1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  4. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  5. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  6. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  7. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  8. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৩১ অপরাহ্ন

বাঙলা সনের ইতিকথা ও কিছু প্রশ্নের নিরসন।

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০

বাঙলা সনের ইতিকথা ও কিছু প্রশ্নের নিরসন।

-ইয়াহইয়া শহিদ

(যাদের ইতিহাস পড়তে কষ্ট হয়, তারাও এই লেখাটা কষ্ট করে পড়েন। এগুলো আমাদের জানতে হবে।)

সময় বা কাল বিভাজনের প্রয়োজনীয়তা মানব সভ্যতা বিকাশের আদিযুগ থেকেই ছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি তাদের সময় বা কাল বিভাজনের ক্ষেত্রে নিজস্ব কিছু অব্দ বা সনের প্রচলন শুরু করে। আমাদের ভারত উপমহাদেশে পূর্বে অনেক অব্দের প্রচলন থাকলেও এখন আমরা তিনটা অব্দ বা সনের হিসাব দেখতে পাই। খ্রিষ্টীয় সন, হিজরি সন ও বাংলা সন। খ্রিষ্টীয় সন গণনা শুরু হজরত ঈসা আ. এর জন্মের দিন থেকে, হিজরি সন গণনা শুরু হয় হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মদিনায় হিজরতের দিন থেকে কিন্তু বাংলা সনের গণনা কবে কার মাধ্যমে শুরু হয় এইটা নিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে ইতিহাসবিদদের মতে।




আমরা যদি ইতিহাসের বই দেখি, তাহলে দেখবো বাংলা সনের প্রবর্তক হিশেবে দুই জনের কথাই বেশি বলা হয়েছে।

প্রথম মত অনুযায়ী – প্রাচীন বঙ্গদেশের (গৌড়) রাজা শশাঙ্ক (রাজত্বকাল আনুমানিক ৫৯০-৬২৫ খ্রীস্টপূর্ব) বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন। সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে শশাঙ্ক বঙ্গদেশের রাজচক্রবর্তী রাজা ছিলেন। আধুনিক বঙ্গ, বিহার এলাকা তার সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল৷ অনুমান করা হয় যে, জুলীয় বর্ষপঞ্জীর বৃহস্পতিবার ১৮ মার্চ ৫৯৪ এবং গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর শনিবার ২০ মার্চ ৫৯৪ বঙ্গাব্দের সূচনা হয়েছিল।

দ্বিতীয় মত অনুসারে, ইসলামী শাসনামলে হিজরি পঞ্জিকা অনুসারেই সকল কাজকর্ম পরিচালিত হত। মূল হিজরি পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের উপর নির্ভরশীল। চান্দ্র বৎসর সৌর বৎসরের চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়। কারণ সৌর বৎসর ৩৬৫ দিন, আর চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিন। একারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে না। আর বঙ্গদেশে চাষাবাদ ও এজাতীয় অনেক কাজ ঋতুনির্ভর। এজন্য মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে প্রচলিত হিজরি চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্রাট আকবর ইরান থেকে আগত বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমির ফতুল্লাহ শিরাজীকে হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জীকে সৌর বর্ষপঞ্জীতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ফতুল্লাহ শিরাজীর সুপারিশে পারস্যে প্রচলিত ফার্সি বর্ষপঞ্জীর অনুকরণে ৯৯২ হিজরি মোতাবেক ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর হিজরি সৌর বর্ষপঞ্জীর প্রচলন করেন। তবে তিনি ঊনত্রিশ বছর পূর্বে তার সিংহাসন আরোহণের বছর থেকে এ পঞ্জিকা প্রচলনের নির্দেশ দেন। এজন্য ৯৬৩ হিজরি সাল থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। ৯৬৩ হিজরি সালের মুহররম মাস ছিল বাংলা বৈশাখ মাস, এজন্য বৈশাখ মাসকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং ১লা বৈশাখকে নববর্ষ ধরা হয়।




এই হলো মোটামুটি বাংলা সনের ইতিহাস। পাঠক যদি ভালো করে বুঝেশুঝে উপরের কথাগুলো পড়ে থাকেন তাহলে আপনাদের মনে কিছু প্রশ্ন জাগারই কথা। মূলত আমি এই প্রশ্নগুলো পরিষ্কার করতে লেখাটি লেখছি।

যদি আমরা প্রথম কথা অনুযায়ী গৌড় রাজা শশাঙ্ককে বাংলা সনের প্রবর্তক ধরি, তাহলে তিনি যদি ৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা সনের প্রচলন শুরু করেন তাহলে আজকে বাংলা সনের ১৪২৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। হিসাবে কোনো গড়মিল নেই। কিন্তু ইতিহাসবিদরা এই মতটার উপর দ্বিতীয় মতটাকে প্রাধান্য দিয়েছেন; কারণ এই মতের ভিত্তি খুবই দুর্বল। দ্বিতীয় মতানুযায়ী মুসলিম শাসক সম্রাট আকবর ৯৯২ হিজরি মোতাবেক ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা সনের প্রচলন শুরু করলেও ৯৬৩ হিজরি মোতাবেক ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাংলা সনের গণনা শুরু করা হয়। সে অনুযায়ী আজকে ২০২০ এ এসে বাংলা সনের ৪৬৫ বছর পূর্ণ হয়। এখন প্রশ্ন হলো তাহলে আজ ১৪২৭ বাংলা কিভাবে হল?




