1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ১১:২২ অপরাহ্ন

সঙ্গিনী পর্ব-২

মনজুর সা'দ
  • প্রকাশটাইম: সোমবার, ১০ মে, ২০২১

সূর্য বেশ খানিক আগেই উঠেছে। তবুও ঘাসের গায়ে শিশিরেরা লেপ্টে আছে। সূর্যের আলো বাসের কাঁচ ভেদ করে আফিফার ঘুম মাখা চোখে পড়ছে। সূর্যের আলোয় আফিফার ঘুম ভেঙে গেল । রিফাতের এখনো ঘুম ভাঙে নি।রিফাতকে ডাক দেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে ও থেমে গেল।


___ নাহ্ থাক,বেচারা একটু ঘুমাক।

বাস চলছে পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে। আফিফার মনে হচ্ছে দূরের বিশাল পাহাড়ের চূড়ায় যেন সূর্য আটকে আছে । বাসের সাথে সাথে পাহাড়গুলোও চলছে।

সকাল ৯টা। রিফাত আফিফা হেঁটে হেঁটে আসছে। গ্রামের মেঠোপথ এর আগে কখনো আফিফা দেখে নি। এরকম সুন্দর গ্রাম। গ্রামের মৃদুমন্দ হাওয়া গায়ে লাগছে। বেশ ভালোই লাগছে ওর। দরজায় নক করলো রিফাত। একটু পর দরজা খুলে দিলো রিফাতের আম্মি। রিফাতকে দেখেই চমকে গেলেন।


___আরে তোরা কখন এলি?
একবার তো ফোন দিতে পারতি। তুই এখনো আগের মতো আছিস।

___ আসলে আম্মি একটুও খেয়াল ছিলো না।এই যে কানে ধরেছি।সামনে থেকে আর হবে না।

___হিহিহি। মনে থাকে যেন।
আহারে,আমার বউমা একেবারেই শুকিয়ে গেছে।

___তুই মনে হয় বউমাকে খুব জ্বালাস! তাড়াতাড়ি হাতমুখ ধুয়ে নাস্তার টেবিলে বস।

সূর্য বিকেলের রেশ টানছে। আফিফা বারান্দায় দাঁড়িয়ে সূর্যের চলে যাওয়া দেখছে। রক্তের লাল সাগর আসমানে ভেসে যাচ্ছে। পুরো পৃথিবী লাল রক্তে রক্তাক্ত হয়ে গেছে। রিফাত আফিফাকে দেখে ওর পাশে দাঁড়ায়। হাতে লাল গোলাপ।




আফিফা ঘাড় ভেঙে রিফাতের দিকে তাকিয়ে বললো, হুম বল।
___গোলাপটি তোমার জন্য।
__ওমা! এত্তো সুন্দর! এরকম তরতাজা গোলাপ তো শহরে খুঁজে পাওয়া কষ্টকর।

___ আমাদের ভালোবাসাও তো তরতাজা গোলাপের মতো।

____ হুম জানি। এজন্যই তো তোমাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি।
একটা কথা বলব?
___হুম।বলে ফেলো। এতো ন্যাকামি করার কী আছে!
___তোমার জন্য একটি কবিতা লিখেছি। বাহ্, ভালোই তো!
___ আবৃত্তি করো তো।
___উঁহু, তার আগে একটা শর্ত আছে!
___ যাহ্, দুষ্ট!
রিফাত ওর কথা শুনে হাসতে হাসতে আবৃত্তি
করতে লাগলো___

‘চাঁদবদন মুখটি আমি দেখে নি কভু
হৃদয়ের সব’কটা জানালা খুলে দিয়েছি তবু’

ছাদের কার্ণিশে দাঁড়িয়ে রিফাত চাঁদ দেখছে। চাঁদটার মতো সে ও আজ একা। চাঁদ তার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। চাঁদও যেন বুঝতে আর বাকি নেই। রিফাতকে একা দেখে হয়তো অভিমান করে বলছে,’এভাবে একা একা দাঁড়িয়ে আছো কেন? তোমার সঙ্গিনী কোথায়?



নীরব কান্না। চোখ অশ্রুসিক্ত। চাঁদটাকে ঝাপসা দেখা যাচ্ছে। ছাদটাকেও শূন্য শূন্য লাগছে। রিফাত ভাবতেই পারছে না আফিফার কথা। এভাবে হারিয়ে যাবে জীবন থেকে!সুখের সংসারে দুঃখ নেমে আসবে। দুঃখগুলো প্রতিনিয়ত তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। তার কথা ভাবতেই শরীর শিউরে ওঠে। চোখ থেকে অঝোরে জল নেমে আসে। কোনো বাঁধা মানে না। আফিফার সব স্মৃতি ভুলে যেতে চায় সে।কিন্তু…




এই তো ক’দিন আগে। ওরা দুজন এই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাদাম খাচ্ছিলো আর ঐ একফালি চাঁদ দেখছিলো। চাঁদ যেন তাদের জুটি দেখে মুচকি হাসছিলো। গল্পে গল্পে সময় স্রোতের মতো বয়ে যাচ্ছিল। রিফাত মাথা চুলকিয়ে আফিফাকে বলল,আচ্ছা তুমি ছাদে কী যেন বলতে এসেছিলে? বললে না তো?
হু , তোমার জন্য সুখবর আছে।বলতে লজ্জা লাগছে।
____লাজ্জার কী আছে!আমি কি অন্য কেউ?
___তুমি বাবা হতে যাচ্ছো !
সত্যি!



মুখ অন্য দিকে ফিরে লজ্জা মাখা হাসি দিয়ে বললো,’নাহ্ মিথ্যে!

রিফাত ওর রসিকতা শুনে আকাশ কাঁপিয়ে হাসতে লাগল।

চলবে…

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR