দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলা, হামাস নেতাদের বৈঠক লক্ষ্যবস্তু — আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া
দোহা, ১০ সেপ্টেম্বর (সংবাদ সংস্থা):
কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় মঙ্গলবার রাত কেঁপে ওঠে। স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে শহরের অভিজাত এলাকা Leqtaifiya (West Bay Lagoon)-এ হামাস নেতাদের অবস্থানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী “অপারেশন সামিট অব ফায়ার” নামে সুনির্দিষ্ট হামলা চালায়।
হামলার পরপরই দোহার আকাশে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আগুন ও কালো ধোঁয়া। কাতারের সিভিল ডিফেন্স ও অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি।
হতাহতের তালিকা
কাতারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে—
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হামাস নেতা খালিল আল-হাইয়ার ছেলে হিমাম আল-হাইয়া,
তার কার্যালয়ের পরিচালক জিহাদ আবু লাবাল,
আরও তিনজন সহযোগী, এবং
একজন কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
তবে হামাসের শীর্ষ নেতারা—যেমন খালিল আল-হাইয়া, জাহের জাবারিন প্রমুখ—অক্ষত আছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
হামলার প্রেক্ষাপট
হামাস নেতৃত্ব দোহায় অবস্থান করছিল মূলত গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ও বন্দি বিনিময় নিয়ে আলোচনার জন্য। মার্কিন মধ্যস্থতায় আলোচনার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলাকালেই এ হামলা হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, “এটি ছিল হামাস নেতৃত্ব ধ্বংস করার কৌশলগত প্রয়াস।”
কাতারের প্রতিক্রিয়া
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হামলাকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ” বলে আখ্যা দেন। তিনি জানান, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ১০ মিনিট আগে কাতারকে অবহিত করে, যা তিনি “গুরুতর বিশ্বাসঘাতকতা” বলেছেন। কাতারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিন্দার ঝড়
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্বে লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় হুমকি বলেছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার একে “শান্তি প্রচেষ্টা ধ্বংসের চেষ্টা” বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “এটি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের স্বার্থে হয়নি, বরং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে।”
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, ফ্রান্সসহ একাধিক দেশ কাতারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হামলার নিন্দা করেছে।
শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দোহায় এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতার সূচনা করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত। একইসঙ্গে আঞ্চলিক কূটনীতিতে কাতারের ভূমিকা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
—
📰 সংবাদ সংস্থা — দোহা / আন্তর্জাতিক ডেস্ক