এখানে আমি আমার ব্যক্তিগত গবেষণায় উত্তরটা দিচ্ছি, কোনো ইতিহাসের বইয়ে এই প্রশ্নের উত্তর থাকলেও আমি পাইনি৷

আমি যা বুঝেছি তা হলো, বাদশাহ আকবর ৯৬৩ হিজরিতে হিজরি সনের সাথে মিল রেখেই বাংলা সনের গণনা শুরু করেন। অর্থাৎ বাংলা সনের প্রথম বর্ষকে ১ বঙ্গাব্দ হিসেবে গণনা শুরু না করে প্রথম সালকেই হিজরি সনের সাথে মিল রেখে ৯৬৩ বঙ্গাব্দ হিসেবেই বাংলা সনের গণনা শুরু করেন। মূলত বাদশাহ আকবর নতুন কোনো সন আবিষ্কার করেন নি, বরং খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে হিজরি চন্দ্র সনকে বাংলা সৌর সনে রুপান্তরিত করেন। ৯৬৩ এর সাথে পরের ৪৬৫ যোগ করলে ১৪২৭ বছরই হয়। সেক্ষেত্রে আজ বাংলা সনের ৪৬৫ বছর পূর্ণ হলেও যেহেতু প্রথম সনই ছিলো ৯৬৩, তাই ৯৬৩ এর সাথে ৪৬৫ যোগ করে আজ বাংলা ১৪২৭ নববর্ষে পদার্পণ করছে।




প্রশ্ন হতে পারে ৯৬৩ হিজরিতে যদি হিজরি সনের সাথে মিল রেখেই গণনা শুরু হয় তাহলে হিজরি সনের সাথে ১৪ বছরের অমিল কেন? এই প্রশ্নের উত্তর একদমই সহজ, বাংলা যেহেতু সৌর সন এবং হিজরি চন্দ্র সন আর সৌর ও চন্দ্র সনের মধ্যে এক বছরে ব্যবধান হয় ১১ দিনের, সে অনুযায়ি ৪৬৫ বছরে চন্দ্র সন থেকে সৌর সনে দিন কমেছে ৫১১৫ দিন; যা বছরের গণনায় ১৪ বছর থেকে কিছু বেশি। সুতরাং ১৪২৭ এর সাথে এই ১৪ বছর যোগ করলে ১৪৪১ হয়ে যাবে। হিজরি সনের সাথেও অমিল দেখা যায় না।

এখন প্রশ্ন হলো আমার এই বিশ্লেষণ যদি সত্যি হহয় তাহলে বাদশাহ আকবর কেন বাংলা সনের প্রথম বর্ষের গণনা ৯৬৩ বঙ্গাব্দ থেকে শুরু করলেন ১ বঙ্গাব্দ থেকে কেন শুরু করলেন না? এই প্রশ্নের উত্তরও একান্ত আমার নিজের পক্ষ থেকে দেওয়া, আমি কোথাও পাইনি।




বাংলা সনের সূচনার পূর্বে বাদশাহ আকিবরের রাজত্বের পূর্বের সকল হিসাব হিজরি সন অনুযায়ী ছিল।
বাদশাহ আকবর যেহেতু খাজনা বা কর আদায়ের সুবিধার্থে হিজরি সনকে বাংলা সনে রুপান্তরিত করেছিলেন, তাই যদি বাংলা সনের প্রথম বর্ষের গণনা ১ বঙ্গাব্দ থেকে শুরু করতেন, তাহলে পিছনের হিসাবের সাথে সামনের হিসাবের একটা ঝামেলা সৃষ্টি হতো৷ তাই হিসাবের সুবিধার্থে তিনি ১ বঙ্গাব্দ থেকে বাংলা সনের গণনা শুরু না করে হিজরি সনের সাথে মিল রেখেই ৯৬৩ সন থেকে বঙ্গাব্দের হিসাব শুরু করেন। আর পরবর্তী এই সময়ে হিজরি আর বাংলা সনে ১৪ বছরের একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে।




এই একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ। ভুলও হতে পারে, আপনাদের কাছে যদি এই সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকে আমাকে জানাতে পারেন। উপকৃত হব।

দুঃখের একটা কথা বলি!
আমরা এখনকার মুসলমানদের অর্জন বলতে আসলে কিছু নেই, বাংলা সনের প্রবর্তক মুসলিম শাসক হওয়ার পরও আজ বাংলা সনটাও বিধর্মীদের দখলে। এই সনের সাথে তারা তাদের ঐতিহ্য মিলিয়ে নিয়েছে, মিলিয়ে নিয়েছে ধর্মীয় কিছু আচারও। আমরা কেবল হারাতে পারি অর্জন করতে পারি না। এখনো সময় আছে, আমরা কিছু অর্জন করি। আর কত হারাবেন!

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir