1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

স্থিতিশীল জীবনের জন্য নিজের কর্মগুলোতে জ্ঞান, বুদ্ধি, কর্ম, প্রেমের সমন্বয় প্রয়োজন

সৈয়দ মবনু
  • প্রকাশটাইম: সোমবার, ১০ মে, ২০২১

আমি বৃটেনে যখন গাড়ির ড্রাইভিং শিখি তখন আমার ড্রাইভিং টিচার বলেছিলো ব্রেকিং ডিস্টেন্স দু’হাত হলে থিনকিং ডিস্টেন্স পাঁচ হাত হতে হয়, নতুবা এক্সিডেন্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমি যেদিন অনুভব করলাম, জীবন একটা চলমান গাড়ি, সেদিন থেকে জীবনের বিভিন্ন কাজে এই থিওরিকে নিজের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ মনে করতে থাকি।


আমরা যে কাজই করি না কেন আমাদের প্রথমে বুঝতে হবে অসীম ক্ষমতা আর সসীম ক্ষমতার মধ্যকার ব্যবধান। আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ প্রথমে নিজের সম্পর্কে জানা। নিজের যোগ্যতা, ক্ষমতা, অবস্থান না বুঝে পা ফেললে পা আটকে যেতে পারে। একথা ব্যক্তি জীবন থেকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় প্রযোজ্য।


দয়াদর্শন এই বিষয়ে চিন্তা করে জ্ঞান, বুদ্ধি, কর্ম, প্রেমের সমন্বয়ের কথা বলেছে। এখানে প্রথমে জ্ঞান। আল্লাহও মানুষের কাছে প্রথমে ‘পড়’ দিয়ে কোরআনের বাণী প্রেরণ শুরু করেছেন। পৃথিবীর সব ধর্মই জ্ঞানকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। জ্ঞান ছাড়া মানবসমাজ সুস্থ থাকতে পারে না। জ্ঞান ছাড়া মানবসমাজ সুস্থভাবে চলতে পারে না। দয়াদর্শনে বলা হয়েছে জ্ঞান অর্জনের স্থান হলো মানুষ, প্রকৃতি আর বই। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হলো পাঁচ ইন্দ্র। জ্ঞানকে সঞ্চয় করার জায়গা হলো মস্তিষ্ক বা আত্মা। জ্ঞান বিতরণের মাধ্যম হলো মুখ আর কলম।
দয়াদর্শন জ্ঞানের পরে বুদ্ধির কথা বলে। বুদ্ধি জ্ঞানের দ্বিতীয় বা ব্যবহারিক স্থর। বুদ্ধি না হলে জ্ঞান অকার্যকর হয়ে যায়। জ্ঞান এবং বুদ্ধি অর্জনের পর দু’টাকে সমন্বয় করে কর্মের পরিকল্পনা করতে হয়। তাই কর্ম হলো দয়াদর্শনের তৃতীয় পর্যায়ে। কর্মের পরে হলো প্রেম। প্রেম হলো আবেগি বিষয় বা এসিড। আবেগ বা এসিড সঠিক পাত্রে না রাখলে তা যাকে স্পর্শ করে সে ধ্বংস হয়ে যায়। তাই প্রথমে জ্ঞান বুদ্ধি কর্মের সমন্বয়ে আবেগ বা এসিড ধারণের পাত্র তৈরি করতে হয়।



দয়াদর্শন বিশেষ কোন গ্রুপের মিশন নিয়ে চিন্তা করে না। দয়ার চিন্তা হলো মানুষের সমাজ, হোক সে যেকোন গোত্রের, যেকোন দেশের, যে কোন ভাষার, যেকোন ধর্মের। দয়াদর্শনের মূল চারনীতি যে কেউ গ্রহণ করে তার নিজের মতো করে ব্যবহার করে নিজকে কিংবা নিজের জাতি, ধর্ম, গোত্রকে উন্নত করতে পারবে, এগিয়ে নিতে পারবে।


আমরাও যদি আমাদের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দয়াদর্শনের এই চার নীতিকে কার্যকর করতে পারি তবে ইনশাআল্লাহ ব্রেকিং ডিস্টেন্স এবং থিনকিং ডিস্টেন্স বুঝে জীবন-গাড়ি চালিয়ে সফলতা অর্জন সম্ভব।


আসুন আমরা দয়াদর্শনের চিন্তা সম্পর্কে আরও জানি এবং সর্বক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR