আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানির বিরুদ্ধে তীব্র মন্তব্য করেছেন। শনিবার (২৪ আগস্ট) মরিগাঁওয়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি যদি মাদানিকে খুঁজে পাই, তবে তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেব।”
এর আগে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ২১ আগস্টের এক বৈঠকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে কড়া প্রস্তাব গ্রহণ করে। সংগঠনটির অভিযোগ, আসামে উচ্ছেদ অভিযান বৈষম্যমূলক ও অমানবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপগুলো ধর্মীয় কুসংস্কার ও ঘৃণার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মাদানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বলা হয়, উচ্ছেদ অভিযানের কারণে ৫০ হাজারেরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে, যাদের বেশিরভাগই বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম। সংগঠনটির অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম মেনে উচ্ছেদ করা হয়নি। বিশেষ করে মিঞা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজনকে অন্যায্যভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তারা রাষ্ট্রপতি ও ভারতের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপও চেয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “জমিয়তের দাবি আসামের মানুষ মেনে নেবে না। মুখ্যমন্ত্রী পদে কে থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত আসামের জনগণ নেবে, মাদানি নন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে জমিয়ত কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে যোগসাজশে রাজ্যের স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে এবং শিক্ষক নিয়োগে বাধা দিয়েছে।
হিমন্তর দাবি, সরকারের পদক্ষেপ মূলত স্থানীয়দের অধিকার রক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য। তার ভাষায়, “যাদের উচ্ছেদ করা দরকার, কেবল তাদেরই উচ্ছেদ করা হচ্ছে।”
আসামে উচ্ছেদ অভিযান দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে নদী ভাঙনে ভূমিহীন হয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারগুলো বলছে, বহু দশক আগে তারা ওই এলাকায় বসবাস শুরু করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযানে তাদের গৃহহীন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জমিয়তের অভিযোগ, উচ্ছেদের নামে দরিদ্র মুসলিম পরিবারগুলোকে অন্যায়ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে, আর সরকারের দাবি—এটি অবৈধ দখলদারিত্ব ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকানোর অংশ। ফলে উচ্ছেদ ইস্যুটি এখন আসামের রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
