1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

মামুনুল হক থেকে এমডি আনভির : পল্টিবাজদের দ্বিমুখী চরিত্র

নাবিল আবদুল্লাহ
  • প্রকাশটাইম: বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১

দুইজন ব্যক্তি। একজন আপাদমস্তক মাওলানা। আরেকজন আগাগোড়া তথাকথিত আধুনিক শিক্ষিত। তবে দু’জনই দুই মহলে মান্যগণ্য এবং তুমুল পরিচিত। সামান্য আগে-পরে উভয়ের ক্ষেত্রে দুটি দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা দুটো যদিও এক নয়, তবে বিষয়বস্তু বিবেচনায় উভয় ঘটনা এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ উভয়টিই নারী সংক্রান্ত দুর্ঘটনা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও নির্মম সত্য হলো, ঘটনা দুটোর প্রতিক্রিয়ায় মিডিয়া, প্রশাসন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের চরিত্র ছিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং উল্টো। খুব বিশ্রী এবং বাজেভাবে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, উভয়ের ক্ষেত্রে তাদের পল্টিবাজি এবং দ্বিমুখী আচরণ ছিলো মারাত্মকরকমের সাংঘর্ষিক।

একজন নিরপরাধ মাওলানা তার বৈধ স্ত্রীকে নিয়ে হোটেল যাওয়াকে কেন্দ্র করে কেবল মিডিয়া আর প্রশাসন নয়, স্বয়ং গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র মিলে তাঁকে উলঙ্গ করে ছেড়েছিল। কুকুরের মতো তার পেছনে লেগে পড়েছিল। ক্ষমতাসীন দলের নিম্নশ্রেণীর কর্মী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ব্যক্তি পর্যন্ত তার সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি নিয়ে নাক গলিয়েছিল, টিটকারি-টিপ্পনী কেটেছিল, এবং সম্মিলিতভাবে তার চরিত্রের ওপর আঘাত করার অপচেষ্টা করেছিল। এমনকি সংসদে পর্যন্ত সেটি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু জণগণ তাদের এই সম্মিলিত ষড়যন্ত্রকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত করেছে। ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত করে সফল হতে না পেরে ক্ষোভ এবং জেদের বশবর্তী হয়ে শেষপর্যন্ত মামুনুল হককে তারা জেলে নিয়েছে এবং রিমান্ডে দিয়েছে।

তারচেয়ে আরো বেশি ভয়ঙ্কর এবং ন্যাক্কারজন কাণ্ড ঘটিয়েছে তথাকথিত সেই আধুনিক শিক্ষিত লোকটি। অবৈধভাবে একটি মেয়েকে দিনের পর দিন ভোগ করার পর শেষপর্যন্ত আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে তাকে। এবং মেয়েটি আত্মহত্যা করে মারা গিয়েছে। এতবড় জঘন্য একটি কাণ্ড ঘটানোর পরও সেই তারাই থ্রি সিক্সটি এঙ্গেলে পল্টি মেরে তার ব্যপারে সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এমন ভাব ধরেছে যেন তারা এমন কোন ঘটনা শুনেইনি। তাকে তারা চিনেই না। তার পরিচয় হলো, সে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি। ব্যস, তাতেই তার সাতখুন মাফ।

শুধু কি তাই? মিডিয়া, প্রশাসন এবং গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রসহ সবাই তাকে বাঁচানোর জন্য রীতিমত মরিয়া হয়ে ওঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ সকল এভিডেন্স মূহুর্তেই গায়েব করে ফেলেছে প্রশাসন। মেয়েটির আত্মহত্যার খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন রীতিমত ভাইরাল, নিরুপায় হয়ে মিডিয়া তখন দায়সারাভাবে দু’একটা নিউজ করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু কোন মিডিয়া সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিটির নাম বলা তো দূরের কথা বসুন্ধরা গ্রুপের নামটি পর্যন্ত বলার সাহস করতে পারেনি। যেন সবাই তার কাছে জিম্মি হয়ে তেছে। যেন সবাই তাদ সেবাদাসে পরিণত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গেলেই হয়তো নেমে আসতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন বিপদ। সেই ভয়ে চুপসে গেছে সবাই।

দুইজন ব্যক্তির দুটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিডিয়া, প্রশাসন এবং রাষ্ট্রযন্ত্র মিলে যেই দ্বিমুখী আচরণ দেখিয়েছে এবং যেই সাংঘর্ষিকপূর্ণ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, তা ছিলো রীতিমত ভয়ঙ্কর, আত্মঘাতী, অমানবিক, মানবতা বিরোধী এবং মারাত্মক রকমের বিদ্বেষমূলক। এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ইতিহাস হয়ে থাকবে। এই আচরণ জণগণ কখনোই ক্ষমা করবে না। এর পরিণতি একদিন না একদিন অবশ্যই তাদেরকে ভোগ করতে হবে। পরিশেষে নিম্নক্ত কথাটিই যেন চরম সত্য বলে প্রমাণিত হলো।

রাষ্ট্র যার বন্ধু হয় তাকে সে আশ্রয় দেয়,
রাষ্ট্র যার শত্রু হয় তাকে সে ফাঁসায় দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR