1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

সঙ্গিনী পর্ব-১

মনজুর সা'দ
  • প্রকাশটাইম: বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১

বড্ড ঘুম পাচ্ছে রিফাতের। বিছানায় হেলান দিয়ে বসে রিফাত বই পড়ছে। পড়ন্ত বিকেলের সূর্যটা পশ্চিম আকাশে ডলে পড়েছে। মৃদু বাতাসে জানালার পর্দা দোল খাচ্ছে। জানালা দিয়ে পাশের শিউলি গাছের ফুলের গন্ধ ভেসে আসছে। ফুলের গন্ধে ঘরটা ম ম করছে। রিফাত বইটি বিছানায় রেখে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে এক টুকরো আকাশ দেখতে লাগল। আকাশের বুকে সাদা মেঘের ভেলা বাতাসের সাথে বয়ে যাচ্ছে। সবকিছু যেন তুলার পাহাড় মনে হচ্ছে। রিফাতের মনে হলো,হাত বাড়ালেই সুনীল আকাশটাকে ছুঁয়ে দিতে পারবে।হাতের মুঠোয় ধরা দিবে।তার চায়ের তৃষ্ণা লেগেছে বেশ খানিক আগেই। আফিফা পাশে থাকলে বলার সাথে সাথেই চা রেডি করতো। এখন আফিফা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে। ওর পুরোনো অভ্যাস। মন খারাপ থাকলেও ছাদে থাকবে মন ভালো থাকলেও ছাদে থাকবে।’ ও’ বিকেলে ছাদে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। রিফাতেরও একই অবস্থা। রিফাত দু’কাপ চা বানিয়ে সিঁড়ি ভেঙে ছাদে উঠল। ছাদের কার্ণিশে দাঁড়িয়ে আছে আফিফা। রিফাত ছাদের দরজা ভেজিয়ে দিয়ে পা টিপে টিপে আফিফার পাশে এসে দাঁড়াল।



রিফাত  আর আফিফার বিয়ে হয়েছে মাস তিনেক হবে। বিয়ের আগে সে আফিফাকে চিনতোই না। তাদের বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছে। এখন একজন আরেক জনকে প্রচন্ড ভালোবাসে। দু’জনেই ভার্সিটিতে পড়ে। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে রান্না কাজে সাহায্য করে রিফাত। কখনো অফিফার শরীর খারাপ হলে রিফাত নিজেই রান্না করে। সে খুব ভালো রান্না করতে পারে।রান্নার ব্যাপারে বেশ পটু। তারা দু’জন এক সাথেই বাসা থেকে বের হয়। কখনো রিকশায় যায় আবার কখনো হেঁটে হেঁটেই চলে যায় ভার্সিটির চত্বরে।





ইদানিং কিছু ছেলে রিফাতকে এভাবে দেখে কিছুতেই মানতে পারে না। তারা ভাবে রিফাত তো ভালো ছেলে।সে আবার কোনো মেয়ের পাল্লায় পড়ল নাকি?

তারা রিফাতকে আড় চোখে দেখে। রিফাত ব্যাপারটা আঁচ করতে পারে।তাই ভাবল, তাদেরকে একসময় বুঝিয়ে বলবে। কিন্তু

হাতে সময়-ই নেই । ভার্সিটি থেকে বাসা, বাসা থেকে টিউশনি করতে করতেই সময় পার হয়ে যায়। বন্ধু বান্ধবদেরকেও সময় দিতে পারে না এখন।রিফাত আফিফার সময় বেশ ভালোই কাটছে।বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর।রিফাত-আফিফার সময় বেশ ভালোই কাটছে।মন্দ না।


রিফাত চা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আফিফা দূরের ঐ সূর্যটাকে দেখছে। নিভু নিভু করছে। একটুপর ডুবে যাবে। সূর্যের মাঝ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে ডানা মেলে পাখিগুলো।তারা ব্যস্ত,খুব  ব্যস্ত! নীড়ে ফিরে বাচ্চাদের খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিবে।আচ্ছা, বাচ্চা পাখিদের চোখে ঘুম না আসলে ওদের মা ওদেরকে কিভাবে ঘুম পাড়ায়?তারা কি আমাদের মতো সুন্দর সুন্দর ছড়া জানে?



‘ঘুমপাড়ানি মাসি-পিসি 

মোদের বাড়ি এসো, 

খাট নাই পালঙ্ক নাই 

খোকার চোখে বসো।

 বাচ্চাগুলো তাদের মায়ের আগমনের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছে।কখন আসবে মা!?




আফিফার ভাবনায় বিঘাত ঘটলো রিফাতে ডাকে।

___তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছো? আর আমি তোমাকে সারাবাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজে এলাম।

___দুঃখিত, তোমাকে বলে আসি নি। কারণ, তুমি বই পড়ছিলে।

__ ‘ও আচ্ছা।’

__ধরো, চা নাও। চা’টা কিন্তু আমি নিজের হাতেই বানিয়েছি।

আফিফা এক চুমুক দিয়ে বলল,বাহ!বেশ তো!খুব ভালো হয়েছে।কিন্তু…

চা পাতিটা একটু বোধহয় বেশিই পড়েছে। তাই তেঁতো তেঁতো লাগছে। এ কথা শুনার সাথে সাথে রিফাতের গরম চা ছলকে পড়ল। জিহ্বাটাও একটু পুড়ে গেল।

সূর্যের আলো আর নেই। চারিদিকে অন্ধকার। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বৈরী বাতাসের সাথে খুনসুটি করতে করতে দু’য়েক ফোঁটা বৃষ্টিও পড়ছে। 

দুষ্ট বৃষ্টির কয়েক ফোঁটা আফিফার গালে টপকে পড়ল।রিফাত বৃষ্টির কান্ড দেখে তার সঙ্গিনীর মুখের দিকে তাকিয়ে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলো___



 ‘ওগো শাহেরজাদী,

ঘুম ভাঙলে এসো কাঠগোলাপ নিতে,

দুয়ারে বৃষ্টিরা অপেক্ষা করছে।তোমায় ভিজিয়ে দিতে!’

আফিফা কবিতা শুনে একগাল হেসে রিফাতের পেটে খুঁচা মেরে বলল,’থাক।ভেজা লাগবে না। পাছে ঠান্ডা লেগে যাবে।হিহিহি।

ভোর। আফিফার ঘুম ভেঙে গেছে  খানিক আগেই। রিফাত কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে।

আফিফা বিছানা থেকে উঠার সময় বেশ কয়েকবার ডেকে গেছে কিন্তু রিফাত উঠে নি। ঘুম ঘুম চোখে বলেছিল,উঁহু, উঁহু, ডিস্টার্ব করো না প্লিজ। গতকাল রাতে কিন্তু একদমই ঘুমোতে দাও নি। আফিফা মুখ ভেংচি কেটে বলল,’ য়ে-হ হয়েছে হয়েছে।কে কাকে ঘুমোতে দেয় নাই জানা আছে!

নাস্তার টেবিলে বসে আছে রিফাত। মনটা ভীষণ খারাপ। শেষ রাতে কী অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখল। নাহ, বার বার স্বপ্নটা ভুলবার চেষ্টা করছে কিন্তু..!

আফিফা বলে উঠল, এই, হয়েছে কি তোমার?  বলো তো। সকাল থেকে কেমন যেন বিমর্ষ দেখাচ্ছে!

নাহ, তেমন কিছু না। তবে..!

আফিফা পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলল,তবে মানে..!? 

 গ্রামের বাড়িতে যাওয়া জন্য মনটা ক্যামন যেন ছটফট করছে।

___ চলো।আজ রাতের বাসে চলে যাই।

__ হুম। তোমার ইচ্ছে।

 রিফাতের মন ভালো হয়ে গেল। সে ভেবেছিল আফিফা হয়তো বিভিন্ন অজুহাত দাঁড় করাবে। যেতে চাইবে না। রিফাত আফিফার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বলল,তাহলে টিকেট কেটে নিয়ে আসি ক্যামন?

রাত ১২টা। বাস চলছে।সিলেটের উদ্দেশ্য। যেতে যেতে ভোর ৪টা বেজে যাবে।খুব শীত শীত লাগছে। 

জানালার পাশে বসেছে আফিফা। এখনো শহরের মানুষের চোখে ঘুম নেই। সোডিয়াম লাইটের হলুদ আলোয় পুরো রাস্তা হলদে লাগছে। রাস্তার মানুষগুলোকে হলদে হলদে  লাগছে।আফিফার একটি অদ্ভুত অভ্যাস আছে। গাড়ির জানালা পথে তাকিয়ে তাকিয়ে হরেক রকমের সাইনবোর্ড দেখা ও পড়া।রিফাত আফিফাকে বলল,’এই শুনছো?

আফিফা ঐদিকে তাকিয়েই বললো,’হুম।’

___আমার না খুব খিদে পেয়েছে।

__হুম লাগবেই তো। এতো করে বললাম, কিছু খেয়ে নাও। তুমি কি শুনলে সে কথা!

  ___আফিফা। হুম  আর হবে না। 

___আচ্ছা আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।’

মিনিট পাঁচেক পর..!

___কি ঘুমিয়েছো?

___উঁহু।

__আচ্ছা দাঁড়াও। 

সে ব্যাগ থেকে পানি আর একটি বাটি বের করল।রিফাত ভ্রুকুঁচকে বলল,’বাটির ভিতরে কি জানেমান?’

__হুম  বলছি তো।আগে বাটি খোলে দ্যাখো।

বাটি খোলে হতভম্ব! আরে তুমি নূডলস কখন বানালে। আমি তো দেখলাম-ই না।

 আফিফা মুচকি হেসে বললো,সন্ধ্যার পর।

 রিফাত খুউব খুশি হল।রিফাত নুডলস মুখে পুরছে আর আফিফার দিকে তাকিয়ে বলছে, সত্যি! অসাধারণ একটি মেয়ে! এমন মেয়ের ‘জীবন সঙ্গী’ হওয়াও তো ভাগ্যের ব্যাপার!

চলবে…

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR