1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

আমরা ন্যায় বিচার চাই এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চাই

সৈয়দ মবনু
  • প্রকাশটাইম: বৃহস্পতিবার, ২০ মে, ২০২১

স্বাধীনতারও একটা সীমারেখা আছে। আমি আমাকে যতটুকু স্বাধীন দেখতে চাই, যদি এতটুকু স্বাধীন হলে অন্যের স্বাধীনতা খর্ব হয় তবে তা স্বাধীনতা নয়, বরং স্বৈরতন্ত্র বা অনাধিকার চর্চা।




আপনি সাংবাদিক, আপনি বক্তা, আপনি রাজনীতিবিদ, আপনি সচিব, আপনি পুলিশ, আপনি মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী। আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করবেন। আপনাকে বাধাঁ প্রদান কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আপনার স্বাধীন-কর্ম যদি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রের মৌলিক স্বাধীনতা বা মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখোমুখি ফেলে দেয় তবে তাতে বাধাঁ প্রদান মানবিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।




একটা পরিবার, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের নিজস্ব কিছু নীতি ও কৌশল থাকে। কৌশলের মধ্যে কিছু থাকে গোপনীয়, আর কিছু প্রকাশ্য। এই গোপনীয় বিষয়গুলো গোপন না থাকলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের যেমন ক্ষতি হয় তেমনি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা – সর্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়ে যায়।

সরকারি কর্মকর্তাদের দাবী সত্য যদি হয় যে, সাংবাদিক মহিলা কৌশলে রাষ্ট্রীয় নথিপত্র হাতিয়ে নিয়েছেন, বা নিতে চেষ্টা করেছেন, তবে তা শুধু অপরাধ নয়, জঘন্য অপরাধ এবং স্পর্শকাতর বিষয়। তা অবশ্যই রাষ্ট্র ও জনগণের জান-মালের প্রতি হুমকি।


বাংলাদেশের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগ) কাজী জেবুন্নেসা কর্তৃক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা আক্তার নির্যাতনের যে ঘটনার প্রচার দেশব্যাপী আলোচিত হচ্ছে, তা আমাদেরকে বিবেচনা করতে হবে আবেগ দিয়ে নয়, সম্পূর্ণ বিষয়টা দেখতে হবে দয়ার আলোকে জ্ঞান বুদ্ধি কর্ম এবং প্রেমের দৃষ্টিতে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে মনে হলো, সাংবাদিক রোজিনা আক্তার রাষ্ট্রীয় গোপনীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করতে গিয়ে আটক হয়েছেন এবং অতিরিক্ত সচিবের প্রতি তিনি খারাপ আচরণ করেছেন। এমনটি সচিবালয়ের বিবৃতিতেও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সাংবাদিক রোজিনা আক্তার দাবী করেছেন, তাকে ডেকে নিয়ে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে কোনটা সত্য তা তদন্ত কমিটি ও আদালত পরীক্ষা করে দেখবে। তবে দু’টাই নিশ্চয় অন্যায় কাজ। কাউকে ফাঁসানোর মানসিকতা জঘন্য অপরাধ।



সচিবালয় আর গুলিস্তান মার্কেট নিশ্চয় সমান নয়। সাংবাদিক রোজিনা আক্তার সেখানে নিশ্চয় কোন একটা সূত্রে প্রবেশ করেছেন।
প্রশ্ন হলো; এই সূত্র কী? সচিবালয়ের নথিপত্র তো আর ফুটপাতের পত্রিকার মতো থাকে না, এখানে নিশ্চয় লকার আছে। সেই লকার রোমে রোজিনা আক্তার গেলেন কীভাবে? যে গোপন লকার রোমে রোজিনা আক্তার যেতে পারেন, সেখানে অন্যরা যে যাচ্ছেনা এর নিশ্চয়তা কী?

অনুসন্ধানী সাংবাদিক, লেখক, গোয়েন্দা প্রমুখদের কাজ অনুসন্ধান করা। রাষ্ট্রের কাজ, রাষ্ট্রের কৌশলগুলোকে গোপনে সংরক্ষণ করা। অনুসন্ধান করে ফাঁক বের করতে পারলে অনুসন্ধানকারির বিজয়। আর ধরা খেলে আটকে গেলেন। তখন শাস্তি অনিবার্য। এটাই নিয়ম, যেমন দেশে, তেমন বিদেশে। যেহেতু রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সরকার কর্তৃক, তাই সরকার চাইলে বিষয়টিকে ন্যায় বিচারের মধ্যে রাখতে পারেন, ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে অতিরিক্ত শাস্তির ব্যবস্তা করতে পারেন, আবার মাফও করতে পারেন। এই বিষয়গুলো সামনে নিয়ে মূলত সহযোদ্ধাদের আন্দোলন-সংগ্রাম। আমরা এই বিষয়ে ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা করি সরকার এবং রাষ্ট্রের কাছে। আমরা আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ তথা গোটা সমাজ দুর্নীতিমুক্ত দেখতে চাই।


নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR