1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  4. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  5. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  6. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  7. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  8. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
  9. zahidnahid68@gmail.com : Hafiz Zahid : Hafiz Zahid
মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

রামাযানের শেষ দশক ও লাইলাতুল কাদর

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১০ মে, ২০২০

 

প্রিয় পাঠক! দেখতে দেখতে আমরা রামাযানের শেষ দিকে উপনীত হতে যাচ্ছি। রামাযান আমাদের কাছ থেকে বিদায়ের প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে।সৌভাগ্যবান ঐ সমস্ত লোক যারা, রামাযানে ইবাদত- বন্দেগির মাধ্যমে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করছে। আর হতভাগারা এখনও অন্ধকারের অতল গহ্বরে হাবুডুবু খাচ্ছে।তবে আল্লাহর রহমত শেষ হয়ে যায়নি। তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি। বরং আরো বেশি সুযোগ নিয়ে রামাযানের শেষ দশক আমাদের সমনে সমাগত। তাই আসুন! আমরা শেষ দশকের কাজ জেনে সে মুতাবেক আমল করে নিজেকে করে নেই সৌভাগ্যবান, আল্লাহর প্রিয় বান্দা।
আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমীন।




নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম রামাযানের শেষ দশকে স্ত্রী-পরিবারসহ সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন।
হযরত আয়শা রাজি. বলেন,
كان رسول الله صلي الله عليه وسلم إذا دخل العشر شَدَّ مِئْزَرَهُ ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ ، وَأَيْقَظَ
أَهْلَهُ.رواه البخاري ومسلم.

“রামযানের শেষ দশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কমর বেঁধে নিতেন ( বেশি বেশি ইবাদাত করতেন) এবং নিজে সারা রাত সজাগ থাকতেন আর পরিবারকেও জাগাতেন।” ( বুখারী,মুসলিম)




অন্য হাদিসে আছে, রামাযানের শেষ দশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ( ইবাদত- বন্দেগিতে)এমন পরিশ্রম করতেন যা অন্য কোনো সময় করতেন না।
عن عائشة رضي الله عنها قالت: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَجْتَهِدُ فِى الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مَا لاَ يَجْتَهِدُ فِى غَيْرِهِ.رواه مسلم.
“হযরত আয়শা রাজি. বলেন,রাসূল সা. রামাযানের শেষ দশকে এমন পরিশ্রম করতেন যা অন্য কোনো সময় করতেন না।” (মুসলিম)

লাইলাতুল ক্বাদর।
বারো মাসের শ্রেষ্ঠ মাস রামাযান। এই রামাযান মাসে এমন একটি রজনী রয়েছে যাকে লাইলাতুল কাদর/ শবে কাদর বলা হয়। এ রাতকে লাইলাতুল মুবারকাও বলা হয়। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেনانا انزلناه في ليلة مباركة. । লাইলাতুল কাদরের ফজিলত অপরিসীম।এ রাতের মর্যাদা স্বরুপ মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পূূর্ণ একটি সূরা অবতীর্ণ করেছেন।মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,
انا أنزلناه في ليلة القدر. وماأدراك ما
ليلة القدر. ليلة القدر خير من ألف شهر. تنزل الملائكة والروح فيها من كل أمر.سلام هي حتي مطلع الفجر.
“অবশ্যই আমি এ(গ্রন্থ)টি এক মর্যাদাপূর্ণ রাতে নাযিল করেছি। তুমি কি জান, সেই মর্যাদাপূর্ণ রাতটি কী? মর্যাদাপূর্ণ এ রাতটি হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই রাতে ফেরেশতা ও ( তাদের সর্দার) রুহ ( জিবরিল) তাদের মালিকের সব ধরনের আদেশ নিয়ে (জমিনে) অবতরণ করেন। (সে আদেশবার্তা হচ্ছে চিরন্তন) প্রশান্তি, তা ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত থাকে।”




হাদিস শরিফে রাসূল সা. বলেন,
مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় শবে কাদরে রাত জাগরণ করে নফল নামায ও ইবাদত বন্দেগী করবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।”
এরাতে বান্দার প্রতি আল্লাহর খাস রহমত নাযিল হয়।হযরত আনাস রাজি. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. বলেন
إِذَا كَانَ ليلة القدر نزل جِبرِيل عليه السلام في كبكبة من الملائكة يُصلون علي كل عبد قائم أو قاعد يذكر الله عزّ وجلّ.
কাদরের রাতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম ফেরেশতাদের এক জামাত নিয়ে জমিনে অবতরণ করে আল্লাহর যে বান্দা দাঁড়িয়ে বা শুয়ে আল্লাহর জিকিরে মগ্ন তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন।




শবে কাদর কোন্ দিন?
শবে কাদরের জন্য কোনো দিন বা তারিখ নির্দিষ্ট নয়। বরং রামাযানের যে কোনো দিন শবে কদর অতিবাহিত হতে পরে।
عن ابن عمر رضي الله عنه قال: سئل رسول الله صلي الله عليه وسلم عن ليلة القدر فقال هي في كل رمضان.رواه ابوداود .
” ইবনে উমর রাজি. হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সা.কে শবে কাদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রাসূল সা. বললেন, তা পুরো রামাযানে হতে পারে।”( আবু দাউদ)
তবে রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কাদর হওয়ার বেশি সম্ভাবনা রয়েছে।




হযরত আয়শা (রা:) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ . رواه اليخاري

“তোমরা রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধান কর।”

আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

« أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أَيْقَظَنِى بَعْضُ أَهْلِى فَنُسِّيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِى الْعَشْرِ الْغَوَابِرِ

“স্বপ্নে আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হলো। কিন্তু আমার এক স্ত্রী আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়ায় আমি তা ভুলে গিয়েছি। অতএব, তোমরা তা রামাযানের শেষ দশকে অনুসন্ধান কর।”




উবাদা ইবনে সামিত রাজি. বর্ণনায় রয়েছে, দু’ব্যক্তির বিবাদের কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা ভুলে গেছেন। (বুখারী শরিফ)
ইবনে উমর রাজি. বলেন,
أَنَّ رِجَالاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ – صلى الله عليه وسلم – أُرُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْمَنَامِ فِى السَّبْعِ الأَوَاخِرِ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – « أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِى السَّبْعِ الأَوَاخِرِ ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِى السَّبْعِ الأَوَاخِرِ

নবি সা. এর কয়েকজন সাহাবী স্বপযোগে রামাযানের শেষ সাত রাত্রিতে শবে কদর হতে দেখেছেন। সাহাবীদের এ স্বপ্নের কথা জানতে পেরে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্নগুলো মিলে যাচ্ছে শেষ সাত রাত্রি ব্যাপারে। সুতরাং কেউ যদি লাইলাতুল কাদর অনুসন্ধান করতে চায়, তবে সে যেন শেষ সাত রাতে অনুসন্ধান করে।” (বুখারি,মুসলিম)
রামযানের সাতাশতম রাতেই কি শবে কাদর?
আমাদের দেশে সাধারণত লোকেরা রামযানের সাতাশতম রাতকেই শবে কাদর মনে করে রাত জাগরণ করে। এবং নফল ইবাদাত বন্দেগী করে। কিন্তু এটা সুন্নাহর সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।কেননা, হাদিসে শুধু সাতাশতম রাতকে শবে কাদর বলা হয়নি। বরং রামযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত অর্থাৎ ২১,২৩, ২৫, ২৭,২৯ এ পাঁচটি রাতে শবে কদর তালাশ করার জন্য বলা হয়েছে। সুতরাং শুধু সাতাশতম রাতকে নির্দিষ্ট না করে উল্লিখিত পাঁচ রাতে শবে কদর তালাশ করা এবং এরাতগুলোয় নফল ইবাদতে মশগুল হওয়া উচিত।




শবে কদরের বিশেষ দুয়া, উম্মুল মুমিন হযরত আয়শা রাজি. থেকে বর্ণিত
তিনি বলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি যে, কোন্ রাতটি লাইলাতুল কাদর তাহলে তখন কোন দুয়াটি পাঠ করব? তিনি বললেন, তুমি বলো,

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّى

“হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল মর্যাদাবান । আপনি ক্ষমা করা পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।”
আল্লাহ আমদের সবাই শবে কাদর পাওয়ার এবং সে রাতে বেশি বেশি নফল ইবাদাত- বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন, আমীন।

লেখক:-সিনিয়র  উসতায,জামিয়া বহরগ্রাম,গোলাপগঞ্জ,সিলেট।

নিউজটি শেয়ার করুন

২ thoughts on "রামাযানের শেষ দশক ও লাইলাতুল কাদর"

  1. k m ibrahim khalil says:

    মদিনা থেকে কবে গেছেন।

  2. k m ibrahim khalil says:

    মাশাআল্লাহ! অনেক সুন্দর লিখেছেন,দোয়া করি আল্লাহ যেন সবাই কে আমল করার তাওফিক দেন। আমিন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir