Close Menu

    ইসলামি ভোটব্যাংকে ভরসা বিএনপির, চার আসনে জমিয়তের প্রার্থী

    ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫

    বাংলাদেশের ভালুকায় হিন্দু যুবক হত্যাকাণ্ডে মব সহিংসতার নিন্দা মাহমুদ মাদানির

    ডিসেম্বর ২১, ২০২৫

    শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি : জমিয়ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ

    ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
    Facebook X (Twitter) Instagram
    ইজহারে হক: হকের কথা বলে
    • হোম
    • প্রবন্ধ
      1. প্রকৃত আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’ত পরিচিতি
      2. মওদুদী মতবাদ
      3. মওদুদী ফিতনা জানতে
      4. কুরআন ও হাদীসের আলোকে মওদূদী মতবাদ
      5. শরীয়তের কাঠগড়ায় মওদুদী জামাতের মতাদর্শ
      6. মওদূদী মতবাদ- এক আয়নায় তিন চেহারা
      7. ইসলাম ও মওদুদীবাদের সংঘাত
      8. ইসলাম ও রাজনীতি
      9. শিয়া মতাদর্শ
      10. কাদিয়ানী মতবাদ
      11. ফিতনায়ে ইনকারে হাদীস
      12. বাতিল যুগে যুগে
      13. View All

      আহলে সুন্নতের ফিক্বাহ শাস্ত্রের ইমাম: ইসলামী আমলের ক্ষেত্রে বিদয়াতীদের চক্রান্ত

      মে ২৯, ২০২৪

      আহলে সুন্নতের আক্বীদামতে মহানবীর মর্যাদা: অতি ভক্তি কিসের লক্ষণ

      মে ২৮, ২০২৪

      রেজভীদের চক্রান্ত হুবহু ইবনে সাবার চক্রান্তের মত: রাসূলকে আলিমুল গাইব বলা সাবায়ী চক্রান্ত:

      মে ২৮, ২০২৪

      আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’ত সুবিন্যস্ত হওয়ার ইতিহাস

      মে ২৮, ২০২৪

      জামায়াত কোনো ইসলামী দল নয়, বাতেল মতবাদের সঙ্গে ঐক্য সম্ভব নয়: পীর সাহেব মধুপুর

      নভেম্বর ৯, ২০২৫

      সাহাবী-বিদ্বেষী জামায়াত: তাদের ঈমানই প্রশ্নবিদ্ধ: হেফাজত আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

      নভেম্বর ৭, ২০২৫

      আল্লাহর অঙ্গীকার অটুট, কুরআনের রূহ অম্লান — মওদুদী মতবাদের বিভ্রান্তি বিশ্লেষণ

      নভেম্বর ৩, ২০২৫

      মওদুদীর ভ্রান্ত আকীদাসমূহ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দৃষ্টিকোণ

      নভেম্বর ২, ২০২৫

      জামায়াত কোনো ইসলামী দল নয়, বাতেল মতবাদের সঙ্গে ঐক্য সম্ভব নয়: পীর সাহেব মধুপুর

      নভেম্বর ৯, ২০২৫

      সাহাবী-বিদ্বেষী জামায়াত: তাদের ঈমানই প্রশ্নবিদ্ধ: হেফাজত আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

      নভেম্বর ৭, ২০২৫

      আল্লাহর অঙ্গীকার অটুট, কুরআনের রূহ অম্লান — মওদুদী মতবাদের বিভ্রান্তি বিশ্লেষণ

      নভেম্বর ৩, ২০২৫

      মওদুদীর ভ্রান্ত আকীদাসমূহ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দৃষ্টিকোণ

      নভেম্বর ২, ২০২৫

      মওদূদী সাহেব যেমন সাহাবায়ে কিরামকে সত্যের মাপকাঠি মানতে নারাজ তেমনি আম্বিয়ায়ে কিরাম, সম্পূর্ণ নিষ্পাপ বলতেও নারাজ

      সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৩

      দ্বীন সম্পর্কে মওদূদী সাহেবের কয়েকটি বক্তব্য

      সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৩

      মওদূদী সাহেবের ব্যাপারে কতিপয় প্রশ্নের সমাধান

      সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৩

      উসূলে হাদীস সম্পর্কে মওদূদীর বক্তব্য: “আদি যুগের আবোল-তাবোল প্রলাপ কে শুনে ?”

      সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৩

      সুন্নাত সম্পর্কে মওদূদীর বক্তব্য: “সুন্নাতের অনুসরণ করা বিদয়াত ও কুসংস্কার”

      সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৩

      আম্বিয়ায়ে কিরাম সম্পর্কে মওদূদীর বক্তব্য: “নবীগণ নিষ্পাপ নন বরং খবীছ নফ্স দ্বারা আক্রান্ত”

      সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৩

      শরীয়তের কাঠগড়ায় মওদূদী জামায়াতের মতাদর্শ

      সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৩

      মওদূদীবাদের আয়নায় কাদিয়ানী চেহারা

      অক্টোবর ৩, ২০২৩

      মওদূদীবাদের আয়নায় মু’তাজিলী হওয়ার চেহারা

      অক্টোবর ৩, ২০২৩

      কুরআন-হাদীসের বিশ্বস্ত মাধ্যম সাহাবায়ে কিরামের উপর থেকে ভক্তি নির্ভরতা বিলুপ্তির ভয়ানক ষড়যন্ত্র।

      অক্টোবর ৩, ২০২৩

      মওদূদীবাদের দর্পণে শী’আ মতবাদের ছবি: মওদূদীবাদের আয়নায় শীআদের প্রতিচ্ছবি।

      অক্টোবর ৩, ২০২৩

      নবুওয়াত ও রিসালত: মওদুদীবাদ

      মে ২৫, ২০২৪

      ইবাদত: মওদুদীবাদ

      মে ২৫, ২০২৪

      কুরআন মাজীদ ও দ্বীনের সংরক্ষণ: কুরআন সংরক্ষণের অর্থ: কুরআন সংরক্ষণে খোদায়ী ব্যবস্থাপনা: মওদুদীবাদ

      মে ২৪, ২০২৪

      দ্বীন কী? দ্বীনে নূহ: দ্বীনে ইব্রাহীম: দ্বীনে ইসমাঈল: দ্বীনে ইউসুফ: দ্বীনে মূসা: দ্বীনে ঈসা: মওদূদীবাদ

      মে ২৩, ২০২৪

      জমিয়তের সমাবেশের দিন উত্তরায় সম্মেলন ডাকলো জামায়াত

      জুলাই ১০, ২০২৫

      ইসলাম ও রাজনীতি: রাজনীতির সংজ্ঞা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু

      অক্টোবর ৮, ২০২৩

      শিয়া মতাদর্শ

      সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩

      কাদিয়ানী মতবাদ

      সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩

      পারভেযী মতবাদ বা ফিতনায়ে ইন্‌কারে হাদীস

      সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩

      মওদুদী ফিতনা

      সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩

      পারভেযী মতবাদ বা ফিতনায়ে ইন্‌কারে হাদীস

      সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩

      কাদিয়ানী মতবাদ

      সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩

      শিয়া মতাদর্শ

      সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩

      মওদুদীর ভ্রান্ত আকীদাসমূহ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দৃষ্টিকোণ

      নভেম্বর ২, ২০২৫

      জামায়াতে ইসলামী, মওদূদীবাদ ও আকীদাগত স্বচ্ছতার অপরিহার্যতা

      অক্টোবর ৮, ২০২৫

      📚 শিক্ষার সঙ্গে বাণিজ্য-এক আকর্ষণীয় কিন্তু বিভ্রান্তিকর স্লোগান আলেমদের দায়িত্ব ও বাস্তবতা

      অক্টোবর ৬, ২০২৫

      “পূজায় শুভেচ্ছা: ইসলামের দৃষ্টিতে সীমারেখা ও সদাচরণ”

      সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫
    • জাতীয়
    • মুসলিম বিশ্ব
    • সারাদেশ
    • রাজনীতি
    • আন্তর্জাতিক
    • মতামত
    • ইসলাম
    • প্রতিবেদন
      • দাওয়াহ
      • প্রবাস
      • কল্যাণ ট্রাস্ট
      • বয়ান
    ইজহারে হক: হকের কথা বলে
    ইসলাম

    দেওবন্দ আন্দোলন ও কাসিম নানুতুবী

    ইজহারে হকBy ইজহারে হকআগস্ট ২৩, ২০২৫
    Share Facebook Twitter Pinterest Copy Link LinkedIn Tumblr Email VKontakte Telegram
    Share
    Facebook Twitter Pinterest Email Copy Link

    ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দেওবন্দ আন্দোলন উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আত্মত্যাগী বিপ্লবী উলেমারা ভারতবর্ষকে পরাধীনতার শৃংখল মুক্ত করতে মাথায় কাফন বেঁধে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ব্রিটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গিয়েছেন। যাঁদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে আমরা আজকের স্বাধীন ভারতবর্ষ পেয়েছি। ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের রিপোর্ট অনুযায়ী উলামায়ে দেওবন্দের ষড়যন্ত্রেই ১৮৫৭সালের মহাবিদ্রোহ সংঘটিত হয় এবং পরে তা গণবিদ্রোহে পরিণত হয়।

    দেওবন্দ আন্দোলন ও কাসিম নানুতুবী

    আবু রাইহান: কিংবন্তি  সানাই বাদক কি ভারতরত্ন ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান সানাইয়ের মূর্ছনায় ১৯৪৭ সালের ১৪ ই আগস্ট এর মধ্যরাত্রে ভারতের স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল। এই ইতিহাস আমাদের সকলের জানা। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দেওবন্দ আন্দোলন উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল প্রচলিত ইতিহাসগ্রস্থ এবং পাঠ্যপুস্তক গুলিতে উপমহাদেশের এই রক্তস্নাত স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের খুব একটা উল্লেখ পাওয়া যায় না। ধূসর পান্ডুলিপি হয়ে যাওয়া উপ-মহাদেশের এই স্বাধীনতা সংগ্রামের সত্য ইতিহাস হল দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগী বিপ্লবী উলেমারা ভারতবর্ষকে পরাধীনতার শৃংখল মুক্ত করতে মাথায় কাফন বেঁধে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ব্রিটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গিয়েছেন। যাঁদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে আমরা আজকের স্বাধীন ভারতবর্ষ পেয়েছি।

    বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী সত্যেন সেন তাঁর ‘ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের ভূমিকা’ পুস্তকের সূচনা আশে লিখেছেন-‘দেওবন্দ শিক্ষাকেন্দ্র ও আলীগড় শিক্ষাকেন্দ্র এই উপমহাদেশের মুসলমানদের কাছে বিশেষ পরিচিত। অবশ্য আজকালকার বিনের শিক্ষিত তরুণ মুসলমানেরা আলিগড়ের নাম যেভাবে জানে, দেওবন্দের নাম তেমন করে জানে না। হিন্দুদের পক্ষে কথা সত্য, আলিগড়ের কথা তারা অনেকেই জানে কিন্তু দেওবন্দের কথা খুব কম লোকই জানে। অথচ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের দেওবন্দ শিক্ষাকেন্দ্র যে দেশপ্রেমিক ভূমিকা গ্রহণ করে এসেছে, সেজন্য হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলের কাছেই তা স্মরণীয় থাকা উচিত ছিল। স্যার সৈয়দ আহমদ ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পরে আলিগড়ে তাঁর শিক্ষা আন্দোলন শুরু করেছিলেন। দেওবন্দের শিক্ষাকেন্দ্র প্রায় একই সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তার পিছনে ছিল দীর্ঘদিনের দেশপ্রেমিক ও সংগ্রামী ঐতিহ্য। এই সংগ্রামী প্রেরণার প্রেরণার মূলে মূলে ছিলেন দিল্লির শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলবী।

    ১৮০৩ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের পতন ঘটল। মুষল সাহাজ্য সত্য কথা বলতে গেলে একেবারে বিনা বাধায় ব্রিটিশ সান্ডাজ্যবাদের খাস তালুকে পরিণত হয়ে গেল। বিদেশি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রত্যক্ষ প্রতিরোধ এলো মুসলমান উলামা সম্প্রাদায়ের মধ্য থেকে।

    মূলত ওয়ালীউল্লাহ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই বিদেশি ও বিধর্মীদের শাসন অসহনীয় বলে তাঁদের কাছে মনে হয়েছিল। প্রথম প্রতিবাদ করলেন বিখ্যাত ধর্মীয় নেতা শাহ ওয়ালীউল্লাহ। শাহ ওয়াল স্পষ্টই রায় দিলেন এই পরাধীন পরিবেশে ইসলাম কখনই সজীবতা ও স্ফুর্তি লাভ করতে পারে না। তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্যবর্গ ব্রিটিশ স্যাকারের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধশতাব্দী কাল ধরে দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম করেছিলেন। শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলবীর পুত্র ধর্মগুরু আবদুল আজীজ দেহলবী তাঁর পিতার প্রতিবাদকে কার্যকরী রাপ নিয়েছিলেন।

    তিনি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন সারা দেশ সাহাজ্যবাদী ব্রিটিশ বেনিয়াদের করতলগত। তিনি বললেন আরতীয় মুসলমানরা এই পরাধীন অবস্থাকে কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না। সেই সময় শাহ আব্দুল আজীজ দেহলবী দ্বিধাহীন, নির্ভিক ও উদাত্ত কণ্ঠে ফতোয়া জারি করেছিলেন, ‘ভারত এখন দারুল হারব’ (অর্থাৎ শত্রু কবলিত দেশ) সুতরাং প্রতিটি দেশবাসীর জন্য কর্তব্য হল এই দেশ স্বাধীন করা এবং ব্রিটিশ বেনিয়াদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা। সারা দেশে সাবানলের মত এই ফতোয়া ছড়িয়ে পড়ল। সৈয়দ আহমদ শহীদ ও শাহ ইসমাইল শহীদ এর নেতৃত্বে মুজাহিদ বাহিনী জমায়েত হতে লাগল উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পাহাড়ের পাদদেশে সিত্তানা দুর্গে। ব্রিটিশদের হীন চক্রান্ত ও তাদের প্রেতাত্মাদের বিশ্বাসঘাতকতায় ঐতিহাসিক নালাকোট প্রান্তরে শহিদদের তালিকায় রক্তাক্ষরে লেখা হল মুক্তিপাগল প্রধীনতাপাগল মুজাহিদীনদের নাম। দুই শহীদের মস্তক দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও স্বাধীনতার আন্দোলন এখানে থেমে যায়নি। আন্দোলনের ধারা অব্যাহত ছিল।

    ভারতীয় উপ-মহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাদের অমর বিপ্লবী মাওলানা কাসিম নানুতুবী জন্মগ্রহণ করেন ১৮৩২ খ্রীষ্টান্দে, যেদিন সৈয়দ আহমন শহিদ বালাকোটের প্রান্তরে শিখ হায়েনাদের হাতে শহিদ হয়েছিলেন। সেই সময় ইংরেজ স্বৈরাচারীদের শাসকদের ক্রমবর্ধমান অকণা নিপীড়নে মুসলমানদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। দেশ ও জাতির এই ক্রান্তি লগ্নে অতীব প্রয়োজন ছিল মাওলানা কাসিম নানুতুবী’র মতো একজন অকুতোভয় বিপ্লবী দেশপ্রেমিকের। মুসলিমদের এরকম কঠিন পরিস্থিতিতে তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় ওলামারা এক জরুরি আলোচনায় বসেন। সেই আলোচনা সভায় ইংরেজদের দুঃশাসনের লোমহর্ষক ভয়াবহ কাহিনি উঠে আসে। এই আলোচনা সভায় ইংরেজদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মভাবে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং পরাধীনতার জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে শাহাদাত বরণ করে আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন করাকে শ্রেয় বলে ব্যক্ত করা হয়।

    ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের রিপোর্ট অনুযায়ী উলামায়ে দেওবন্দের বড়যন্ত্রেই ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ সংঘটিত হয়। পরে তা সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ে এবং গণবিদ্রোহে পরিণত হয়। স্বাধীনতাকামী আলেমদের নেতৃত্বে ১৮৫৭সালে সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গণআন্দোলনে রুপান্তরিত হয়। এক পর্যায়ে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার থানাভবনকে কেন্দ্র করে এক স্বাধীন এলাকার সৃষ্টি হয়। শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলবীর ভাবশিষ্য হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কীকে আমীরুল মোমেনীন, মাওলানা কাসিম নানুতুবীকে প্রধান সেনাপতি, ও মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহীকে প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু দেশীয় কিছু ব্রিটিশদের পদলেহীদের বিশ্বাসঘাতকতায় ১৮৫৭ সালের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন আপাত ব্যর্থ হয়। স্বাধীন থানাভবন সরকারেরও পতন হয় এবং হাফেয জামান শহিদ হন। মুক্তি পাগল মুজাহিদরা মাওলানা কাসিম নানুতুবীর নেতৃত্বে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বীরদর্পে যুদ্ধ করেছিল। কিন্তু যুেেখর বিষয় সেই যুদ্ধে মুজাহিদ বাহিনী পরাজিত হয়েছিল এবং আমীরুল মোমেনীন হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মন্ত্রী মক্কায় হিজরত করেন, সেনাপতি কাসিম নানুতুবী আত্মগোপন করেন এবং প্রধান বিচারপতি রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘদিন ব্রিটিশদের জেলে নির্ঘাতন সহ্য করেন।

    ব্রিটিশদের গোয়েন্দা রিপোর্টে লেখা আছে, ‘দেওবন্দ মাদ্রাসা মাওলানা মুহাম্মাদ কাসিমের প্রতিষ্ঠিত। তিনি বিখ্যাত আলিমে দ্বীন। তথাপি সিপাহী বিদ্রোহের সময় ব্রিটিশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে মৌলবী হাজী ইমদাদুল্লাহর সঙ্গে জোটবদ্ধ হন। এই দুই মৌলবীকে আত্মগোপন করতে হয়েছিল। হাজি ইমদাদুল্লাহ গোপনে দেশত্যাগ করে হেজাজে পালিয়ে যেতে সমর্থ হন। কয়েক বছর পর সেখানেই তিনি মারা যান। মৌলবী মুহাম্মাদ কাসিম ভারতেই থেকে গেলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলেছিল।’
    ১৮৫৭ সালে কোম্পানীর শোষন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে যে গণবিদ্রোহ দেখা দেয় তার কারণ কি ছিল সে সম্পর্কে ইংল্যান্ড সরকার কোম্পানীর কাছে রিপোর্ট চাইলে ডা. উইলিয়াম লিওর এ মর্মে রিপোর্ট প্রদান করেছিলেন যে, ‘১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের গণ-বিদ্রোহ মূলত: ছিল মুসলমানদের আন্দোলন, আর তার নেতৃত্ব দিয়েছিল আলেম সমাজ। সুতরাং এ বিদ্রোহকে নির্মূল করতে হলে মুসলমানদের জেহাদী চেতনাকে বিলুপ্ত করতে হবে। আর সে চেতনার মূলমন্ত্র আল-কুরআন ও তার বাহক উলামা সমাজকে নির্মূল করে ফেলতে হবে।’ এ রিপোর্টের ভিত্তিতে শুরু হয় আলেম উলামা নিধনের মহোৎসব। ইতিহাসের সবচেয়ে লোমহর্ষক নির্যাতনের শিকার হয় এ উপমহাদেশের আলেম উলামারা। সে সময় গ্রায় ৫৮ হাজার আলেম উলামাকে ফাঁসি দিয়ে শহিদ শহিদ করা হয়। আন্দামান, মাল্টা, সাইপ্রাস, কালাপানিতে দ্বীপান্তর করা হয় হাজার হাজার আলেম উলামাকে।

