1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন

অকাল কোনো মৃত্যু নেই

মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম
  • প্রকাশটাইম: সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১

আমাদের সমাজে ব্যবহৃত প্রসিদ্ধ একটি শব্দ ‘অকাল মৃত্যু’। গ্রামে-শহরের টাঙানো প্রায় ব্যানারে দেখা যায় ‘অমুকের ‘অকাল মৃত্যুতে’ আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’ নাউজুবিল্লাহ! ‘অকাল মৃত্যু’ বলতে বুঝায় কালের পূর্বে মৃত্যুবরণ করা। মৃত্যুবরণ করার কথা ছিলো অমুক তারিখ, এর আগেই মৃত্যুবরণ করলেই বলা হবে অকাল মৃত্যু। অকাল মৃত্যু শব্দ থেকে বুঝা যায়, মৃত্যুবরণ করার কথা ছিলো অমুক তারিখ, আল্লাহ তাআলা এর পূর্বে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিয়েছেন। নাউজুবিল্লাহ! এতে আল্লাহর মর্যাদার ক্ষুণ্ণ হয়।

আল্লাহ তাআলা মানুষ সৃষ্টির পূর্বেই নির্ধারণ করেন ‘জন্ম-মৃত্যু’। সেই অনুপাতে মানুষের জন্ম হয়, মৃত্যু হয়। তাকদিরের লিখিত অনুপাতে রিযিক দেওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন— পূণ্যময় তিনি(আল্লাহ), যাঁর হাতে রাজত্ব। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। যিনি(আল্লাহ) সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়। সূরা মূলুক ০১-০২ এতে বুঝা গেলো, আমাদের জন্ম-মৃত্যু আল্লাহ তাআলার হাতে। ‘কার মৃত্যু কখন, কীভাবে হবে’ আল্লাহই ভালো জানেন! অন্য আয়াতে এরশাদ ফরমান — তিনিই জীবন ও মরণ দান করেন এবং তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।সূরা ইউনুস-৫৬।

এছাড়া আল্লাহ তাআলা এরশাদ ফরমান— প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যুর স্বাদ। সূরা আলে- ইমরান ১৮৫। ছোট হোক কিংবা বড়, যুবক হোক কিংবা বার্ধক্য সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। এই ধরায় কেউ অমর নয়। একটি চিরন্তন সত্য হলো — “প্রত্যেককেই এই ধরার মায়া ত্যাগ করে রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে।” এক কথায় বললে “মৃত্যু”।

এই ধরায় আসার সিরিয়াল আছে, যাওয়ার নয়। কেউ কেউ মায়ের গর্ভ থেকে দুনিয়াতে আগমন করে ঘুমন্ত (মৃত) অবস্থায়। আবার কেউ শৈশবে, কেউ কৈশোরে, কেউ যৌবনে, কেউ আবার বৃদ্ধাবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। এগুলো সব রবের লীলাখেলা। এখানে কারো কোন হাত নেই।

যখন কেউ গাড়ি এক্সিডেন্টে, পানিতে পড়ে কিংবা অল্পবয়সে মৃত্যুবরণ করলে কিছু মানুষ অপমৃত্যু, অকাল মৃত্যু, খারাপ মৃত্যু, পুরা কপাল বলে সম্ভোধন করে। নাউজুবিল্লাহ! মু’মিনের মৃত্যু অকাল হতে পারেনা। বরং একটি নিয়ামত! কারণ, এই ধরা আর জান্নাতের মাঝে গেইট হলো ‘মৃত্যু।’ তাই তো মু’মিনরা শহীদি মৃত্যুর অমিয় সুধা পান করতে দলে দলে ছুটে চলে জিহাদের ময়দানে।

আল্লাহ তায়ালা এরশাদ ফরমান —প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একটি মেয়াদ রয়েছে। যখন তাদের মেয়াদ এসে যাবে, তখন তারা না এক মুহুর্ত পিছে যেতে পারবে, আর না এগিয়ে আসতে পারবে। সূরা আ’রাফ-৩৪। অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ ফরমান— যদি আল্লাহ লোকদেরকে তাদের অন্যায় কাজের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভুপৃষ্ঠে চলমান কোন কিছুকেই ছাড়তেন না। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুতি সময় পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন। অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহুর্তও বিলম্বিত কিংবা তরাম্বিত করতে পারবে না।সূরা নাহল-৬১।

তবে, অল্পবয়সে মৃত্যু মা-বাবার জন্য অতি কষ্টের হয়। তাই হাদিসে সান্ত্বনা দিতে রাসূল সা. এরশাদ ফরমান—
যেসব ব্যক্তি বা যারা দুর্ঘটনায় আপনজন হারিয়েছেন, তারা ধৈর্য ধারণ করুন। এমন বিপদে ধৈর্য ধারণকারীদের জন্য জান্নাতে বায়তুল হামদ নামক একটি ঘর তৈরি রয়েছে।’ তিরমিজি, হাদিস : ১০২১।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দিন-আমীন! আর যারা এই লেখাটি পড়েছেন, তাদের জন্য একটি সবক। মনে রাখবেন, ‘অকাল মৃত্যু’ শব্দটি মু’মিনের মুখে বেমানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR