📍 দেওবন্দ (উত্তর প্রদেশ) প্রতিনিধি:
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আমির খান মুত্তাকী সম্প্রতি ভারতের প্রখ্যাত ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দ সফর করেছেন।
দেওবন্দ ক্যাম্পাসে তিনি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সর্বভারতীয় সভাপতি হযরত মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানী দা.বা.-এর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ করেন এবং উভয়ে পরস্পরকে আলিঙ্গন করেন। এই মুহূর্তটি দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সম্পর্কের এক গভীর প্রতীক হয়ে উঠেছে।
দারুল হাদীস বিভাগে পাঠ গ্রহণ
দেওবন্দ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মাওলানা মুত্তাকীর দারুল হাদীস বিভাগের বুখারী শরীফের পাঠে অংশগ্রহণ।
তিনি মাদরাসার মুহতামিম হযরত মুফতি আবুল কাসিম নোমানী দামত বারকাতুহু-এর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত বুখারী শরীফের ক্লাসে উপস্থিত থেকে পাঠ গ্রহণ করেন এবং উস্তাদ ও ছাত্রদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
মুত্তাকী বলেন —
> “দারুল উলূম দেওবন্দের আলো শুধু ভারত নয়, সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আলোকিত করেছে। আফগানিস্তানের বহু আলেম এখান থেকে দীনি তালীম গ্রহণ করেছেন। আজ এখানে ফিরে এসে আমি সেই আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের স্রোতধারায় নিজেকে সংযুক্ত অনুভব করছি।”
দেওবন্দ-মাদানী সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারা
মাওলানা আমির খান মুত্তাকীর এই সফর শুধু একটি কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং দেওবন্দ ও আফগানিস্তানের শতবর্ষী আধ্যাত্মিক সম্পর্কের নবীকরণ।
দেওবন্দের শায়খুল ইসলাম আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. একসময় আফগান উলামা ও মুক্তিকামী আন্দোলনের অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিলেন। আফগান আলেমদের মধ্যে দেওবন্দের শিক্ষাদর্শ ও রুহানিয়তের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আজও বিদ্যমান।
জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
সফরকালে মাওলানা মুত্তাকী দিল্লিতেও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে শিক্ষা, মানবিক সহযোগিতা ও ইসলামী ঐক্যের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন—
> “আফগানিস্তান আমাদের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেওবন্দের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যেখানেই থাকুক, তারা ইসলামের দাওয়াত ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পতাকা বহন করছে।”
ধর্মীয় বন্ধনের নতুন অধ্যায়
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামী শিক্ষা ও ঐক্যবদ্ধতার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।
দেওবন্দ ও কাবুলের সম্পর্ক শুধু মাদ্রাসা বা তালীমের নয়—এটি এক আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার ও আদর্শিক বন্ধন, যা সময়ের সীমা পেরিয়ে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
—
🕌 উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক দেওবন্দ সফর।
দারুল হাদীসের ক্লাসে সরাসরি উপস্থিতি ও পাঠ গ্রহণ।
মাওলানা আরশাদ মাদানীর সঙ্গে আন্তরিক সাক্ষাৎ ও আলিঙ্গন।
দেওবন্দ-আফগানিস্তান ঐতিহাসিক বন্ধনের পুনঃনিশ্চিতকরণ।
