দারুল উলুম দেওবন্দ কেবল একটি শিক্ষাকেন্দ্র নয়; এটি এক অদম্য আধ্যাত্মিক দূর্গ, যেখানে থেকে জ্ঞানের স্রোতধারা প্রস্ফুটিত হয়, ঈমানের তেজোদীপ্ততা জন্ম নেয় এবং উম্মতের দিশারী প্রদীপ জ্বলে ওঠে। পরাধীনতার অন্ধকারে এই দারুল উলুমই উম্মতকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিল এবং দ্বীন ও মিল্লাতের সংরক্ষণকে আপন কর্তব্যের শীর্ষে স্থান দিয়েছিল।
এই প্রতিষ্ঠানের বরকতেই এক মহৎ আন্দোলনের উদ্ভব ঘটে, যা উম্মতের সার্বিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে অগ্রসর হয়। সেই আন্দোলন পরবর্তীকালে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ নামে খ্যাতি অর্জন করে। দারুল উলুমের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁদের আত্মত্যাগ ও পরিশ্রম দিয়ে জমিয়তের ভিত্তি প্রোথিত করেন, এর অগ্রযাত্রার দিক নির্দেশ করেন এবং উম্মতের বেদনাকে আপন অন্তরে ধারণ করেন।
দারুল উলুম ও জমিয়তের সম্পর্ক প্রদীপ ও আলোর সম্পর্কের ন্যায়। দারুল উলুম প্রদীপ প্রজ্বলিত করেছে, আর জমিয়ত সেই আলোকে গলি-প্রান্তর, জনপদ ও রাষ্ট্রের অঙ্গনে ছড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে মাদ্রাসার প্রাচীরের ভেতরে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বলেছে, অন্যদিকে সেই আলো সমাজ, রাজনীতি, স্বাধীনতার সংগ্রাম ও উম্মতের সমষ্টিগত সমস্যার প্রেক্ষাপটে বিকশিত হয়েছে।
অতএব, দারুল উলুমকে যেমন উম্মতের ধর্মীয় ও জ্ঞানতাত্ত্বিক কেন্দ্র বলা হয়, তেমনি জমিয়তকে ধরা হয় সেই কেন্দ্রের কার্যকরী ও সামাজিক কণ্ঠস্বর। দারুল উলুমের প্রাণস্পন্দন জমিয়তের দেহে প্রবাহিত হয়, আর জমিয়তের শক্তি দারুল উলুমের শিক্ষালব্ধ তত্ত্ব থেকেই বিকশিত হয়।
সুতরাং বলা যায়—
“দারুল উলুম চিন্তার দিশা দেয়, জমিয়ত সেই চিন্তাকে কর্মে রূপান্তরিত করে। দারুল উলুম প্রদীপ, জমিয়ত তার আলোকরশ্মি। এক জননী, অপরটি তার সন্তান। এক উৎস, অপরটি তার প্রবাহমান নদী।”
মাওলানা সৈয়দ কা’ব রাশিদী
অ্যাডভোকেট, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
আইন উপদেষ্টা, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ (উত্তর প্রদেশ)
