সিলেটের সীমান্ত উপজেলা কানাইঘাটে বাংলাদেশ নাদিয়াতুল কুরআন বোর্ডের উদ্যোগে আগামী ২৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কুরআন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা যাচাই করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও এ পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে ৩০ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বাদ এশা কানাইঘাট মাদরাসা মিলনায়তনে বোর্ডের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের মাননীয় সভাপতি হযরত আল্লামা মাওলানা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী হাফিজাহুল্লাহ। সভা যৌথভাবে পরিচালনা করেন বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক ক্বারী মাওলানা মাশুক আহমদ ধনপুরী এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহিন আহমদ।
সভায় বোর্ডের বিভিন্ন শাখা ও মক্তবের দায়িত্বশীল আলেম-উলামা, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা কুরআন শিক্ষার প্রসারে সবাহী মক্তবের ভূমিকা, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদ রক্ষা, এবং কেন্দ্রীয় পরীক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন—
ক্বারী মাওলানা হারুনুর রশীদ চতুলী, মাওলানা তাজ উদ্দীন মুক্তাপুরী, ক্বারী মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা ক্বারী বদরুদ্দীন, ক্বারী মাওলানা যুবায়ের আহমদ, মাওলানা বিলাল আহমদ, মাওলানা শরীফ আহমদ, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা ক্বারী জামাল উদ্দিন, মাওলানা সাইফুল্লাহ, মাওলানা বদরুল ইসলাম, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, মাওলানা রেজাউল করিম, হাফিজ মাওলানা কাওছার আহমদ, মাওলানা শামীম আহমদ, মাওলানা মঈনুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুর রশীদ, মাওলানা সাদিকুর রহমান, ক্বারী মাওলানা জামাল উদ্দিন ও মাওলানা আব্দুশ শহীদ প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী বলেন—
> “পবিত্র কুরআন শরীফ সহীহ শুদ্ধ করণে সবাহী মক্তবের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত শেখে, তবে তার জীবনে ইসলামের আলো সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হবে। এজন্য প্রতিটি সবাহী মক্তবকে যোগ্য ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালনা করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।”
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় পরীক্ষা শুধু একটি মূল্যায়ন নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরনের উৎসাহ, প্রতিযোগিতা ও আগ্রহ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে মক্তব শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই শুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবে।
সভায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়—
1. আগামী ২৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা কঠোরভাবে শৃঙ্খলা বজায় রেখে অনুষ্ঠিত হবে।
2. পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।
3. পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে কুরআন তিলাওয়াত, তাজবিদ, সহীহ উচ্চারণ, দোয়া-মাসনুন ও প্রাথমিক ইসলামী জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
4. নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হবে।
5. শিক্ষকদের জন্য সময়োপযোগী ট্রেনিং ও কর্মশালা আয়োজন করা হবে, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষভাবে শিক্ষা দিতে পারেন।
6. পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যাতে তারা আরও উৎসাহিত হয়।
সভায় উপস্থিত আলেমগণ বলেন— ইসলামের মূল ভিত্তি কুরআন শিক্ষা। তাই শিশুদের শৈশবেই সহীহ শুদ্ধ কুরআন শিক্ষা দেওয়া জরুরি। এজন্য মক্তবগুলোর মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মতো উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
সভা দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
