1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  4. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  5. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  6. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  7. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  8. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
  9. zahidnahid68@gmail.com : Hafiz Zahid : Hafiz Zahid
মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন

সহীহ হাদীস: ভ্রান্তি ও প্রান্তিকতা।

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২০

মুহতারাম জাহিদ যাওয়াদ হাফি.
ইজমা ও তাওয়াতুরে আমালী,সহীহ হাদীস,জয়ীফ হাদীস। শরীয়তের তিনটি উৎস। গ্রহনযোগ্যতার বিচারে তারতম্য থাকলেও প্রত্যেকটির রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, অবস্থান ও মর্যাদা। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো আমাদের দেশসহ সারাবিশ্বেই এক শ্রেণীর মুসলিম ভাইদের মাঝে “সহীহ হাদীস”কেন্দ্রিক অতি উৎসাহ কাজ করে।ইমামগণ সহীহ হাদীসের অনুসরণ করতে বলেছেন এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু তাই বলে এটাকে কেন্দ্র করে এতোটা বাড়াবাড়ি করা যার দরুন শরীয়তের অন্য মুলনীতিগুলোর অবমূল্যায়ন বরং ক্ষেত্রবিশেষে অবমাননা হয়ে যায়, এমন আচরণের কথা নিশ্চয় কেউ বলেননি।
এবার এই তিন পরিভাষার খোলাসাটা বলি।ইজমা ও তাওয়াতুরে আমালী বলা হয়”কোন একটি বিষয়ে উম্মতের ইমামগণ ঐক্যমতে পৌঁছা বা তাঁদের প্রতক্ষ্য-পরোক্ষ সমর্থনে জনসাধারণের মাঝে ব্যাপকভাবে সেটির চর্চা থাকা।”




আর সহীহ ও যয়ীফ হাদীস উভয়টিই মুলত খবরে ওয়াহিদের প্রকার। অর্থাৎ যেটি অল্প সংখ্যক রাবী উদাহরণ স্বরূপ এক-দুইজনের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু পার্থক্য হলো সহীহ হাদীসের সমস্ত রাবীই নির্ভরযোগ্য হয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে যয়ীফ হাদীসের রাবীদের সবাই অথবা কেউ কেউ নির্ভরযোগ্যতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন।
আশাকরি পাঠক বন্ধুরা ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন যে,সহীহ হাদীসের সনদ যত শক্তিশালীই হোক না কেন দিনশেষে সেটা খবরে ওয়াহিদ।তাই সেটির মর্যাদা যয়ীফ হাদীসের ঊর্ধে হলেও ইজমা ও তাওয়াতুরের নীচে।
প্রান্তিকতার প্রথম দিক:
ইজমা ও তাওয়াতুরে আমালীর অবমূল্যায়ন।
সহীহ হাদীসকে তারা এত ঊর্ধ্বে স্থান দেন যে,এর বিপরীতে অনেক সময় ইজমা ও তাওয়াতুরে আমালীকেও মানতে চাননা,সহীহ হাদীসকে প্রাধান্য দিয়ে বসেন।অথচ ইমামগণ খবরে ওয়াহিদের উপর ইজমা ও তাওয়াতুরে আমালীকে প্রাধান্য দিতেন।
ইমাম রবীআ ইবনে আবু আব্দুর রহমান (১৩৬হি:),ইমাম মালেক রহ.এর বিশিষ্ট উস্তাদ,মদীনার মুজতাহিদ ইমাম। তিনি বলেছেন, “হাজার থেকে হাজার লোকের সূত্রের বর্ণনা(তাওয়াতুরে আমালী তথা অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা)আমার কাছে একজন থেকে একজনের সূত্রের বর্ণনা(খবরে ওয়াহিদ)থেকে অধিক প্রিয়।”(তারতিবুল মাদারিক)
ইমাম শাফেয়ী রহ.(২০৪হি:)বলেন,”খবরে ওয়াহিদের তুলনায় ইজমা অধিক গুরুত্বপূর্ণ”।(কিফায়া,৪৬৯)
ইমাম ইবনুল মুবারক রহ.(১৮১হি:)বলেন, “কোন বিষয়ে মানুষের ইজমা(ঐক্যমত) আমার কাছে সুফিয়ান থেকে মানসুর, থেকে ইব্রাহীম থেকে আলকামা থেকে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ এর বর্ণনা থেকেও অধিক নির্ভরযোগ্য।”(কিফায়াহ,৪৬৬,তিনি এখানে ইজমাকে খবরে ওয়াহিদের সবচেয়ে সহীহ সনদগুলোর একটির উপর প্রাধান্য দিলেন)




প্রান্তিকতার দ্বিতীয় দিক:
যয়ীফ হাদীসের অবমূল্যায়ন ও অবমাননা।
যয়ীফ হাদীসকে তারা এতটা হালকাভাবে উপস্থাপন করেন মনে যেন শরীয়তে এটার কোন গুরুত্বই নেই।এমনকি যয়ীফ ও মওযুকে এক শিরোনামে এনে কিতাবও রচনা করেছেন।
আফসোস!অথচ মওযু হাদীস একেবারেই পরিত্যাজ্য হলেও শরীয়তে যয়ীফ হাদীসের অনেক প্রয়োগ ক্ষেত্র রয়েছে। ইমামগণ এটিকে তার অবস্থান অনুযায়ী মূল্যায়ন ও গুরুত্ব দিতেন।
যয়ীফ হাদীসের কিছু প্রয়োগ ক্ষেত্র:
১.
যয়ীফ হাদীস জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামাগণের মতে ফাযায়েল ও মুস্তাহাবের ক্ষেত্রে গ্রহন করা যায়।
আর যদি ভিন্নভাবে শক্তিশালী হয়ে হাসান বা সহীহ হাদীসের স্তরে উন্নীত হয় তাহলে আহলে ইলমের ঐক্যমতে সেটিকে আহকামের ক্ষেত্রেও গ্রহন করা যায়।




আর ইমাম আবু হানিফা, মালেক,আহমাদ,আবু দাউদ,নাসাই রহ.প্রমুখের মতে হাদীসটি যদি খুব বেশি দূর্বল না হয় এবং উক্ত মাসআলায় অন্য কোন হাদীস না থাকে তাহলে এই দুই শর্তে আহকামের ক্ষেত্রেও যয়ীফ হাদীস গ্রহনযোগ্য হয়। এমনকি ইমাম শাফেয়ীও শর্তসাপেক্ষে মুরসাল হাদীস-যয়ীফ হওয়া সত্ত্বেও-গ্রহন করেছেন।
২.
যয়ীফ হাদীসের মাধ্যমে বিপরীতমুখী দুই হাদীসের মাঝে তারজীহ(প্রাধান্য)দেয়া।ইমাম নববী “আলমাজমু”তে বলেছেন,”মুরসালের(একধরনের যয়ীফ) মাধ্যমে তারজীহ দেয়া বৈধ।”
৩.
কোন হাদীসে একাধিক অর্থের সম্ভাবনা থাকলে যয়ীফ হাদীসের সাহায্যে একটি অর্থকে প্রাধান্য দেয়া।ইমাম বায়হাকী রহ.”দালাইলুন নুবুওয়াতে”বলেছেন,সহীহ হাদীস থেকে উদ্দিষ্ট অর্থ উদ্ধারের জন্য কখনো যয়ীফ হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে।”
৪.
কোন আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরীনদের ইখতেলাফ থাকলে যেকোনো একটিকে যয়ীফ হাদীসের সাহায্যে প্রাধান্য দেয়া।ইমাম ইবনে জুযাই মালেকী রহ.বলেন,”আয়াতের ব্যাখ্যায় হাদীস থাকলে সেটার উপরই নির্ভর করতে হবে, বিশেষত সহীহ রেওয়ায়াত থাকলে”।




৫.
সহীহ হাদীসে বর্ণিত কোন বিষয়ের হেকমত বর্ণনা।আল্লামা ইউসুফ বানুরী রহ.”মাআরিফুস সুনানে”বলেছেন,”সনদ যয়ীফ হলেও হেকমত বর্ণনার জন্য সেটি আনা যেতে পারে”।(আসারুল হাদীসীশ শরীফ,৩৬-৪১)
প্রিয় ভাই!
একজন মুমিনের দায়িত্ব হল বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি থেকে মুক্ত হয়ে শরীয়তের প্রতিটি বিষয়কে ইনসাফের সাথে মূল্যায়ন করা।ছোট থেকে ছোট বিষয়কেও অবহেলা না করা।আল্লাহ তায়ালা বোঝার,আমলের তাওফীক দান করুন। আমীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir