1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

মহিমান্বিত রজনী ‘লাইলাতুল কদর ‘

ওমর ইবনে আখতার
  • প্রকাশটাইম: সোমবার, ৩ মে, ২০২১

আরবি ভাষায় ‘লাইলাতু’ অর্থ রাত আর ‘কদর’ অর্থ হচ্ছে ভাগ্য, পরিমাপ, মর্যাদা। আর ‘লাইলাতুল কদর’ অর্থ হলো ভাগ্য রজনী। আরেক অর্থে সম্মানিত রাত। কারণ এরাতেই পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাযিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ কদর রজনীতে।’ (সূরা: কদর-১)।




ইসলাম ধর্মে রয়েছে এ রাতের মহা গুরুত্ব। এ রজনীর মর্যাদা অপরিসীম। এ রাতকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম অবিহিত করে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আপনি কি জানেন, মহিমাময় কদর রজনী কী? মহিমান্বিত কদর রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।’ (সূরা: কদর: ২-৩)।




আর বলা হয়ে থাকে এ রাতেই মানুষের আগামী এক বৎসরের যাবতীয় কর্ম মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করেন। এবং ফেরেশতাগণ শান্তির বার্তা নিয়ে ধারায় গমন করেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘এ রাতে ফেরেশতাগণ হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষা পর্যন্ত।’ (সূরা: কদর ৪-৫)।




হযরতে আয়েশা সিদ্দীকা (রাযি.) লাইলাতুল কদরে করণীয় সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জানতে চাইলেন,’হে আল্লাহর রাসূল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমি ওই রাতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন; তুমি বলবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন,তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (ইবনে মাজাহ)।




অপর এক হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রাযি.) বর্ণনা করেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,’ যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাত জেগে ইবাদত করবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারী)।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা এ রাতকে রেখেছেন অস্পষ্ট। যেন মুসলিম উম্মাহ রামাযানের শেষ দশদিন অধিক শ্রম করে বেশি বেশি ইবাদত করে। বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোয়। সেগুলো হলো ২১,২৩,২৫,২৭ও২৯ তারিখের রাত। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘রামাযানের শেষ দশের বেজোড় রাতগুলোতে তোমরা লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’ (বুখারী,মুসলিম)।




আর এ’তেকাফের অন্যতম উদ্দেশ্যেও এটাই, অর্থাৎ যে ব্যক্তি রামাযানের শেষ দশ দিন এ’তেকাফে বসবে, সে নিশ্চিতরূপে লাইলাতুল কদর পাবে।

আমরা এই মর্যাদাপূর্ণ রাতে   নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াত,  দরুদ এবং তাওবা-ইস্তিগফার অধিক পরিমাণে করতে পারি। পাশাপাশি তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার ইত্যাদি নফল ইবাদতসমূহ করতে পারি এবং নিজের জন্য, পিতা-মাতার জন্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সব মুমিন-মুসলমানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং মুসলিম জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করতে পারি!




এ রাতকে অস্পষ্ট রাখলেও হাদিস শরিফে এর কিছু আলামত বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন কদরের রজনী বেশি গরমও হবে না আবার বেশি ঠাণ্ডা ও হবে না। অর্থাৎ নাতিশীতোষ্ণ হবে এবং তা হবে উজ্জ্বল্য।
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। এ রাত হলো রামাযানের শেষ দশদিনের রাতগুলোয়। এ রাত হলো মুক্ত ও উজ্জ্বল, যা ঠাণ্ডাও না গরমও না।’ ( তিরমিযী)।




আরও বলা হয়েছে, লাইলাতুল কদর শেষে সকালের সূর্য আলোকরশ্মি ব্যতীত সাদা হয়ে উদিত হয়।
উবায় ইবনে কা’ব (রাযি.) -কে যখন লাইলাতুল কদরের আলামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন তিনি বলেছেন,‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নিদর্শনের কথা বলেছেন, তার দ্বারা আমরা লাইলাতুল কদর চিনতে পারি, অর্থাৎ ওইদিন সূর্যোদয় হয় রশ্মিবিহীন আকারে।’ ( ইবনে খুযায়মাহ)।




আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে লাইলাতুল কদরের পরিপূর্ণ হক আদায় করে লাইলাতুল কদরকে যথাসাধ্য মূল্যায়ন করার তাওফীক দান করুন! আমীন!

লেখক: শিক্ষার্থী, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা।
আতারা //

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR