1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

একজন আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তির সোহবতে

মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমি
  • প্রকাশটাইম: বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১

কয়েকদিন ধরে মনটা ভাল না। বিশেষ করে সোনারগাঁয়ের ঘটনার পরে মানসিক অবস্থা বেশী খারাপ। কোন কিছুতে মন বসে না। মনেহয় শরীরের শক্তি হারিয়ে ফেলেছি।হাত- পা গুলো যেন স্লথ হয়ে আসছে। কাউকে কিছু বলতে পারছি না। বোঝাতেও পারছি না।

আমার মত এরকম অনেক মানুষের এমন অবস্থা। বিশেষ করে যারা আলেম এবং সম্ভাবনাময়ী আলেমদের মনদিয়ে ভালবাসত,তারা যেন একদম ভেঙ্গে পড়েছে। তারা বলছে, এটা কেমন হল? যাদের দিয়ে আমরা ভূত ছাড়াব, তাদের উপরে দেখি ভূত সওয়ার হয়ে বসে আছে। এভাবে নানান চিন্তায় মনটা বিষণ্ণ হয়ে আছে সবার। কেউ যেন স্বস্তিতে নেই।

যাইহোক, গতকাল এই ভাঙ্গা মন নিয়ে হাজির হলাম একজন আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তির কাছে। যিনি সুলুকের লাইনে মেহনত করেন। একজন উচ্চ পর্যায়ের শায়েখ তিনি। আমাদের ফরিদপুর অঞ্চলে তিনি একটি মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস। বহু বছর ধরে বুখারী শরীফের দরস দিয়ে আসছেন। আমার জানামতে তিনি ছাত্র জীবন থেকে উত্তম আখলাকের মানুষ। সেই জীবনে যেরকম আখলাকে হাসানা ছিল, এখনো সেরকম।

সকাল বেলা রওয়ানা হয়ে জোহরের পুর্বেই হযরতের খেদমতে পৌঁছালাম। বাদ জোহর মসজিদে বসেই কথা হল। আবার বাদ আসর, বাদ মাগরিব এবং বাদ এশা। অনেক লম্বা টাইম কাটালাম তাঁর কাছে। অনেক অজানা বিষয় তাঁর কাছ থেকে জানা গেল।

বর্তমান অবস্থার আলোকে অনেক কথা বললেন। একজন শায়খুল হাদীসের এমন বিপর্যয়, যেটা পুরো দেশের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়।বহির্বিশ্বের বাংলা ভাষীদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে।
যিনি বুখারী শরীফের দরস দেন, যার কথায় লক্ষ মানুষ জমা হয়, তারপরেও সে মানুষটির এমন পদস্খলন ঘটল, বিষয়টি অনেক চিন্তার। অনেক ভাববার।

হযরত বলেন, আল্লাহ তায়ালা সীমা লঙ্ঘনকারীকে কখনো পছন্দ করেন না। মানুষ যখন বেপরোয়া ভাবে চলতে থাকে, প্রাথমিক অবস্থায় তাকে কিছুটা ছাড় দেন, কিন্তু উক্ত ব্যক্তি যদি বারবার সীমা লঙ্ঘন করতে থাকে, তখন আল্লাহ তায়ালা তার পদস্খলন ঘটায়ে দেন।

আরো বললেন, কারো সাথে বেয়াদবী করা ঠিক নয়। কেননা, বেয়াদব আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়।

তিনি তো বহু মানুষের সাথে বেয়াদবী করেছেন। অনেক বয়োজৈষ্ঠ আলেমকে কষ্ট দিয়েছেন। অনেক মুরুব্বী আলেমের শানে নির্জলা মিথ্যারোপ করেছেন। হাজারো মানুষকে নিয়ে একজন আল্লাহ ওয়ালা মানুষের বিরুদ্ধে রাজপথে ডাহা মিথ্যা ছড়িয়েছেন। উস্কানী দিয়েছেন তিনি। এমনকি নিজের আপন উস্তাদের সাথে বেয়াদবী করেছেন। যার ফল এখন তাকে ভোগ করতে হচ্ছে।

আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তির চোখের নজর অনেক মারাত্মক। কোন বুজুর্গ যদি কারো উপরে বদ নজর ফেলে দেয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তির হালাক হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

আরো সমস্যা হল, মানুষ এসব ঘটনাবলী থেকেও শিক্ষা নেয় না। দেখা যায়, একটা ঘটনা কে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আরো মিথ্যা বলে যান। এবং তার মিথ্যাকে ছাবেত করার জন্য অন্য মানুষকে মিথ্যা শিখিয়ে থাকেন। মিথ্যা বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। যেটা খুবই জঘন্য।

আমি উক্ত আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলাম, এই লাইনচ্যুত শাইখুল হাদীস সাহেবের জন্য কি মেসেজ আপনার পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, দেখুন! হাদীসের কিতাব পড়ানো সাধারণ কোন বিষয় নয়। কোন মিথ্যাবাদী থেকে হাদীসের সনদ নেওয়া যায় না। মিথ্যাবাদীর জন্য হাদীস পড়ানো নিষেধ। তার এখন কর্তব্য, কোন আল্লাহ ওয়ালা কামেল শখছিয়্যাতের কাছে গিয়ে নিজের আত্মার সংশোধন করানো। আপাতত অন্যান্য কাজ থেকে ফারেগ হয়ে তওবা – ইস্তেগফার করে কোন বুজুূর্গ ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকাকে প্রাধান্য দিতে হবে। এরপর আস্তে আস্তে তিনি অন্যান্য খেদমতে এগোলে ভাল হবে। নচেৎ তাঁর আবারও পদস্খলন ঘটার সম্ভবনা রয়েছে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR