1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  4. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  5. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  6. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  7. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  8. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কৈশোর ও আমাদের শিক্ষা।

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০

 হালিমাতুন মুনিয়া মুন //

সমাজ জীবন যখন বিশৃঙ্খলায় উত্তপ্ত, কুসংস্কার ও বিচ্ছিন্নতার অশুভ প্রেতনৃত্যে যখন চতুর্দিক আচ্ছন্ন,পরিবেশ যেখানে বিষাক্ত ও কুলষিত,জীবনের সর্বক্ষেত্রেই যখন অবক্ষয়ের লক্ষণ সুস্পষ্ট, অজ্ঞানতার তামসিকতায় মানুষ যখন সুপ্তিমগ্ন,দিশেহারা ;তখনই পথভ্রষ্ট মানুষকে তার হতাশা থেকে,রুদ্ধশ্বাস অসহায় অবস্থা থেকে মুক্ত করার জন্যে ধরাধামে আবির্ভাব ঘটে জ্যোতির্ময় মহামানবের।




সত্যের জ্যোতিতে বিশ্বলোক হয় উদ্ভাসিত।তারই আদর্শ ও সত্য-দৃষ্টি বিভ্রান্ত মানুষকে মুক্তিমন্ত্রে উজ্জীবিত করে।করে নিত্য-নতুন কল্যাণবোধে উদ্দীপ্ত।




এমনি করেই যুগে যুগে কত মহাপুরুষের পুণ্য আবির্ভাবে, অসহায় -পঙ্গু মানুষ খুঁজে পেয়েছে অন্ধকারে আলো, হতাশায় আশ্বাস, দুঃখে শান্তনা।





মধ্যযুগের আরব জাতির জীবনেও ছিল এরকমই হতাশা, কুপ্রথা, মূর্তিপূজা, কুসংস্কারের পঙ্কিলতায় আচ্ছন্ন। জড়তাগ্রস্ত, হতাশাচ্ছন্ন ও অন্ধ -তামসিকতামগ্ন আরবজাতিকে মুক্তি দিতে এলেন আল্লাহ প্রেরিত মহাপুরুষ, মানব মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ সা.।পৃথিবী হলো আলোকময়।

:


মহানবী সা. এর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা,বাল্য ও শৈশবকালের কান্নাকে পেছনে ফেলে কৈশোর বয়সে রাসূল সা. মানব মুক্তির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।শৈশব কৈশোরের সততা, কোমল স্বভাব ও অপরিসীম কর্তব্যবোধ, অকৃত্রিম সাধুতা প্রভৃতি গুণাবলির জন্যে তাকে সর্বশ্রেণীর লোকজন “আল আমিন” বা “বিশ্বাসী” উপাধিতে ভূষিত করেন।কৈশোর কাল থেকেই রাসূল সা.ছিলেন সংকল্পে অটল,অবিচল, কোনো প্রকার লোভ, অত্যাচার, ক্ষমতা- মোহ কিছুই তাকে সংকল্প থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।




সমুদয় বাধা- বিঘ্ন অতিক্রম করে নিজের জীবনকে তাই তিনি সুষমামণ্ডিত করতে পেরেছিলেন।তার অন্তঃকরণে ছিল দুর্জয় সাহস বিপৎপাতে অসীম ধৈর্য, বিপন্মুক্তিতে চিত্তপ্রসাদ-কৈশোর কালের এসব মহৎ গুণের প্রভাবেই তিনি পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে পরিগণিত হয়ে আছেন। মুহাম্মদ(স)দিব্যকান্তিবিশিষ্ট সুদর্শন পুরুষ ছিলেন।




কৈশোরে তার অবয়ব থেকে প্রতিভা ও দৃঢ়সংকল্পের যে জ্যোতি স্ফুরিত হত, তা সবাইকে মুগ্ধ করত।তার বাক্য এমন কোমল মধুর ও মনোহর ছিল যে, শত্রুরা পর্যন্ত তার আকর্ষণীয় শক্তি অনুভব করে বলত,”মুহাম্মাদের বাক্যে ইন্দ্রজাল আছে।”




তিনি যেমন আধ্যাত্মিক বিষয়ে তেমনি বাহ্য-বেশ -বিন্যাসেও আদর্শ স্থানীয় ছিলেন। কৈশোর থেকেই হজরত মুহাম্মদ সা.এমন শিষ্টাচারী ছিলেন যে,কারো সঙ্গে দেখা হলে তিনিই অগ্রবর্তী হয়ে সালাম দিতেন।




বিশ্বনবী, মহাসাধক,মহাজ্ঞানী হযরত মুহাম্মাদ  সা. হলেন আদর্শের মূর্ত প্রতীক।তার গোটা জীবন আমাদের কাছে শিক্ষণীয় ।তিনি ছিলেন সত্যের সাধক এক আদর্শ মহামানব।তার জীবন আমাদের কাছে একটি বই স্বরূপ।এই বইয়ের প্রতিটি পাতায় রয়েছে মানবাধিকার, সত্যবাদীতা, সহনশীলতা, আত্মবিশ্বাসী, ন্যায়পরায়ণতা, সরল ও অনাড়ম্বর জীবন, বদান্যতা ও নম্রতা, ক্ষমাশীলতা আর আত্মপ্রত্যয়ের এক বিশাল সম্ভার। এই বই আত্মস্থ করে আমরা জীবনের প্রকৃত মর্মার্থ  অনুধাবন করতে পারি,শুধু বেঁচে থাকাতেই যে প্রকৃত সুখ না বরং অন্যের দুঃখ দূর্দশা দূর করার মাঝেই যে প্রকৃত সুখ নিহিত তা আমরা রাসূল সা. এর জীবন থেকে জেনেছি।




দৈনন্দিন জীবনে মার্জিত ও ভদ্র আচরণ, অসাধ্য কাজটি সুসম্পন্ন করার জন্য অবিচল উৎসাহ, দেশকে ভালোবাসার কর্তব্য,ভ্রাতৃত্ববোধ,সহমর্মিতা,পারস্পরিক সহযোগিতা এসব উল্লেখ্যযোগ্য দিকগুলো আমরা রাসূল সা.এর জীবন থেকেই শিক্ষা লাভ করি।

লেখিকা:-“ইজহারে হক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা ‘২০” এ প্রথম স্থান অর্জনকারী।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir