আজ পবিত্র ১২ রবিউল আওয়াল। মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন এটি। এদিনেই রাসূলের জন্ম ও ওফাতের ঘটনা ঘটেছে। মুসলিমরা এদিনকে বিশেষভাবে পালন করে। তবে কিছু মানুষকে এদিনকে ঘিরে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি করতেও দেখা যায়। গত দুই বছর আগে শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দামাত বারাকাতুহুম) ইকরা ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে ১২ রবিউল আওয়াল সম্পর্কে একজন মুসলমানের কেমন বিশ্বাস থাকা উচিত সে বিষয়ে আলোচনা করেন। আর্কাইভ থেকে পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য সেই আলোচনাটি তুলে ধরা হলো।
আর্কাইভ থেকে ১২ রবিউল আওয়াল বিষয়ক বয়ান
১২ রবিউল আওয়াল শুধুই শোক বা উৎসবের দিন হতে পারে না। যে দিন নবীজী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে এসেছেন আবার ওই দিনই নবীজী দুনিয়া থেকে চলে গেছেন। একই দিনে জন্ম-মত্যু হলে কীভাবে এটা শুধু উৎসবের দিন হতে পারে?
প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নবীজীকে কায়মনোবাক্যে অনুসরণ করা। তার জীবনাদর্শকে মানা। নবীজীর সমগ্র জীবনই হলো অনুসরণের বিষয়। আল্লাহ তাআলা এর মধ্যে রেখেছেন অনেক রহমত, বরকত ও পুরস্কার।
আমাদের সমাজের মানুষজন নবীজীকে শুধু রবিউল আউয়াল মাসেই স্মরণ করে। ১২ রবিউল আউয়াল নবীজী শানে মিলাদ, কিয়াম, জশনে জুলুসের আয়োজন করে। অথচ অন্যান্য দিনে কিংবা মাসে নবীজীর কথা তাদের মনে পড়ে না। নবীজীকে তারা ভুলে যায়। তারা যদি প্রকৃতপক্ষে নবীজীকে ভালোবাসতো, তাহলে সারাবছরই ভালোবাসার আলামত নিশ্চয়ই তাদের কাজে কর্মে প্রকাশ পেত।
নবীজী হলেন সর্বশেষ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম নবী ও রাসূল। তাঁর উপর ঈমান রাখা ও তাঁকে নিজের চেয়েও ভালোবাসা মুমিনের একান্ত কর্তব্য। আমাদের ঈমান শুধু তখনই সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ হবে, যখন নবীজীর প্রতি আমাদের ভালোবাসা পৃথিবীর সবকিছু, এমনকি আমাদের নিজ জীবন অপেক্ষা অধিক হবে।
শুধু ১২ রবিউল আউয়াল নবীজীকে স্মরণ করলে চলবে না। সবসময় নবীজীকে স্মরণে রাখতে হবে, সঙ্গে রাখতে হবে। আমাদের জীবনের প্রতিমুহূর্ত নবীজীর জীবনের আলোকে সাজাতে হবে। নবীজী যে সময় যা করেছেন আমাদেরও তাই করতে হবে।
