দোহায় ইসরায়েলের হামলা: কাতারের ক্ষোভ, জাতীয় সঙ্গীতে প্রতিরোধের বার্তা
দোহা সংবাদদাতা:
কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলের আকস্মিক বিমান হামলার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির জনমত। প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-থানি এই হামলাকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস” এবং “শতভাগ বিশ্বাসঘাতকতা” আখ্যা দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুহাম্মদ বলেন, “আজকের ঘটনাকে এক কথায় প্রকাশ করতে গেলে এটি বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছু নয়। আমাদের রাজধানীর ওপর হামলা চালিয়ে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং শান্তি প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করেছে।”
তিনি আরও জানান, কাতার ইতোমধ্যেই একটি বিশেষ আইনগত দল গঠন করেছে যারা আন্তর্জাতিক পরিসরে আইনি প্রতিকার গ্রহণ করবে। একইসঙ্গে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন, “আমরা প্রতিরক্ষার পূর্ণ অধিকার রাখি। সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত সহ্য করা হবে না—প্রয়োজনে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সচেতনভাবেই চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করতে এই হামলা চালিয়েছেন। তাঁর দাবি, “এটি সমগ্র অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।”
তিনি আরও জানান, হামলার কয়েক মিনিট আগে যুক্তরাষ্ট্র কাতার সরকারকে সতর্ক করলেও তা যথেষ্ট দেরিতে এসেছিল। “আমাদের সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তখন আক্রমণ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছিল,” বলেন শেখ মুহাম্মদ।
—
জাতীয় সঙ্গীত ও সামরিক ভিডিও প্রচার
হামলার ঘটনার পরপরই কাতারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বাজানো হয় জাতীয় সঙ্গীত। এরপর প্রচারিত হয় সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর সামরিক মহড়ার ভিডিও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সম্প্রচার ছিল প্রতীকী জবাব, যা জনগণের মনোবল দৃঢ় করতে এবং বিশ্বকে বার্তা দিতে প্রচার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাতারের নাগরিকরা ভিডিওটিকে “প্রতিরোধের বার্তা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামলার পরপরই জাতীয় সঙ্গীত ও সামরিক শক্তির ভিডিও প্রচার ছিল দেশটির ঐক্য ও প্রস্তুতির ইঙ্গিত। এটি ইসরায়েলের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা—কাতার দুর্বল নয়, প্রয়োজনে প্রতিরোধে সক্ষম।
—
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান
শেখ মুহাম্মদ বিশ্বশক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটি শুধু কাতারের ওপর নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে এর জবাব দিতে হবে।”
তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কাতার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা থেকে পিছিয়ে যাবে না। “আমাদের লক্ষ্য শান্তি, কিন্তু ইসরায়েলের এই ধ্বংসাত্মক নীতি সমগ্র অঞ্চলকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।”