    সিপাহী বিদ্রোহের প্রত্যক্ষদর্শী ঐতিহাসিক
    মি: টমসন বলেছেন, ‘দিল্লির চাঁদনী চক থেকে খাবার পয়ন্ত এরাপ কোন গাছ ছিল না, যার ডালে উলামাদের গরদান ঝুলেনি। আলেমদেরকে শূকরের চামড়ার ভিতর ভরে জ্বলন্ত চুলোর মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। লাহোরো রবী নদীতে বল্লার ঢুকিয়ে ৮০ জন আলিমকে প্রতিদিন নিক্ষেপ করা হত এবং গুলি করা হত। চল্লিশজন আলিমকে জ্বলন্ত অগ্নিস্ফুলিঙ্গে উলঙ্গ করে জ্বালানো হচ্ছে। তারপর আরও চল্লিশজন আলিমকে জ্বালানোর জন্য সেখানে আনা হল। সেখানে ইংরেজরা তাদের সম্বোধন করে বলেছিল, মৌলবীর দল উক্ত ৪০ জন আলিমকে যেরুণ জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেওয়া হয়েছে, তোমাদেরকেও অনুরুপ জ্বালানো হবে। তোমরা যদি এখন বলো যে, আমরা আজাদী আন্দোলনে অংশগ্রহন করিনি তাহলে তোমাদের ছেড়ে দিব। আমার সৃস্টিকতার কসম, আমি দেখলাম যে, তাদের কোন একজন আলিমও ইংরেজদের সম্মুখে মাথা নত করেননি। বরং পুবের ৪০ জনের ন্যায় পরবর্তী ৪০ জনও অগ্নিস্ফুলিঙ্গে জ্বলে শাহাদাত বরন করলেন। তাদের কাউই ইংরেজদের সম্মুখে মাথা নত করতে রাজী হলেন না।’

    মাওলানা কাসিম নানুতুনী’র অমর কীর্তি হল দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা। এই প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার উলামা বেরিয়ে এসেছেন এবং আজীবন ব্রিটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। আর এক দেশপ্রেমী বিপ্লবী মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাই হয়েছিল ইংরেজদেরকে এদেশ থেকে উৎখাত করার জন্য। মাওলানা কাসিম নানুতুবী সারা জীবন ব্রিটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে মুকাবিলা করেছেন এবং ব্রিটিশদের ইসলাম বিধ্বংসী কর্ম-কাণ্ড ও যড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে বঁড়িয়েছেন এবং তিনি ব্রিটিশদের বিতাড়নের জন্য সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি এতটাই ব্রিটিশ বিরোধী ছিলেন যে তিনি বলেছেন, ‘আমার ইচ্ছা যে, দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিটি ছারই ইংরেজদের অবস্থানে আঘাত হানবে এবং এই মাদ্রাসার কল্যাণপ্রাপ্ত সকলেই ইংরেজদের জন্য প্রাণ সংহার বিষতুল্য হবে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অপরাধে যদি নারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিটি ইট খুলে নেওয়া হয় তবুও তাদ্যের বিরুদ্ধে জিহাদ অব্যাহত থাকবে।’

    ১৯৮০ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধি দারুল উলুম দেওবন্দ পরিদর্শনকালে বলেছিলেন, সারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠানটির পূর্বসূরীগণ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। যার কারণে দেশবাসীর মনে স্বাধীনতা অর্জন করার প্রেরণা ও উচ্চাশা সৃষ্টি করেছিল। আর এই প্রচেষ্টার ফলস্বরুপ ভারতবর্ষ স্বাধীন হল। ইসলাম এবং মুসলমান এই দেশকে অনেক কিছুই দিয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং দেশের জীবন ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে।’

    আর ১৯৫৭ সালে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ দারুল উলুম দেওবন্দ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত এক ভাষণে বলেছিলেন, ‘ওই সকল উলামা যারা দারুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার পূর্বে ও পরে ওই সকল উলামাগণ স্বাধীনতা যুদ্ধ চালিয়ে যান। তাঁরা আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষনের সাথে স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনা করেন।’

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Telegram Copy Link
    ইজহারে হক
    • Website

    এজাতীয় আরো

    ইসলাম

    জামায়াত কোনো ইসলামী দল নয়, বাতেল মতবাদের সঙ্গে ঐক্য সম্ভব নয়: পীর সাহেব মধুপুর

    নভেম্বর ৯, ২০২৫
    ইসলাম

    আল্লামা বাবুনগরীর হুঁশিয়ারি: মওদুদী মতবাদ ঈমানের জন্য ভয়াবহ হুমকি

    অক্টোবর ৩০, ২০২৫
    ইসলাম

    অজু থেকে সেজদা পর্যন্ত: নামাজে লুকিয়ে আছে স্বাস্থ্য ও প্রশান্তির রহস্য

    অক্টোবর ২৯, ২০২৫
    মুসলিম বিশ্ব

    যেখানে একসাথে জ্বলজ্বল করছে খিদমতে কুরআনের দুই নক্ষত্র

    অক্টোবর ২৯, ২০২৫
    মুসলিম বিশ্ব

    মুফতি আফফান মানসুরপুরীকে প্রাদেশিক সভাপতি নির্বাচিত করায় সমরপাল সিংহের শুভেচ্ছা

    অক্টোবর ২৪, ২০২৫
    মুসলিম বিশ্ব

    উত্তর প্রদেশে জমিয়তের সভাপতি নির্বাচিত মাওলানা আকিল কাসেমি— উলামা মহলে অভিনন্দনের জোয়ার

    অক্টোবর ২২, ২০২৫
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    ইসলামি ভোটব্যাংকে ভরসা বিএনপির, চার আসনে জমিয়তের প্রার্থী

    ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫

    বাংলাদেশের ভালুকায় হিন্দু যুবক হত্যাকাণ্ডে মব সহিংসতার নিন্দা মাহমুদ মাদানির

    ডিসেম্বর ২১, ২০২৫

    শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি : জমিয়ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ

    ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
    প্রিয়
    • ইসলামি ভোটব্যাংকে ভরসা বিএনপির, চার আসনে জমিয়তের প্রার্থী
    • বাংলাদেশের ভালুকায় হিন্দু যুবক হত্যাকাণ্ডে মব সহিংসতার নিন্দা মাহমুদ মাদানির
    • শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি : জমিয়ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ
    • ভুয়া ফটোকার্ডে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান ইসলামী আন্দোলনের
    • ইসলামি ঐক্য ভৌগোলিক সীমায় বাঁধা নয়”—মাওলানা ফজলুর রহমানের ভাষণ ঢাকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে
    Advertisement

    সম্পাদক: আবু তালহা রায়হান 

    যোগাযোগ
    রংমহল টাওয়ার, বন্দর বাজার, সিলেট, বাংলাদেশ
    নিউজরুম : ০১৩২৪-৭৪২৩০২
    Email : izharehaq24@gmail.com

    এইমাত্র পাওয়া

    ইসলামি ভোটব্যাংকে ভরসা বিএনপির, চার আসনে জমিয়তের প্রার্থী

    ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫
    © ২০২৬ Izharehaq.com. Designed by MD Maruf Zakir.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.