1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৫:২৬ অপরাহ্ন

বর্তমান কওমি সংকট এবং উত্তরনের পথ

সৈয়দ মবনু
  • প্রকাশটাইম: শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

এক.
আলেম কেন, যেকোন মানুষের উপর যেকোন কেউ অন্যায়ভাবে জেল-জুলুম, নির্যাতন করুক তা আমাদের কাম্য হতে পারে না। বর্তমান সময়েও যাদেরকে গ্রেফতার বা জুলুম করা হচ্ছে তারা সবাই যে দোষি তা অবশ্যই নয়। নির্দোষদের জন্য আমাদের কষ্ট হচ্ছে। আমরা নিন্দা জানিয়ে তাদের মুক্তি কামনা করছি। তবে সাথে সাথে তাও মনে করি সবই হচ্ছে এক বুজুর্গের সাথে তাঁর মৃত্যুকালে একদলের বেয়াদবি এবং আরেক দলের বোবা শয়তানের মতো নিরবতা প্রদর্শনের কারণে। এটা আমার ধারণা এবং বিশ্বাস। কওমি মাদরাসাগুলোতে সম্মেলিতভাবে সেই ঘটনার জন্য তাওবাহ করতে হবে এবং মূল অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। নতুবা আসন্ন আজাব আরও মারাত্মক হয়ে দেখা দিবে।




দুই.
আমি আবেগি না হলেও মনে করি আবেগ থাকা ভালো। তবে অতি আবেগ ভালো নয়। বর্তমান কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে আবেগের প্লাবন চলছে। তা আগেও ছিলো। তবে আগে লাগাম ধরারও লোক ছিলো। কিন্তু এখন সবার মাথায় যেন একেকটি আবেগের অগ্নিগিরি। বিশেষ করে কিছু বক্তা সবসময় এই অতিআবেগ তরুন আলেমদেরকে বিতরণের চেষ্টা করেন, তা তাদের ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়। বাকীরা ওদেরকে অনুস্মরণ করেন। আমি তাদের নাম বলবো না। তবে মনে করি ওদের থামা প্রয়োজন কিংবা তাদেরকে যেকোভাবে থামাতে হবে। ওরা না-থামলে এদেশের কওমি মাদরাসাগুলোর শিক্ষা এবং আদবের পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়। ওদের উশৃংখলার জন্যই বর্তমানের এই পরিস্থিতি।


তিন.
কওমি মাদরাসার প্রিন্সিপাল বা মুহতামিমরা বর্তমানে খুবই সংকটে আছেন। ছাত্ররা এখন আর কমান্ডিং মানে না। যে কেউ উত্তেজনা এখন সৃস্টি করতে পারে ফেসবুক, ইউটুব, বা মোবাইলের মাধ্যমে। কর্তৃপক্ষ চাইলেও থামাতে পারেন না। হাটাজারীর ঘটনার পর প্রিন্সিপালরা বেয়াদবদের ভয়ে অনেক সময় মুখ বন্ধ রাখেন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামীতে কওমি মাদরাসাগুলো হয়ে যাবে বেয়াদব আর মাস্তানদের ঘাটি। অনেক মুহতামিমের বক্তব্য হলো, আমরা ভিক্ষা করে এনে তাদের খাওয়া-দাওয়া এবং লেখাপড়ার ব্যবস্থা করি আর তারা আমাদের সাথে অন্যদের ইশারায় করে বেয়াদবি। অনেকে মনে করেন মাদরাসাগুলোর প্রশাসনিক দূর্বলতার কারণে বিভিন্ন মাদরাসায় প্রচুর জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা প্রবেশ করে ঘাটি করে নিয়েছে। এগুলো খুঁজে বের করতে না পারলে কওমি মাদরাসাগুলোর পরিবেশ শান্ত করা সম্ভব হবে না। কওমির সাথে সম্পর্কিত দলগুলোর কিছুর অবস্থান জামায়াত-শিবিরের খুব নিকটতম হওয়ায় তারা এই সুযোগ বেশি বেশি পাচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। নতুবা সমস্যার সমাধান হবে না।




পাঁচ.
শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি রাজনীতি থেকে রক্ষা করতে হবে। মুহতামিম কেন্দ্রিকতা থেকে শিক্ষা বোর্ডকে সরিয়ে পরিচালনার জন্য পৃথক কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। বোর্ড কোন প্রকার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা না করে শুধু শিক্ষার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করতে হবে। একটা বোর্ডের মূল কাজ হবে সিলেবাস তৈরি, পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা, ফলাফল তৈরী এবং ঘোষণা, সাটিফিকেট প্রদান। প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে বোর্ড সরকারী প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে পারে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও বোর্ড করতে পারে। মোটকথা শিক্ষা কেন্দ্রিক কাজ করবে বোর্ড।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR