ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর:
দেশ, জাতি ও ইসলামি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী (রহ.)-এর ইন্তেকালে। বর্তমান সংকটময় সময়ে তাঁর মতো আপোষহীন, বিচক্ষণ ও প্রজ্ঞাবান আলেমের অভাব গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তের নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে জমিয়ত কার্যালয়ে আয়োজিত “মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী (রহ.)-এর জীবন ও কর্ম” শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
সভাপতিত্ব করেন জমিয়ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতি মাহবুবুল আলম কাসেমী।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি বশিরুল হাসান খাদিমানী, সাধারণ সম্পাদক, জমিয়ত মহানগর দক্ষিণ এবং মুফতি হাসান আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জমিয়ত মহানগর দক্ষিণ।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জমিয়তের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা লোকমান মাযহারী, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা আবুল বাশার, মুফতি নুর মুহাম্মদ কাসেমী, মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম, মাওলানা সলীমুল্লাহ, মাওলানা নুরুল আলম ইসহাকী, মাওলানা রিদওয়ান মাযহারী, মাওলানা তালহা বিন আব্দুল কুদ্দুস ও মাওলানা হোসাইন আহমদ বিন আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী (রহ.) ছিলেন আপোষহীন এক দ্বীনি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি আমৃত্যু বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান রেখে দ্বীন ও দেশ রক্ষার দায়িত্ব পালন করে গেছেন। জাতীয় সংকট, ইসলামি ঐক্য এবং ইসলামবিরোধী অপশক্তির মোকাবিলায় তাঁর উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরো বলেন, দেশে যখন একটি সুষ্ঠু, নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা চলছে, ঠিক সেই সময়ে সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনা রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চরম হুমকি। এই হামলা শুধু একজন প্রার্থীর ওপর নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা ও ইসলামী রাজনৈতিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত।
নেতৃবৃন্দ হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, দোষীদের বিচারের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
