‘জোট হলেও আছি, জোট না হলেও নির্বাচনে আছি’- এমন মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-এর সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক। দলীয় কার্যালয়ে প্রার্থী ঘোষণার পরদিন রোববার মানবজমিনকে এ কথা জানিয়ে বলেছেন- ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবে কিনা- সেটি দলের সিদ্ধান্ত। তবে আপাতত সিদ্ধান্ত হচ্ছে নির্বাচনে আছি আমরা। এজন্য মাঠে প্রার্থীরা কাজ শুরু করেছেন।’ জমিয়তের পক্ষ থেকে শনিবার যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে দলের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকের প্রার্থিতা সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসন থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তিনি কানাইঘাটে ইতিমধ্যে কয়েকটি সমাবেশ করেছেন। মাওলানা ওবায়দুল্লাহ এবারই প্রথম নির্বাচন করছেন না। তিনি ২০১৮ সালে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েছিলেন। ওই নির্বাচনে এ আসনটি বিএনপি’র তরফ থেকে তাকে ছাড় দেয়া হয়েছিল। নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)। তিনি শেষ মুহূর্তে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেননি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ। যদিও ওই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেক। এবারের নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন জমিয়ত সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক।
প্রার্থী ঘোষণার পর জোটবদ্ধ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন- ‘জোটবদ্ধ নির্বাচনের বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করবেন। কার সঙ্গে কীভাবে জোট হবে সেটি তখন বুঝা যাবে। তবে জমিয়ত স্বল্প সংখ্যক আসন নিয়ে জোটে শরিক হতে চায় না। যদি দলের স্বার্থ বিবেচনায় আসন পাওয়া যায় তবে জোট হতে পারে। নতুবা একক ভাবে নির্বাচন করা হবে।’ সিলেটে জমিয়তের ভোটব্যাংক রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট-৫ ও সিলেট-৪ আসনে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক তাদের ভোট বেশি। এ ছাড়া গোটা জেলায়ই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাদের ভোট। এই ভোট ব্যাংকে নজর বড় রাজনৈতিক দলগুলোর। ফলে ‘ভোট ফ্যাক্টর’ হওয়ার কারণে জোটবদ্ধ ভোটে আগ্রহ দেখান রাজনৈতিক দলের নেতারা। সিলেটে জমিয়ত বিভক্ত ছিল। কয়েক মাস আগে দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ আলীর নগরের বাসায় বসে দুই জমিয়তের নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। ফলে এবার জমিয়ত এককভাবেও সিলেট অঞ্চলে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৭টিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
শনিবার বিকালে রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। সিলেট জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তীতে সেটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নেতারা। বাকি পাঁচ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে হোসাইন আহমদ, সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে নজরুল ইসলাম, সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) আসনে মুহাম্মদ আলী, সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে ফখরুল ইসলাম মনোনয়ন পেয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে সকলেই মনোনয়ন পেয়েছেন।
তারা হলেন-সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) আসনে তাফাজ্জুল হক আজিজ, সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে শোয়াইব আহমদ, সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে হাম্মাদ গাজীনগরী, সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে মুখলিসুর রহমান চৌধুরী এবং সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে নুরুল হক। মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনে বদরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে জামিল আহমদ আনসারী এবং মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) আসনে শেখ নূরে আলম হামিদী মনোনয়ন পেয়েছেন। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে এখনো কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ ও বাহুবল) আসনে সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ-২ (আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং) আসনে এখলাছুর রহমান, হবিগঞ্জ-৩ (সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে মাহবুবুর রহমান চৌধুরী এবং হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট ও মাধবপুর) আসনে নুরুজ্জামান আসাদী।
