নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে ‘সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাজনক কলঙ্ক’ বলে মন্তব্য করেছেন সর্বভারতীয় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি। তিনি এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রাতে ভালুকা উপজেলায় একদল উগ্র জনতা দীপু চন্দ্র দাস (২৫) নামের এক হিন্দু যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর তার মৃতদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নিহত দীপু চন্দ্র দাস পেশায় একজন গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা মাহমুদ মাদানি বলেন,
“এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়। মুসলিমরা যখন এমন বর্বরতায় জড়িয়ে পড়ে, তখন আমাদের মাথা লজ্জায় ঝুঁকে পড়ে। সভ্য সমাজে কোনো মানুষের অন্য মানুষকে হত্যা করার অধিকার নেই। কারও আচরণ যতই ভুল হোক, তার বিচার করার জন্য আইন ও আদালত আছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“ইসলাম কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের সহিংসতা, মব লিঞ্চিং কিংবা বর্বরতাকে অনুমোদন করে না। এই অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
এই ঘটনায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের সহিংসতা ও উগ্রতার কোনো স্থান নেই। দোষীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ৭ থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকরা। ঘটনাটি দেশজুড়ে যেমন ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সহিংসতা রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
