1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

হাজ্জাজরাই কি শুধু জালেম হয়?

সৈয়দ মবনু
  • প্রকাশটাইম: সোমবার, ৩ মে, ২০২১

প্রখ্যাত তাবেয়ী হযরত সাঈদ বিন জুবায়ের (র.) হাজ্জাজ বিন ইউসুফের জুলুমের প্রতিবাদ করলে তাঁকে গ্রেফতার করে হাজ্জাজের সামনে আনা হয়। অতঃপর তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে হাজ্জাজ হযরত সাঈদ বিন জুবায়েরের সাহসী কথা শুনে অগ্নিশর্মা হয়ে জাল্লাদকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু অবাক ব্যাপার বন্দী মুচকি হাসছিলেন। হাজ্জাজ জানতে চাইলো, হে বন্দী তুমি হাসছ কেন? হযরত সাঈদ বিন জুবায়ের বললেন, আমি হাসলাম একজন মুসলমান হয়েও অন্য মুসলমানকে হত্যা করার তোমার দুঃসাহস এবং হিংসা দেখে। আর মহান আল্লাহর ধৈর্যশীলতা দেখে হাসলাম, যিনি তোমার মত জালেমের প্রতিশোধ নিতে বিলম্ব করছেন। একথা বলে হাসিমুখেই শাহাদাত বরণ করলেন।



সেদিন আমার এক বন্ধু যখন এই কাহিনি বলছিল তখন আমি ভাবছিলাম হাটাজারী মাদরাসায় তাণ্ডবের কথা। ভাবছিলাম জালেম হতে হলে কি শুধু হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কিংবা তার মতো রাজা-বাদশাহ হতে হবে? একজন বৃদ্ধ-জঈফ মানুষকে যখন একজন বা একাধিকজন মিলে বন্দি করে আঘাত করে সে কি জালেম হয় না? আহারে, হাটাজারী মাদরাসায় আল্লামা আহমদ শফি (র.)-কে বন্ধি করে তার জীবনের শেষের তিনদিন জালেমরা কি না জুলুম করেছে? চিন্তা করুন, একজন শতবর্ষী বৃদ্ধমানুষকে বন্দী করে রেখে তাঁর রোম ভাঙচুর, তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালগালি, তাঁর অক্সিজেনের পাইপ খুলে কষ্ট দেওয়া, তাঁর সামনে তাঁর নাতি ও খাদেমকে মারপিট করা এজন্য যাতে তিনি ভয় পেয়ে মাদরাসার দায়িত্ব ছেড়েদেন! অবশেষে তাঁকে মৃত্যুর দিকে টেলে দিলো জালেমরা। ওরা ছিল ছাত্ররূপী, স্টাইলে ছিল হিংস্র জংলিপনা। ওরা প্রকৃত ছাত্র হতে পারে না। ওরা অবশ্যই জালেম।



কিন্তু কি আশ্চর্য তখনও এই আল্লাহর ওলি ছিলেন দৃঢ়। জালেমদের প্রতিনিধি ছদ্মনামী উসামা মুহাম্মদ নিজেই স্বীকার করেছে মৃত্যুর মুখেও এই বয়োবৃদ্ধ বারবার বলছিলেন, তোমরা বলো আনাসের দোষ কী? তখনও তিনি ছিলেন দৃঢ়। আহারে, আকথ্যভাষায় গালি দিয়ে তাঁকে যখন মাদরাসা থেকে বের করা হয়, তাঁর সামনে তাঁর নাতিকে হত্যার হুমকি দিয়ে চরতাপ্পড় দেওয়া হয়, আমার মন বলছে তখনও তিনি দৃঢ় ছিলেন আর মনে মনে হাসছিলেন কিংবা চোখের জল ফেলে বলছিলেন, হে ছাত্ররূপী জালেমের দল আমি তোমরা ও তোমাদের ইন্ধনদাতা, পরামর্শদাতা ও অর্থদাতাদের যে ধ্বংস দেখছি যদি তোমরা তা দেখতে তবে আজ এই বেয়াদবিতে নিজেদেরকে জড়িত করতে না। কি আশ্চর্য, জালেমদের জুলুমের মুখোমুখি তিনি মাদরাসা ছাড়লেন না, ছেড়ে চলে গেলেন পৃথিবী। আর লাশ হয়ে আবার স্থায়ীভাবে মাদরাসায় চলে আসলেন। সেদিন জালেমদের মনে, বক্তব্যে উল্লাস ছিল। তাদের মদদদাতা মনে করেছিল কেউ বুঝবে না, কেউ জানবে না। তারা জানে না কিংবা জানলেও বিশ্বাস করে না যে আল্লাহ যে সব দেখেন এবং ন্যায় বিচার করেন। আজ গোটা জাতি জানে কারা জুলুম করেছে আল্লামা আহমদ শফির উপর এবং জুলুমে কে কোথায় থেকে ইন্ধন দিয়েছে, পরিকল্পনা তৈরি করেছে। অবশ্যই এই বেয়াদবরা, জালেমরা কওমি ঘরের ছাত্র হতে পারে না। ওরা ছাত্র সেজেছে কিংবা ওদের ভেতরে ছিলো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খুনিচক্র- একাত্তরে পরাজিত ঘাতক-দালালের প্রেতাত্মা। আল্লাহর বিধান হলো তিনি জালেমদেরকে ধীরে ধীরে ধরেন। কোথায় থেকে শুরু হয় তা আল্লাহ ভালো জানেন। রক্ষা নেই। তবে আল্লাহ তাওবাকারিকে অনেক সময় ক্ষমা করে দেন। যারা আল্লামা আহমদ শফির সাথে বেয়াদবি করেছেন সেদিন না বুঝে, কিংবা বেয়াদবিকে সমর্থন করেছেন না-বুঝে তাদের উচিত কাকুতির সাথে তাওবাহ করা। সম্ভব হলে তাঁর পরিবারের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়া। তাঁর কবর জিয়ারত করা। নতুবা আল্লাহ তাঁর ওলির সাথে বয়াদবি ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ জালেমদেরকে সময় দেন কিন্তু ছেড়েদেন না, শুধু তাওবাকারীর কথা ভিন্ন। স্মরণ রাখবেন, ওয়াহসি, হিন্দার মতো লোকদেরকেও আল্লাহ মাফ করে সাহাবির মর্যাদা দিয়েছেন। তবে তাওবাহ করতে হবে। আর তাওবার জন্য রামযানই উত্তম সময়। আসুন সবাই বেশি বেশি করে আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু.. পড়ি। নামাযের হালাতেও পড়তে পারি, এমনিও পড়তে পারি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওবাহ করার সুযোগ দিন এবং মাফ করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR