আফগানিস্তানে তালেবানের নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকা: মওদুদী ও কুতুবের গ্রন্থও অন্তর্ভুক্ত
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দেশটির সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতরণের জন্য ৫০ পৃষ্ঠার একটি নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় মোট ৬৮০টি বইকে ‘শরিয়াবিরোধী ও তালেবান নীতির পরিপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালেবান প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে “অবৈধ মতাদর্শ ও বিভ্রান্তিকর ইসলামি ব্যাখ্যা” প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
তালিকায় যেসব বই রয়েছে
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত বইয়ের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর ‘কুরআন কি চার বুনিয়াদী ইস্তেলাহে (Four Reforms in the Qur’an)’ এবং মিসরের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ সৈয়দ কুতুবের ‘সামাজিক ন্যায়বিচার ইসলামি দৃষ্টিতে (Social Justice in Islam)’ সহ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দর্শনের উপর ভিত্তি করে লেখা বেশ কয়েকটি গ্রন্থ।
তালেবানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুত এসব বই লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে ফেলতে এবং পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত না করতে।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা
তালেবান সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই বইগুলো “শরিয়াহ ও কাঠামোর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক” এবং তরুণদের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। সরকারের দাবি, এসব বই ইসলামের মূলধারার ব্যাখ্যা থেকে বিচ্যুত হয়ে তরুণ সমাজে মতাদর্শিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
সমালোচনার প্রেক্ষাপট
আবুল আলা মওদুদীর চিন্তাধারা ও বইপত্র নিয়ে আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। অনেক উলামায়ে হক্কানী মনে করেন, মওদুদীর কিছু চিন্তাধারা ইসলামের মৌলিক নীতি থেকে বিচ্যুত এবং রাজনৈতিক ইসলামের নামে বিভ্রান্তি ছড়ায়। তাই আফগানিস্তানে তালেবান সরকার মওদুদীসহ এ ধরনের লেখকদের বই নিষিদ্ধ করাকে “ধর্মীয় শুদ্ধতা” রক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরছে।
প্রভাব
এই পদক্ষেপের ফলে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামি রাজনীতি, সমকালীন ইসলামি চিন্তাধারা এবং সংস্কারমূলক ইসলামের বিভিন্ন ধারা নিয়ে পাঠদানের সুযোগ সীমিত হতে পারে। পাশাপাশি, তরুণ প্রজন্মের কাছে বৈচিত্র্যময় মতাদর্শিক আলোচনার ক্ষেত্রও সংকুচিত হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
