1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ১২:২৩ অপরাহ্ন

প্রশান্তির দোলনা

মনজুর সা'দ (কসবা, শেরপুর)
  • প্রকাশটাইম: মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১

রাত বারোটা ছয় বাজে। মাহমুদ লঞ্চকেবিনের সামনের চেয়ারে বসে আছে অন্য দিকে মুখ করে।তার লঞ্চের অদূরেই আরেকটি লঞ্চ দাঁড়িয়ে আছে। হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। এক লঞ্চ আরেক লঞ্চের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে।


ছোট্ট একটি বারান্দা। বড় করে নিশ্বাস নেওয়ার মত ছোট্ট একটা জানালা। দু’জন এক সাথে হাঁটা কষ্টকর।তবুও কিছু কিছু যাত্রী হেঁটে যাচ্ছে এক সাথে। দুয়েকটা কথা বলে। সবার মুখেই হাসি। এই হাসি দেখে মাহমুদের মনে হচ্ছে,’বুকে হাজারো ব্যথা জমা রেখে মানুষ মন খুলে হাসতেও জানে! কি সুন্দর করে হাসছে। ওর ও হাসতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু পারছে না।

মাহমুদ আজ ঢাকায় যাচ্ছে। তার বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় । খুব ছোটো বেলায় তার বাবা -মা মারা যান। বাবা দেখতে কেমন ছিল সে বলতে পারবে না।তবে সে মাঝেমধ্যে তার বাবাকে স্বপ্নে দেখে।সুপুরুষ একজন মানুষ স্বপ্নে এসে বলে, তুইও চলে আয় আমার কাছে। মাহমুদ ওর মাকে বলবে বলবে করেও বলতে পারে নি।মাস খানেক আগে ওর মা ও চলে গেছে। না ফেরার দেশে।

বাবা ছোটো বেলায় মানুষের ক্ষেত-খামারে
কাজ করে তার ছোটো চাচা আজগর আলীকে শহরে পাঠিয়ে পড়িয়েছেন। পড়াশোনার পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন কিন্তু মানুষ করতে পারেন নি।

গ্রামের সব জায়গা-সম্পত্তি বিক্রি করে এলাকার চেয়ারম্যানতিে দাঁড়িয়ে ছিল সে। পুরো এলাকার মানুষকে আস্ত একটা গরু জবেহ করে খাইয়েছে।তবুও কেউ তাকে ভোট দেয় নি। হয়তো গরুর রান্না বেশি একটা স্বাদ হয় নি। একটা আস্ত গরু খাওয়ার পরও জনগণ পল্টি মেরেছে।



নির্বাচনের পরের দিন বউ-বাচ্চা নিয়ে ফুড়ুৎ।
মাহমুদের বাবা দলিলপত্রের কিছুই বুঝতো না।সেই সুযোগে চাচা সব নিজের নামে লিখে নিয়ে খাঁচার পাখির মত উড়ালপথে উড়ে গেছে।

মাহমুদের চোখ আটকে গেল। ঐ লঞ্চের বারান্দায় সুন্দর একটা দৃশ্যের প্রতি—

একজন মায়ের কাঁধে মাথা রেখে একটা বাচ্চা ছেলে ঘুমোচ্ছে। মা গানের সুরের মতো ঢেউ তুলে ঝিমোচ্ছোন!একবার বাঁ দিকে আরেকবার ডান দিকে।মাহমুদ দেখছে আর মুগ্ধ হচ্ছে!ওর কাছে মনে হচ্ছে,একটা প্রশান্তির দোলনা।মাঝেমধ্যে হালকা করে হেলে-দুলে তার তাল রক্ষা করে চলেছে।



একটুপর পর ছেলেটির বাবা আসলেন হাতে একটা আমের জুস,দুইটা পটেটোর প্যাকেট নিয়ে। ছেলের পিঠে মুখ লাগিয়ে তিনি বললেন,আব্বু, ও আব্বু, ঘুমিয়ে পড়েছো?
বাচ্চাটির মা অভিমান মেশানো গলায়
বলল,ইশ,যাও তো।বিরক্ত করো না।একটু বাচ্চাটারে ঘুমোতে দাও না প্লিজ, সারাক্ষণ ও দুষ্টমি করে।

মাহমুদের কাছে মনে হল,পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য এটি।এদের খুনসুটি দেখে তার মন খারাপি দূর হয়ে গেল।

লঞ্চ কেঁপে উঠল।লম্বা হুইসেল বাজছে।কান জ্বালাপোড়া করছে।মাহমুদ দু’কানে তর্জনী আঙ্গুল ঢুকিয়ে রইল।




সে বারান্দায় বসে নদীর দিকে চেয়ে আছে।বিশাল নদী। কোথাও পার দেখা যাচ্ছে না। একটুপর পর দূরের ঢেউগুলো আছড়ে পড়ছে। কি সুন্দর শব্দ হচ্ছে।এই শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করা যায় না। তবে অনুভব করা যায়। অনুভব করতে হলেও তো সুন্দর একটা মনের প্রয়োজন।আর পৃথিবীতে সুন্দর মনের মানুষই আছে বা ক’জন!

লঞ্চ চলছে।হালকা শীত লাগছে গায়ে।ভালোই লাগছে আবার খারাপও লাগছে।
আচ্ছা, দুইটা একসাথে কখনো লাগে?
হয়তো না।কিন্তু মাহমুদের লাগছে।বারান্দায় দাঁড়ানো যাত্রীরা সবাই কেবিনে চলে গেছে।ওর যেতে ইচ্ছে করছে না।অলসতা করছে বসা থেকে দাঁড়াতে।

এক কাপ কফি নিয়ে আসল ক্যান্টিন থেকে। কফির কাপ রেডিমেড। কাপের গায়ে লেখা চুমুকেই স্বাদ। কিন্তু ওর মুখে স্বাদ লাগল না।স্বাদের পরিবর্তে বিস্বাদ ঠেকছে। এখানকার কফি খুব ভালো হয়, শুনেছে সে।কাপ জলে ফেলে দিল।কফি নদীর পানির সাথে মিশে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলল।

মাহমুদ বসা থেকে উঠে দাঁড়াল।
বারান্দার রেলিঙের উপর হাত রেখে সে
গলা ছেড়ে গাইতে লাগল—
ওরে নীল দরিয়া/আমায় দে রে দে ছাড়িয়া…
ওরে নীল দরিয়া/আমায় দে রে দে ছাড়িয়া…
ওরে নীল দরিয়া/আমায় দে রে দে ছাড়িয়া…

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR