হেমন্ত বিশ্ব শর্মার হুমকি ও ইতিহাসের পাঠ: স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রদূত হুসাইন আহমদ মাদানীর উত্তরসূরি মfহমুদ মাদানী
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি সংখ্যালঘুদের ওপর দমননীতি চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুলডোজার দিয়ে তাদের বাড়িঘর ভাঙা, বেনাগরিক করার পরিকল্পনা; এসবের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মfহমুদ মাদানী। তিনি হেমন্ত বিশ্ব শর্মাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানালে পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বাংলাদেশ পাঠানোর হুমকি দেন। এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, মfহমুদ মাদানী এমন এক পরিবারের উত্তরসূরি, যাঁদের পূর্বপুরুষেরা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর পিতামহ আল্লামা সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানি (রহ.) ছিলেন প্রথম সারির স্বাধীনতা সংগ্রামী, যিনি শুধু রাজনীতি নয়, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক নেতৃত্বের মাধ্যমেও জাতিকে দিশা দিয়েছিলেন। ১৮৭৯ সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার বাঙ্গারমৌ গ্রামে জন্মগ্রহণ করা হুসাইন আহমদ মাদানি কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার পর ১৮৯৮ সালে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন এবং অল্প বয়সেই উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে প্রায় ১৮ বছর তিনি মদিনায় অবস্থান করেন এবং মসজিদে নববীতে হাদিসের দরস দিতেন। বৈচিত্র্যময় আন্তর্জাতিক পরিবেশ তাঁকে বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। পরবর্তীতে তিনি শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দির নেতৃত্বে ঐতিহাসিক রেশমি রুমাল আন্দোলনে যুক্ত হন। এ আন্দোলনের কারণে তাঁকে কারাগার থেকে মাল্টা দ্বীপে তিন বছর সাত মাস নির্বাসিত থাকতে হয়।
নির্বাসনকালে তাঁর পরিবার ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে; বাড়িঘর লুণ্ঠিত হয়, বাবা-মা-স্ত্রী-সন্তান সবাই মৃত্যুবরণ করেন। দেশে ফিরে তিনি কংগ্রেস, খেলাফত আন্দোলন ও জমিয়তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন। ১৯২১ সালে ব্রিটিশবিরোধী ফতোয়া দেওয়ার অভিযোগে আবারও কারাবরণ করেন। মুক্তির পর তিনি সিলেটে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তীতে আজীবন দেওবন্দের ‘সদরে মুদাররিস’ পদে থেকে জাতিকে শিক্ষা ও নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।
১৯৫৭ সালের ৫ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁকে দেওবন্দের ঐতিহ্যবাহী কাসেমি কবরস্থানে তাঁর প্রিয় শিক্ষক শায়খুল হিন্দের পাশে সমাহিত করা হয়। আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানি আজও ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়।
তাঁর উত্তরসূরি মfহমুদ মাদানী আজ যখন সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরব হচ্ছেন, তখন ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়; যাঁদের পূর্বপুরুষেরা স্বাধীনতার জন্য আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, তাঁদের সন্তানদের হুমকি দিয়ে ইতিহাসকে চাপা দেওয়া যায় না।
