ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২৫ (সংবাদ ডেস্ক):
ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক বিস্তৃত বিবৃতি প্রকাশ করে দাবি করেছেন, তথাকথিত “প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) আন্দোলন” আসলে কোনো সংস্কার উদ্যোগ নয়, বরং এটি ছিল “একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা”, যা জামায়াতে ইসলামী চালু করেছিল জনগণের আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতে।
—
🔹 “কনসেনসাস কমিশনের সংস্কারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র”
নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে লেখেন,
> “তথাকথিত ‘প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) আন্দোলন’, যা জামায়াতে ইসলামী চালু করেছিল, বাস্তবে কোনো সংস্কার আন্দোলন নয়—বরং এটি ছিল একটি হিসাব করে সাজানো রাজনৈতিক প্রতারণা। এর মূল লক্ষ্য ছিল ‘কনসেনসাস কমিশন’-এর সংস্কারপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা এবং জনগণের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র ও সংবিধান পুনর্গঠনের মূল প্রশ্ন থেকে জাতীয় আলোচনাকে সরিয়ে দেওয়া।”
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের উত্থানের পর যখন সর্বদলীয় ঐকমত্যের মাধ্যমে একটি সংবিধান সংস্কার কাঠামো গঠনের প্রচেষ্টা চলছিল, তখনই জামায়াত সেটিকে বিভ্রান্ত করার কৌশল নেয়।
—
🔹 জনগণের ভোটের অনুপাতভিত্তিক “উচ্চকক্ষ” ছিল মূল সংস্কার দাবি
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন যে, এনসিপি ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তির প্রস্তাবিত মূল সংস্কার এজেন্ডা ছিল জনগণের ভোটের অনুপাত অনুযায়ী একটি উচ্চকক্ষ (Upper House) প্রতিষ্ঠা করা।
তার ভাষায়,
> “এটি ছিল সংবিধানিক নিরাপত্তার একটি কাঠামো, যাতে জনগণের ইচ্ছা ও সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত হয়।”
তিনি আরও বলেন, এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই তারা “জুলাই সনদ (July Charter)”-এর আইনি কাঠামো জাতীয় ঐকমত্যে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
—
🔹 “জামায়াত আন্দোলন ছিনতাই করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে”
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগীরা এই জাতীয় সংস্কার এজেন্ডাকে “হাইজ্যাক” করে নেয়।
তার ভাষায়,
> “তারা সংস্কার আন্দোলনকে সংকুচিত করে শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত ‘PR ইস্যু’ বানিয়ে ফেলে এবং এটিকে নিজেদের দলীয় স্বার্থে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।”
তিনি দাবি করেন, জামায়াতের লক্ষ্য ছিল না প্রকৃত সংস্কার বা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বরং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও কৌশলগত প্রতারণা।
—
🔹 “জামায়াত কখনোই প্রকৃত সংস্কার সংলাপে যুক্ত হয়নি”
নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে আরও বলেন,
> “জামায়াতে ইসলামী জুলাই বিপ্লবের আগে বা পরে কখনোই কোনো সংস্কার সংলাপে অংশ নেয়নি। তারা কোনো মৌলিক প্রস্তাব দেয়নি, কোনো সংবিধানিক দর্শন প্রকাশ করেনি, এমনকি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিও কোনো অঙ্গীকার দেখায়নি।”
তার মতে, জামায়াতের সংস্কার-সমর্থন ছিল “কৌশলগত অনুপ্রবেশ (tactical infiltration)”, যা সংস্কারের মুখোশে রাজনৈতিক নাশকতা চালানোর একটি পরিকল্পনা।
—
🔹 “জনগণ এখন এই প্রতারণা চিনে ফেলেছে”
পোস্টের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন এই রাজনৈতিক প্রতারণা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন।
তিনি বলেন,
> “আজ বাংলাদেশের জনগণ এই প্রতারণা ও ছলনার মুখোশ উন্মোচন করেছে। তারা সত্য উপলব্ধি করেছে, এবং আর কোনো ভুয়া সংস্কারবাদী বা কৌশলী প্রতারক দ্বারা বিভ্রান্ত হবে না।”
তার ভাষায়, সংস্কার মানে শুধু ভোটের সমীকরণ নয়—এটি রাষ্ট্র ও ন্যায়ের পুনর্গঠন।
> “না সর্বশক্তিমান আল্লাহ, না এই ভূমির সার্বভৌম জনগণ—আর কখনোই অসৎ, স্বার্থান্ধ ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া শক্তিগুলিকে শাসনের সুযোগ দেবে না।”
—
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী,
> তথাকথিত “PR আন্দোলন” ছিল না জনগণের ক্ষমতায়নের কোনো প্রকল্প, বরং এটি ছিল জনগণের প্রকৃত সংস্কার প্রক্রিয়াকে বিপথগামী করার একটি সাংগঠনিক ছলনা।
তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, আজ বাংলাদেশের জনগণ সেই প্রতারণা চিনে ফেলেছে এবং তারা এখন গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
