পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর গান এবং মমতা শঙ্করের দলীয় নৃত্যালেখ্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।
দশ দিনের পরিবেশনায় বাংলাদেশের সিনিয়র শিল্পীদের মধ্যে আমার মন জয় করে নিয়েছে রফিকুল আলমের গাওয়া অনবদ্য নজরুল সঙ্গীত–‘জাগো অনশন বন্দী ওঠোরে যতো/জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত’। এই গানটির সঙ্গে একঝাঁক সহশিল্পীর কয়্যার-সিম্ফনি গানটিতে যুক্ত করেছে অনন্য এক মাত্রা। গানটির সঙ্গে যন্ত্রানুষঙ্গের ব্যবহারও ছিলো অসাধারণ!


নতুন প্রজন্মের শিশুকিশোরদের পরিবেশনাগুলো প্রাণিত করেছে আমাকে। ওরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে, জাতির জনকের জন্মশতবর্ষকে অনিঃশেষ পথে।


শেষদিনে প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠান স্থলে মূল অতিথি হিশেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর পরনের মুজিবপোশাক–শাদা পায়জামা পাঞ্জাবির সঙ্গে হাফস্লিভ কালো মুজিবকোট দেখে আনন্দ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানাতেই তিনি পরেছেন এই বিশেষ পোশাকটি। ধন্যবাদ তাঁকে।


বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদি আসবেন বাংলাদেশে, এই খবর প্রচারিত হবার পর কিছু প্রতিবাদও দেখেছি। তারা মোদিকে আসতে দেবে না। কিন্তু তাদের কে বোঝাবে নরেন্দ্র মোদি কারো ফুপাতো ভাই বা খালু শশুর নয় যার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে নিজের গ্রামে তাকে ঢুকতে দেবো না!



ভাইরে নরেন্দ্র মোদি একজন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে ভারত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলো অনন্য বন্ধুর মতো। অতন্দ্র প্রহরীর মতো। এবং তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি হিশেবে আমন্ত্রিত হয়েই এসেছেন!




মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রনিং, অস্ত্রশস্ত্রের যোগান, আকাশপথে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনির ওপর সময়োচিত হামলা ইত্যাকার বিষয়গুলো না হয় বাদ দিলাম। হানাদারদের বুলেট থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের এক কোটি অসহায় বাঙালি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলো ভারতের মাটিতে। সেই এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়ে, খাবার দিয়ে, বস্ত্র দিয়ে, চিকিৎসা দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিলো ভারত। শরনার্থী শিবিরে থাকা এক কোটি লোকের জন্যে প্রতিদিন মাথাপিছু দশ রুপী খরচ হলেও কিন্তু টানা নয় মাসে যে পরিমান টাকা ব্যয় হয়েছে সেই হিশেবটা বা অঙ্কটা আমার ক্যালকুলেটরের ধারণ ক্ষমতার বাইরে।




বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যরাও রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন। অন্য আরেকটি দেশের স্বাধীনতার জন্যে জীবন উৎসর্গ করা সেইসব শহিদের আত্মত্যাগ আমরা বিস্মৃত হই কী করে!
আমাদের স্বাধীনতার জন্যে যে দেশ ও দেশের মানুষদের এতো বিশাল অবদান সেই দেশ ও দেশের মানুষদের আমরা সম্মান প্রদর্শন করবো না?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে সেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাবে না বাংলাদেশ?
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানালে হয়তো এরা খুশি হতেন। কিন্তু সেটা কি খুব শোভন হতো? তিরিশ লক্ষ বাঙালির ঘাতকদেশের পক্ষে সেটা কি খুব স্বস্তি বা আনন্দের হতো?

০২
ভাগ্যিস এই সময়টায় রাষ্ট্রক্ষমতায় আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা অধিষ্ঠিত ছিলেন। নইলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষটা কী রকম হতো? ভাবা যায়?
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীটা কী রকম হতো? ভাবা যায়?

একদা ইতিহাস থেকে যারা মুছে ফেলতে চেয়েছিলো বঙ্গবন্ধুকে, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের (পরবর্তীকালে যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে) যারা মন্ত্রীর আসনে বসিয়েছিলো এই বাংলাদেশে, তাদের কেমন লেগেছে জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজগুলো?

ইতিহাস এভাবেই শোধ নেয়।
এবং ইতিহাসের শিক্ষাটা এই যে–ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না…

লেখক:জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR