জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরী একজন বিশিষ্ট আলেম, একজন ত্যাগী সংগঠক, একজন আদর্শ শিক্ষক ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত ছিলেন। সুদীর্ঘ কাল ধরে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন নিবেদিতপ্রাণ দায়িত্বশীল হিসেবে সাংগঠনিক কাজে বিরামহীন পরিশ্রম করেছেন। প্রাপ্ত তথ্য মতে গত ২রা সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত ৮ টায় তিনি সুনামগঞ্জ শহরে যাওয়ার কথা বলে গাজীনগরস্থ নিজ বাড়ী থেকে বের হন। রাত ১০.৩০ মিনিটে দিরাই রাস্তা পয়েন্টে বনফুল মিষ্টির দোকানের সিসি টিভির ফুটেজে তাকে দেখা যায়। রাত ১১.৩০ মিনিটে একই পয়েন্টের আরেকটি দোকানের সিসি টিভির ফুটেজে তাকে দেখা যায়। রাত ১১.৪০ মিনিটে তার সাথে থাকা নর্মাল মোবাইল সেটটি বন্ধ হয়। এরপর থেকে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও নিখোঁজ হন।অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার ৫৮ ঘন্টা পর ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে দিরাই থানার শরীফপুর গ্রামের ইটভাটার পাশে পুরাতন সুরমা নদীতে স্থানীয় শ্রমিকেরা তার লাশ ভাসতে দেখে পরিবারকে খবর দেয়। পরিবারের লোকজন গিয়ে লাশ সনাক্ত করে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেওয়া হলে তারা গিয়ে নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে।
আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন,হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জমিয়ত মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
উপস্থিত ছিলেন,জমিয়ত সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাতহারী,মুফতি আফযাল রাহমানী, মাওলানা রাশেদ ইলিয়াস, প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম, মুফতি মাহবুবুল আলম কাসেমী,ছাত্র জমিয়ত সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী, মাওলানা হাসান আহমদ ও মাওলানা বোরহানউদ্দিন প্রমুখ।
জমিয়ত মহাসচিব শহীদ মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজনগরীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারের নিকক ৪টি দাবি পেশ করেন
১. অনতিবিলম্বে জমিয়ত নেতা মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন পূর্বক হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদেরকে ফাঁসি দিতে হবে।
২. শহীদ মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর পরিবারকে ক্ষতিপুরণ দিতে হবে।
৩. সরকারকে যে কোন মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন করতে করতে হবে।
৪. নির্বাচনের যথোপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
