1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

কওমি শিক্ষা বোর্ডকে স্বচ্ছ করতে দ্রুত যে পদক্ষেপগুলো নিতে হবে

সৈয়দ মবনু
  • প্রকাশটাইম: সোমবার, ২৪ মে, ২০২১

কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডগুলো, এমনকি সকল বোর্ডের সমন্বিত হাইয়ারও দেখলাম এক অদ্ভুদ নিয়ম; বোর্ডের প্রাথমিক সদস্য এবং কমিটির সদস্য হওয়ার যোগ্যতা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়া। বোর্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন না কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।

প্রশ্ন হলো, যে শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব ছাত্রদের পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি, পরীক্ষা গ্রহণ, পরীক্ষার পেপার দেখা, পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা, সনদ বিতরণ সেই বোর্ডের মূল দায়িত্বসমূহ যদি থাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান কিংবা শিক্ষকদের হাতে, তা হলে বিষয়টা কি শিয়ালের হাতে মোরগি বাগি দেওয়ার মতো নয়?

আমি আমার বুজুর্গদের কারোদিকে সন্দেহের আঙ্গুল উঠিয়ে কথা বলার সাহস রাখি না। তাদের প্রতি আমার পূর্ণাঙ্গ শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু যখন দেখি তারা সন্দেহের আঙ্গুল একে অন্যের দিকে করে বসে আছেন, তখন আর আমি না বলতে চাইলেও বলা হয়ে যায়। তা ছাড়া এখানে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তারা যে সবাই সন্দেহের ঊর্ধে তা কি বুকে হাত দিয়ে বলা যাবে? বাজারে তো অনেক সম্পর্কে অনেক কথাই চালু আছে। কীভাবে নিয়ম-অনিয়মে বোর্ডগুলোর কমিটি গঠিত হয়েছে, তা তো প্রকাশ্য সবার সামনে রয়েছে। যারা কমিটি গঠনে সততার পরিচয় দিতে পারেন নি, তারা প্রশ্নপত্র আর পরীক্ষার রিজাল্টে আমানতদার হবেন, তা কি আশা করা যায়? আর কিছু ঘটনার খবর তো অনেকেই জানেন।

চিন্তাশীলরা চিন্তা করে দেখুন, যে বোর্ডের মূল কাজ হলো; বোর্ডে থাকা প্রতিষ্ঠানসমূহের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সিলেবাস তৈরি এবং সংস্কার করা, পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি এবং সংরক্ষণ করা, সুষ্টভাবে পরীক্ষা গ্রহণ এবং রিজাল্ট প্রকাশের ব্যবস্থা করা, অতপর উত্তীর্ণদেরকে সনদ প্রদান করা, সেই সকল বোর্ডের কমিটির দায়িত্বশীলগণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, এ বিষয় থেকে অদ্ভুত বিষয় আর কী হতে পারে? এ থেকেও আরও অদ্ভুদ নয় কি বোর্ডের নির্বাহি কর্মকর্তা-কর্মচারীও কোন না কোন মাদরাসার শিক্ষক?

যারা সভাপতি, সেক্রেটারী কিংবা অন্যান্য দায়িত্বশীল তারা যদি রেজাল্টে দু-চার করে বসেন, কারো কি কিছু করার আছে? কওমি মাদরাসাগুলোতে সাধারণত মান্যতা করা হয় আইন থেকে বেশি বুজুর্গি কিংবা শিক্ষক বা মুর্শিদ ইত্যাদি গুরুত্ব দিয়ে। এই মান্যতা থাকা ভালো। কিন্তু যিনি বুজুর্গ, শিক্ষক কিংবা মুর্শিদ, তিনি ফেরেস্তা নয়। তিনি মানুষ, তাও আবার চৌদ্দ শ বছর পরের উম্মত। বিষয়টা বিবেচনায় রাখতে হবে। যিনি আমার বুজুর্গ, শিক্ষক কিংবা মুর্শিদ, তিনি আমার জন্য আসমানের চাঁদ হলেও অন্যের জন্য মানুষ, তা প্রত্যেককে বুঝতে হবে।

কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব বিস্তার, অর্থ আত্মসাৎ ইত্যাদির ঘটনা অতীতে অনেক আছে। কিছু কিছু প্রচারও হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আন্দোলনও হয়েছে। বুজুর্গী, মুর্শিদী আর হুজুরীর দোহাই দিয়ে সেই সময়গুলোতে ছাত্রদেরকে থামানো হয়েছে। আবার মামলা-মকদ্দমাও অনেক সময় হয়েছে।

আমরা এখানে কারো নাম বলছি না। তন-মনে মনে সবার জানা। আমাদের কথা হলো কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডকে স্বচ্ছ এবং সুন্দর পরিবেশে নিয়ে আসা হোক। আর এজন্য সবচে’ জরুরি হলো কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডকে প্রথমত দলীয় রাজনীতি এবং বিভিন্ন মুহতামীম বা প্রিন্সিপাল বলয় থেকে মুক্ত করা। নতুবা পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা আশা করা যায় না। আর বোর্ডে স্বচ্ছতা না থাকলে ছোট ছোট মাদরাসা, গ্রামের মাদরাসা, এবং যারা কমিটিতে নয় তারা সর্বদাই বঞ্চনার শিকার হবেন। নস্ট হবে শিক্ষার পরিবেশ। তাই কওমি শিক্ষাকে রক্ষার জন্যে, বোর্ডের স্বচ্ছতার জন্য, কওমি মাদরাসাগুলো থেকেই আওয়াজ উঠাতে হবে।

বেফাক, এদ্বারা ইত্যাদিতে অতীতে বড় রকমের বিশৃঙ্খলা হয়েছে এবং এখনও কিছু কিছু হচ্ছে। এগুলোকে থামাতে হলে প্রথমে কিছু সিদ্ধান্তে সবাই একমত হতে হবে।

১. শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি, সেক্রেটারি কিংবা অন্য কোন দায়িত্বশীল কোন প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম বা প্রিন্সিপাল কিংবা সংশ্লিষ্ট কেউ হতে পারবেন না।

২. কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি বোর্ডের কোন চাকুরীতে থাকতে পারবেন না।

৩. বিশেষ করে হাইয়ার জন্য সম্পূর্ণ দায়িত্বশীল সরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

৪. প্রশ্নপত্র, পরীক্ষার পেপার, ফলাফলে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই বিভাগগুলোকে মুহতামিম আর প্রিন্সিপালদের নাগালের বাইরে আরও সিকিউর করতে হবে।

স্মরণ রাখবেন, যারা সুবিধা নিচ্ছেন, কিংবা নিতে চাচ্ছেন তারা এসব নিয়ে কথা বলবেন না। যারা মিটিং যাওয়া-আসার রাহা খরচ আর নাস্তা বাবত কিছু লাভ করছেন তারাও কথা বলবেন না। কথা বলতে হবে সুবিধা বঞ্চিতদেরকে। কথাটা সরকারকে এজন্য বলতে হবে যে, একমাত্র সরকারই চাইলে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডগুলোকে একটা প্রকৃত শিক্ষা বোর্ড হিসেবে রূপ দিতে পারবে। নতুবা কেউ অর্থ, পদ, পদবীর মায়া ছেড়ে স্বচ্ছতার দিকে পা ফেলবেন না।
স্মরণ রাখতে হবে, সরকারের সহযোগিতা ছাড়া পৃথিবীর কোন শিক্ষা বোর্ড জাতীয় বোর্ডে রূপ নিতে পারে না এবং এই শিক্ষার মানও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR