ইসলামের ইতিহাসে এমন এক চিন্তাধারা উদ্ভূত হয়েছে, যেটি বাহ্যত ইসলামী আন্দোলনের কথা বললেও, ভেতরে ভেতরে সাহাবায়ে কেরাম রা.-র মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে ব্যস্ত। এ চিন্তাধারার মূল হলো সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী। এর অনুসারীরা আজও নিজেদেরকে “ইসলামী রাজনীতির সত্যিকার প্রতিনিধিত্বকারী” দাবি করে, অথচ তাদের চিন্তার ভিত গড়ে উঠেছে সাহাবীবিদ্বেষের ওপর।
১. তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি
মওদুদীবাদীরা ইসলামকে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক মতবাদ বানিয়ে ফেলেছে। তাদের কাছে ইসলাম মানে হলো শাসনব্যবস্থা, ক্ষমতা ও রাষ্ট্র। ফলে সাহাবাদের ইজতিহাদ ও সিদ্ধান্তকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি। বরং তাদের সামনে নিজের দলের থিউরি ও নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিয়েছে। এতে করে ইসলামের মূল উৎস কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবীদের ফিকহী ধারা তাদের কাছে গৌণ হয়ে পড়েছে।
২. মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা
এই মতবাদের অনুসারীরা ছোটবেলা থেকেই এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠেছে, যেখানে শেখানো হয়, সাহাবাদের মধ্যে রাজনৈতিক ভুল-ত্রুটি ছিল, তাদের ফয়সালা অনেক সময় বাতিলযোগ্য। অথচ তথাকথিত আধুনিক নেতাদের সিদ্ধান্ত “অধিকতর সঠিক”। ফলে তাদের মনের ভেতরে সাহাবীদের প্রতি এক ধরনের অবচেতন বিদ্বেষ ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। তারা মুখে সেটা অস্বীকার করলেও, তাদের বই পত্র ও বক্তৃতা তা প্রমাণ করে।
৩. ইতিহাস সাক্ষী
হক্কানী উলামায়ে কেরাম বহুবার এই বিভ্রান্তি থেকে মানুষকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মওদুদীবাদীরা থিউরির খাঁচায় বন্দি থাকায় তারা বের হতে পারেনি। এর পেছনে মৌলিক দুটি কারণ কাজ করেছে—
১. জ্ঞানগত: তারা ইসলামী জ্ঞানের মূল ধারা থেকে কেটে গিয়ে নিজেরাই আলাদা থিউরি দাঁড় করিয়েছে।
২. মানসিক: ছোটবেলা থেকে ভেতরে ভেতরে যে সাহাবীবিদ্বেষ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা তারা অজান্তেই বহন করছে।
৪. আমাদের করণীয়
সাধারণ মানুষকে এই মতবাদের আসল চেহারা দেখানো। তরুণদেরকে সাহাবাদের মর্যাদা, ইজতিহাদ ও আত্মত্যাগের সত্য ইতিহাস জানানো। আর আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেন বিভ্রান্তদেরকে হিদায়াত দান করেন।
শেষ কথা হলো, মওদুদীবাদীদের চিন্তার আসল সংকট কোন রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক সমস্যা নয়। এটি একটি আকীদাগত ও মানসিক সমস্যা। তাই এর প্রতিকারও কেবল রাজনৈতিক ভাষণে নয়, বরং সহীহ আকীদাহ, সঠিক ইতিহাস শিক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি দাওয়াতের মাধ্যমে হতে পারে।
