1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

মজলুম জননেতা মুফতী ওয়াক্কাস রহ.

মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমি
  • প্রকাশটাইম: শনিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২১

মুফতী ওয়াক্কাস সাহেবের একটা ছবি দেখে অন্তরটা কেঁপে উঠল। আহ, কত মোজাহাদা তিনি করেছেন। এদেশ ও জাতির জন্য তিনি জান- কোরবান করেছিলেন। কারার অন্ধকার প্রকষ্ঠে তাঁকে বহুদিন থাকতে হয়েছিল। অমানসিক কষ্ট তিনি ভোগ করেছিলেন। তারপরেও তিনি হক- হক্কানিয়্যাতের উপরে ছিলেন অটল- অবিচল।



বিশেষ করে তাঁর সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জন্য তিনি যেন জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। জমিয়তের দুঃসময়ে তিনি হাল ধরেছিলেন।রাজধানী ঢাকা থেকে তিনশত কিলোমিটার দূর থেকে ঢাকায় এসে সংগঠনের মহাসচিবের দায়িত্ব তিনি পালন করেছিলেন। সেই নব্বই দশকের কথা। যখন জমিয়ত মানে মুজাহিদে মিল্লাত শামসুদ্দীন কাসেমী রহ. আর মুফতী ওয়াক্কাসকে বোঝা যেত। সেই সময়ে তাঁর ছিল সীমাহীন কোরবানী।

মুফতী ওয়াক্কাস যখন জেলখানায় তখন তো তিনি অসুস্থ। বাইপাস সার্জারী করা ছিল। এই বাইপাস সার্জারীর সময় তো তাঁর উপর বিশাল এক ঝড় বইছিল। তারপর আবার জেলখানায় থাকলেন। কত অসহায়ত্বের মধ্যে ছিলেন তিনি। এরপরেও তিনি কিন্তু কখনো অসত্যের কাছে মাথানত করেন নি।


তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, ঢাকাতে তাঁর কোন বাড়ী বা ফ্লাট এমনকি এক খণ্ড জমিও নেই। নিজস্ব কোন গাড়ি নেই। অথচ এবেচারা এক সময় মন্ত্রী ছিলেন, হুইপ ছিলেন। আবার তিনবারের এমপি। এত ক্ষমতা থাকার পরেও নিজের জন্য কিছুই করেন নি। নিজের পরিবারের জন্য অঢেল সম্পদ গড়ে যান নি। একদম ফ্রেশ মানুষ বলা যায় তাঁকে।


বড় আশ্চার্য লাগত, যার ঢাকাতে কোন থাকার জায়গা নেই।মাথা গোঁজার কোন ব্যবস্থা নেই, সেই মানুষটি জাতীয় পর্যায়ের নেতা ছিলেন। পুরো দেশকে কাঁপিয়ে তুলতেন। ঢাকার যে কোন প্রোগ্রাম,যে কোন কর্মসুচিতে তাঁকে সর্বাগ্রে পাওয়া যেত। এমন নয় তিনি নামকেওয়াস্তে ছিলেন। তিনি যেমন প্রথম সারির নেতা,পুরোদমে প্রথম সারির নেতার মত কাজগুলো করে গেছেন।




তিনি বেফাকের সহসভাপতি আবার আল হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়্যারম্যান ছিলেন। মানে বাংলাদেশের সেরা আলেমদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। আলেম সমাজে তাঁর ঈর্ষণীয় গ্রহণযোগ্যতা ছিল। পুরো বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সর্বস্তরের আলেমদের কাছে তাঁর বিশাল সন্মান এবং গ্রহণযোগ্যতা ছিল। বিগত বেফাকের কমিটি গঠনের সময় দেখা গেল আসলে তিনি আলেম সমাজের ছারে তাজ ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা পালন করেছিলেন মুফতী ওয়াক্কাস সাহেব। যেটা তাঁরমত মানুষের দ্বারা সেই মহান কাজটি সুষ্ঠু ভাবে করা সম্ভব হয়েছিল।




মুফতী ওয়াক্কাস সাহেব অত্যন্ত বিনয়ী আখলকের মানুষ ছিলেন। আকাবির- আছলাফের বাস্তব নমুনা তাঁর মধ্যে পাওয়া যেত। যে কোন ব্যাপারে অনেক ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিতেন। তিনি নিজেদের লোকদ্বারা বহু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু বিচলিত হননি। কাউকে নাঙা করেন নি। বরং সবর করেছিলেন।

বেশ কয়েকবছর আগে একবার আমাদের মাদ্রাসায় তাশরীফ এনেছিলেন মুফতী ওয়াক্কাস সাহেব। সেসময় নিজেদের মধ্যে অনেক ভুল বোঝাবুঝি চলছিল। একটানা চারঘণ্টা তিনি আমাদের মাদ্রাসার দফতরে ছিলেন। আমি তাঁর সামনেই বসা ছিলাম, কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কারো ব্যাপারে কোন অভিযোগ আমার সামনে করেছিলেন না। বরং সকলের ব্যাপারে প্রশংসাই করেছিলেন তিনি। তাঁর এমন আখলাক দেখে অবাক হয়েছিলাম সেদিন।




অনেকবছর আগে জমিয়তের কেন্দ্রীয় কমিটির একটা মিটিংএ বসার সৌভাগ্য হয়েছিল। অনেক পিছনে বসে বসে সব শুনছিলাম। অনেকে তাঁর সম্পর্কে কত অভিযোগ উত্থাপন করছিল। সব অভিযোগের জওয়াব ছিল তাঁর হাসিমুখে। অনেক সময় অভিযোগকারী গরম হলেও তিনি কখনো গরম হন নি। বরং অনেক নরম মেজাজে সমাধা করতে দেখলাম।




আসলে নেতার যে সব গুণাবলী থাকার দরকার, সবই পাওয়া যেত তাঁর মধ্যে। একজন বেমেছাল লিডার বলা যায় তাঁকে। স্বজাতি ভাইদের দ্বারা কোণঠাসা হয়েছেন বহুবার। কিন্তু তিনি হাহুতাশ করেন নি। নিজের কাজ করে গেছেন।

আজকের এই সময়ে বারবার স্মরণ হয় সেই মজলুম নেতা মুফতী ওয়াক্কাস সাহেবকে। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য ফরিয়াদ করি, তিনি যেন জান্নাতে সুউচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR