1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ১০:৩৬ অপরাহ্ন

তালেবে এলেমের স্বপ্নপূরণ

মনজুর সা'দ
  • প্রকাশটাইম: শনিবার, ৮ মে, ২০২১

মুহাম্মদ। বয়স ছয় কি সাত। কচি বয়স কচি মন। শীতের সকালে আমপারা হাতে নিয়ে কচি কচি পায়ে হেঁটে পাড়ার ছেলে মেয়েদের সাথে মক্তবে যায়। পিতা আলতাফ হোসেন। বয়স প্রায় ৬০ বছর। আলতাফ হোসেন তো একরকম আশা ছেড়েই দিয়েছিল। হয়তো আর বাচ্চা-কাচ্চা হবে না। বাবা ডাক আর কখনো শুনতে পাবে না। মুহাম্মদের মা মরিয়ম। বেচারি আশা ছাড়েন নি। ধৈর্য্য ধারণ করেছেন। শেষ রাতে নোনাজলে চোখ ভাসিয়ে ফরিয়াদ করে বলেছিলেন,
‘মাওলা গো! তুমি তো সবই পারো। আমার একটা সন্তান দান করো। আমি তাকে তোমার রাস্তায় দিয়ে দিবো। তাকে ইলমে নববীর জ্ঞান শিখাবো।’


আল্লাহ মরিয়মের ডাক শুনলেন। মরিয়ম আর আলতাফ হোসেনের কোল আলোকিত করে জন্ম হয় এক পুত্রসন্তানের। মা শখ করে ছেলের নাম রাখলেন ‘মুহাম্মদ’!

বাবা মুহাম্মদকে নিয়ে হাজার স্বপ্ন বুনে রেখেছিলেন। ছেলে ডাক্তার হবে বা ইঞ্জিনিয়ার হবে। দু’হাতে টাকা কামাবে। টাকার মধ্যেই যেন সুখ তার। মরিয়ম কতো বুঝিয়েছে তার স্বামীকে। কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। উল্টো আরো বলেছে,’তোমার ছেলে হুজুর হয়ে কী হবে শুনি!? হুজুররা কয়টা বেতন পায়, যা দিয়ে পুরো পরিবার চালাবে? তা ছাড়া আমাদের মুহাম্মদ তো দেখতে শুনতে খুব ভালো। ওকে মাদ্রাসায় না দিয়ে যদি স্কুলে পড়াতে পারি তাহলে দেখবে অনেক বড় কিছু হবে। দুনিয়ায় আর কদিনই বাচঁবো? ছেলেটার একটা গতি লাগিয়ে যাই!’




মরিয়ম অগ্নিশর্মা হয়ে বললেন,
‘নাহ্ আমি মুহাম্মদকে একজন আলেম বানাবো। তাহলে আমাদের দুনিয়াতেও শান্তি আখেরাতেও শান্তি। আর হুজুরদের তুমি খোঁটা দিচ্ছো, ওরা যেভাবে আরাম আয়েশে চলে, ওরকম ক’জন ধনী লোক চলতে পারে? তুমি কি কখনো দেখছো, কোনো হুজুর কারো কাছে হাত পেতে টাকা চাচ্ছে? তাঁরা তো কেবল আল্লাহর কাছেই আশা করে।’




এমন সময় মুহাম্মদ রুমে ঢুকে। মা বাবা ঝগড়া করছে। দেখে ওর মন খারাপ হয়ে যায়। ওর ঝগড়াঝাটি একদম পছন্দ না। ছেলেটা হয়েছে একদম অন্যরকম। অদ্ভুত মানুষ। কাউকে কোনো কষ্ট দেয় না। বড়দের যথেষ্ট সম্মান করে। আলতাফ হোসেন মুহাম্মদকে বললেন, তুই আগামীকাল আমার সাথে স্কুলে যাবি। আমি তোকে স্কুলে ভর্তি করে দিবো। মুহাম্মদ মায়ের আচঁল ধরে দাঁড়িয়ে বাবার কথাগুলো শুনছে। মুখে মুখে উত্তর দিবার কোনো সাহস ওর নেই। আজ সে বাবাকে সম্মানের সাথে বলছে,’জ্বি না আব্বু! আমি কখনো মাদ্রাসা থেকে স্কুলে যাবো না। আমার মাদ্রাসাতেই ভালো লাগে। তা ছাড়া আমাদের বড় হুজুর সেদিন মজলিস বলেছেন, তালেবে এলেমরা অনেক দামি মানুষ। ওরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে নূরের ফিরিশতারা তাঁদের পাখা বিছিয়ে দেয়। কবরের পাশে দিয়ে অতিক্রম করলে সেই কবরের আজাব দূর হয়ে যায়। এই সব কি স্কুলের ছাত্রের ব্যাপারে বলছেন? দরকার হলে আমি আম্মুকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাব। তবুও মাদ্রাসাতেই পড়ব।আমি আমার আম্মুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। আমি এ দেশের একজন হক্কানি আলেম হবো। এটাই আমার স্বপ্ন।’




মা মরিয়ম এইটুকুন বাচ্চার কথাশুনে অবাক হয়ে যাচ্ছেন। চোখে পানি চলে আসল তার। সত্যি আমার ছেলে একজন বড় কিছু হবে। মনে মনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন।
এক নিঃশ্বাসে এই কথাগুলো বলল মুহাম্মদ। আলতাফ হোসেন তাঁর স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার কারণেই আজ এ অবস্থা। আমার স্বপ্নগুলো ফানুসের মতো উড়ে যাচ্ছে। দেখি মা ছেলেকে কি বানাতে পারে! দেখা যাবে, কঠিন গলায় কথা গুলো বললেন আলতাফ হোসেন।

১২পর…! ঐ ছোট্ট শিশু আজ এদেশের বিখ্যাত আলেম।
তিনি তাঁর স্বপ্ন কে মরতে দেননি। প্রতিনিয়ত জ্ঞানের আলোয় সতেজ করেছেন। তাঁর বাবা এখন গর্ব করে বলে বেড়ায়, আমার ছেলে…! কিন্তু আজ তাঁর মা নেই। তিনি কবরে শুয়ে আছেন। হয়তো কবরে শুয়ে তাঁর স্বামী আলতাফ হোসেনকে বলছেন, দেখেছ আমার ছেলে কী…!

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR