1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট : লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং সংস্কার

সৈয়দ মবনু
  • প্রকাশটাইম: মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১

ইংরেজ যুগে সৃষ্ট ত্রি-ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মনস্তাত্বিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে

পলাশির আমবাগানে ইংরেজ সর্দার লর্ড ক্লাইভের সাথে যখন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার যুদ্ধ হয় তখন যারা নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তারা কেউ ব্যক্তিত্ববান মানুষ ছিলেন বলা যাবে না। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন বিশ্বাসঘাতকই ব্যক্তিত্ববান থাকে না। তাই স্বীকার করতে হবে, ব্যক্তিত্বহীন কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা নেতা যেকোন জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য অন্যতম হুমকি। ব্যক্তিত্ববান কোন মানুষ বিশ্বাসঘাতক বা চামচা হতে পারে না। কারণ, পিছনের হাঁড় শক্ত না থাকলে কেউ ব্যক্তিত্ববান হতে পারে না। এটাই ঐতিহাসিক সত্য। আমরা যদি লঙ্কার ভীবিষণ, দখনের সাদেক কিংবা পলাশির বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর আলী খান, উর্মি চাঁদ, রাজ বল্লভ, রায় দুর্লভ, জগৎ শেঠ প্রমূখদেরকে দেখি তবে অনুমান করতে পারবো একথা কতটুক সত্য।

১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশিতে ব্যক্তিত্বহীনদের কর্মে আমাদের যে ক্ষতি হলো তা থেকে উত্তীর্ণ হতে দীর্ঘ সময় সাধনা-সংগ্রাম করতে হয়। পলাশিতে পরাজয়ের পরবর্তী দশ বছরে ইংরেজ ও তাদের সহযোগিদের ষড়যন্ত্রে তৎকালিন বাঙালিদের সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। এ অঞ্চল পনেরো শতক থেকেই মুসলমান অধ্যুষিত, এখানে ইংরেজ ও তাদের সহযোগিদের আঘাতে সবচে মারাত্মক ক্ষতি হয় মুসলমানদের। বিশেষ করে ইংরেজরা বেশি ক্ষতি করেছে এ অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায়। ইংরেজরা ক্ষমতা দখলের পর বাংলা অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ ধ্বংস করে দিয়েছিলো। ইংরেজ গবেষক উইলিয়াম হান্টার লিখেছেন, ‘পলাশী যুদ্ধের পর কয়েকবছরের মধ্যে শুধু বাংলা প্রদেশেই বর্তমান কলেজ মানের প্রায় ৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ব্রিটিশরা।’ (দ্যা ইন্ডিয়ান মুসলমানস)। ইংরেজরা মুসলমানদের প্রচুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়াকফ সম্পত্তি কলকৌশলে সরকারিকরণ কিংবা বাজেয়াপ্ত করে। এর অন্যতম একটি প্রমাণ, দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসিনের ওয়াক্ফ সম্পত্তি তারা তাদের অধিনে নিয়ে বিভিন্নভাবে অপচয় করে। মুসলমানদের শিক্ষার উন্নয়নে হাজী মোহাম্মদ মহসিন ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর বিশাল সম্পত্তি ওয়াক্ফ করে দিয়েছিলেন। সম্পত্তির পরিমাণ ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের হিসাব অনুযায়ী নগদ ছিলো সাড়ে সাত লাখ টাকা। সেই সময়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা অংকের দিকে বিশাল। দাতা তাঁর ওয়াকফে শর্ত দিয়েছিলেন তা মুসলমানদের শিক্ষার উন্নয়নে খরচ হবে, কিন্তু দখলদার বৃটিশ সরকার এই সম্পত্তি মুসলমানদের শিক্ষার উন্নয়নে খরচ না করে ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলিতে ইংরেজ-পদ্ধতির একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করে, যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো আমলা-কামলা এবং চামচা হওয়ার উপযোগি মানুষ তৈরি করা। উল্লেখ্য যে, হাজী মহাম্মদ মুহসিনের অর্থে লেখাপড়া করে বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি বঙ্কিমচন্দ্রও ইংরেজদের উন্নতমানের চামচা হয়েছিলেন। ১৭৩১ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় ‘সোসাইটি ফর দ্যা প্রমোশন অব দ্যা খ্রিস্টান নলেজ’ সংস্থার উদ্যোগে যে ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো তার বেশিরভাগ ছাত্রই ছিলো ইংরেজদের শাসনের প্রতি আনুগত্যশীল হিন্দু সম্প্রদায়ের, যা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য ছিলো দুঃখজনক।

ভারতবর্ষে বর্ণে কালো এবং চিন্তায় ইংরেজ তৈরির প্রথম কারখানা হলো হুগলির এই স্কুল। ১৭৫৭ থেকে ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই স্কুল থেকে ইংরেজরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা-সাধনা চালিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে চিন্তা-চেতনা এবং শিক্ষায় তাদের কিছু নিজস্ব লোক তৈরী করতে সফল হয়। ইংরেজরা যখন দেখলো তাদের কিছুলোক তৈরি হয়েগেছে তখন ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে হঠাৎ ঘোষণা দিয়ে বসলো অফিস আদালতে ফার্সীর পরিবর্তে ইংরেজি চলবে। তৎকালি ইংরেজ গবেষক ডাব্লিউ হান্টার নিজে স্বীকার করেছেন; আমাদের শাসনের প্রথম পঁচাত্তর বছর প্রশাসন কার্য পরিচালনার যোগ্য অফিসার সৃষ্টির জন্য আমরা তাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকেই কাজে লাগিয়েছি। কিন্তু ইত্যবসরে জনশিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করি এবং নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষাপ্রাপ্ত বহুলোক সৃষ্টি হওয়ার পর মুসলমানদের পুরনো ব্যবস্থাটা আমরা বর্জন করেছি। ফলে মুসলমান যুবকদের সামনে রাষ্ট্রীয় কর্মের প্রতিটি রাস্তা রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। (দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস)।

কথা নেই, বার্তা নেই হঠাৎ এমন পরিবর্তন অনেককে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে। অনেকে রাতারাতি কর্মচ্যুত হলেন। সমাজে বেকারত্বের মহামারি শুরু হয়। বিশেষ করে এখানে মুসলিম সমাজের লোকেরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হলেন। এই সময় ইংরেজরা মুসলমানদের কাছ থেকে জমিদারিসমূহ ছিনিয়ে নিতে শুরু করে। একদিকে ইংরেজি শিক্ষার বিস্তার, অন্যদিকে মুসলমানদের জমিদারি চিনিয়ে নেওয়া, অতঃপর চিরস্থায়ি বন্দোবস্তনীতির মাধ্যমে ভারতীয় হিন্দুদের মধ্যে নব্য জমিদারদের উত্থ্যান ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে মুসলমানরা খুব বেশি আক্রন্ত হন। ফলে দিনদিনে মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসন্তোষ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক সময় সরকার অনুভব করে, শান্তিতে রাজ্য পরিচালনার জন্য অসন্তোষের কারণসমূহ দূরীকরণের চেষ্টা করতে হবে। তারা অনেকে বিভিন্ন অসন্তোষের কারণ বিশ্লেষণ করে স্বীকার করেন, ইংরেজদের প্রবর্তিত অসম শিক্ষা ব্যবস্থাই এখানে ক্ষোভের মূল কারণ। তারা কেউ কেউ বৃটিশ সরকারকে প্রস্তাব করেন, ইংরেজ স্কুলসমূহে মুসলমানি শিক্ষার প্রবর্তন না হওয়া পর্যন্ত ইংরেজ শাসকদের শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ গ্রহণে মুসলমানেরা আগ্রহী হবে না। বিশ্লেষকদের বিশ্লষণ এবং প্রস্তাবে ধীরে ধীরে ইংরেজ সরকার অনুভব করে শুধু হিন্দু সমাজে সুযোগসুবিধা দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। মুসলমানদেরকেও চাকুরী-নকরি দিয়ে ইংরেজদের পক্ষে নিতে হবে। মুলমানদের ভেঙে যাওয়া অর্থনৈতিক অবকাঠমোকে কিছুটা অগ্রসর না করলে এখানে সংঘাত লেগেই থাকবে।

বৃটিশ শাসনের দীর্ঘ সময় মুসলমানদের একই সাথে ইংরেজ ও কিছু সাম্প্রদায়িক হিন্দুদের উপদ্রবের মোকাবেলা করতে হয়। শুধু বাংলায় নয়, গোটা ভারতবর্ষের একই অবস্থা। দীর্ঘ দ্বী-মুখি মোকাবেলায় ক্লান্ত একদল মুসলমান অফিস-আদালত-সরকারী চাকুরীর প্রয়োজনে ইংরেজি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। তৎকালিন ভারতবর্ষের ইংরেজ পরিচালিত কিংবা ইংরেজি স্কুলগুলো খ্রিস্টান-পাদ্রিদের দ্বারা পরিচালিত বলে মুসলমানদের কাছে তা ছিলো খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক। দখলদার ইংরেজদের ভাষা এবং খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক হিসাবে সেই সময়ে ইংরেজি পড়া মুসলমারা সুনজরে দেখতেন না। এই সুনজরে না দেখতে পারার কাজকে আজকাল কেউ কেউ উপহাসের নজরে দেখলেও তৎকালিন সময় তা ছিলো ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের মহৎ কর্ম। নিজেদের স্বাধীন চিন্তাকে স্বতন্ত্র রাখতে তৎকালিন মুসলিম নেতারা ঘোষণা করেছিলেন ইংরেজি পড়া ভারতীয়দের জন্য হারাম। যখন অর্থনৈতিকভাবে ক্লান্ত একদল মুসলমান চাকুরীর স্বার্থে ইংরেজি পড়ার প্রতি আগ্রহী হন তখন স্থানিয় ইংরেজরা কেন্দ্রীয় সরকারকে পরামর্শ দিলেন ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষা চালু করলে হয়তো মুসলিম সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া কিছুটা হ্রাস পাবে। এই উদ্দেশ্যে ওয়ারেন হেষ্টিংস তৎকালিন ইংরেজ শাসনের রাজধানী কোলকাতায় একটা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম ছিলো মোহামেডান কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহের জন্য রাষ্ট্রীয় তাহবিলের একটা অংশ বরাদ্দ করা হয়। ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে এই কলেজের সেক্রেটারি হিশেবে একজন ইউরোপীয় পাদ্রীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে এই প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি একটি ইংরেজি ক্লাস চালু করা হয়। কিন্তু অল্পদিনে তা বন্ধ হয়েগেলে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি আলোচনার বাইরে চলে যায়। দীর্ঘ পঁচিশ বছর তা আলোচনার বাইরে থাকে। ১৮৫১ থেকে ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কর্তৃপক্ষ আবার প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার প্রয়োজন অনুভব করেন। তখন প্রতিষ্ঠানকে দুটি বিভাগে বিভক্ত করা হয়। এক. নিম্নতর বিভাগের মধ্যম মানের (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকার সমান মান) উর্দু, ফার্সী ও ইংরেজি শিক্ষাদানের ব্যবস্থা। এই বিভাগের নাম রাখা হয় ‘এ্যাংলো পার্সিয়ান শাখা’। উচ্চতর বিভাগে কেবলমাত্র আরবী শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এতে ইংরেজ সরকারের উদ্দেশ্য হাসিল হয় না। তাই তারা উচ্চতর বিভাগে আরবী রাখার পক্ষে নয়। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে স্থানীয় ইংরেজরা একটা রিপোট তৈরি করে। এতে তারা বলে: মুষ্টিমেয় ক’জন পন্ডিত এখান থেকে শিক্ষা পেয়ে বেরিয়ে যান; তারা তাদের গন্ডিতে সুশিক্ষিত হলেও সরকারী চাকরির যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। (ই সি বেইলীর নোট থেকে ডাব্লিউ হান্টার কর্তৃক সংগৃহীত)।

সরকার হতাশ হয় কোলকাতা মোহামেডান কলেজ নিয়ে। অতঃপর কলেজের অনারারী প্রিন্সিপাল কর্নেল মাসাউ লীসের সুপারিশক্রমে ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে সরকার সংস্কারের জন্য একটি কমিশন নিয়োগ করে। সেদিন এই কমিশন রিপোর্টে যে পরামর্শ দিয়েছিলো সেই পরামর্শ মাথায় রেখে তৎকালিন কর্মকর্তা ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা আলিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন এই পরিকল্পনা ওয়ারেন হেস্টিংস কেন্দ্রীয় সরকারকে বুঝাতে ব্যর্থ হওয়ায় অনুমোদন নিতে পারেননি। ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি, ওয়ারিং হেস্টিংস থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন কোলকাতা আলিয়া মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিভিন্ন ইংরেজ, যার মধ্যে ছিলেন ২৭জন খ্রিস্টান ধর্মগুরু পাদ্রী। নবাব আব্দুল লতিফ চৌধুরীর প্রচেষ্টায় উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে কোলকাতায় আলিয়া মাদরাসায় আরবি-ফারসির পাশাপাশি ইংরেজি চালু হয়। নবাব আব্দুল লতিফ চৌধুরীও একজন ইংরেজভক্ত লোক ছিলেন। অবশ্য এরপরও বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষার উন্নতির ইতিহাসে তিনি শ্রদ্ধেয় হয়ে থাকবেন বিভিন্ন কারণে।

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার সংঘবদ্ধ আন্দোলন ব্যর্থ হলে মুসলমানদের অস্তিত্ব হুমকির মুখোমুখি দাঁড়ায়। এই সময় অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে শিক্ষার কর্মসূচি নিয়ে ময়দানে আসেন মাওলানা কাসেম নানতুবি। তিনি অন্যাদেরকে সাথে নিয়ে ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে প্রতিষ্ঠা করেন ‘দারুল উলূম’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এদিকে একই সময়ে স্যার সৈয়দ আহমদ খান আলিগড়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল’। স্যার সৈয়দ আহমদের উদ্দেশ্য ছিলো সরকারি চাকুরীর ক্ষেত্রে হিন্দুদের সাথে প্রতিযোগিতায় দাঁড়ানোর উপযোগি লোক মুসলমানদের মধ্যেও সৃষ্টি করা, আর কাসেম নানতুবির উদ্দেশ্য ছিলো ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলন অব্যাহত রাখার মতো ইসলামসম্মত দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব সৃষ্টি করা। আমরা ইতিহাস থেকে আরও জানতে পারি, দারুল উলূম দেওবন্দ ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে দারুল উলূম দেওবন্দের অবদান উজ্জল হয়ে থাকবে। ভারতবর্ষে ইতিহাসে দারুল উলূম দেওবন্দই একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা-কর্মি তৈরির চিন্তা থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতারা সৃষ্টি করেছিলেন। তবে শিক্ষার উন্নতিতে বাকীগুলোর অবদান অস্বীকার করা যাবে না।

চলবে…

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR