1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  4. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  5. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  6. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  7. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  8. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
  9. zahidnahid68@gmail.com : Hafiz Zahid : Hafiz Zahid
মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন

নবিজির কৈশোর ও আমাদের শিক্ষা

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

তোফায়েল আহমদ আতিক //

পুরো পৃথিবী তখন জাহেলী আঁধারে নিমজ্জিত। বর্বরতা ও পাশবিকতায় ছেয়ে ছিল গোটা সমাজ। আশরাফুল মাখলুকাত পরিণত হয়েছিল সর্বনিকৃষ্ট প্রাণীতে। অন্যায় অত্যাচার ও সর্বপ্রকার কুসংস্কারের প্রবাহ পৌঁছেছিল সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।



গোটা সমাজ পঁচে গিয়েছিল মিথ্যার দুর্গন্ধে। একটুখানি প্রশান্তির তরে হাহুতাশ করেছিল মানবতা। ঠিক এমনি নাজুক মুহূর্তে মা আমেনার ঘরে উদিত হলো এক সোনালি রবির। যার আলোতে মা আমেনা অবলোকন করেছিলেন রুম ও পারস্যের প্রাসাদসমূহ।




জন্ম হয়েছিল শিশু মুহাম্মাদের। আনন্দে ভরে ওঠেছিল মা আমেনার ছোট্ট কুটির। এ বিস্ময় বালকের পৃথিবীতে আগমনকালে ঘটেছিল বহু অস্বাভাবিক ঘটনা। সিরাতগ্রন্থসমূহের পাতায় পাতায় যেগুলোর বর্ণনা আজও সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ।




আরবের প্রথানুযায়ী বনু সা’দের হাওয়াযেন গোত্রের মহিয়সী রমণী হালিমা সাদিয়ার কাছে অর্পিত হন তিনি দুগ্ধ পানের জন্য। শিশু মুহাম্মাদকে কোলে নেয়ার পরই খুলে যায় মা হালিমার ভাগ্যদোর। সবকিছুতেই অস্বাভাবিক পরিবর্তন চলে আসে শিশু মুহাম্মাদের বরকতে।




তিনি বুঝে নেন এ শিশু সাধারণ কেউ নয়। মা আমেনা প্রত্যক্ষ করেন তাঁর সবকিছুতেই ব্যতিক্রম। সাধারণত বাচ্চাদের শৈশব যেমন হয় তারচে ভিন্ন ছিল শিশু মুহাম্মাদের চালচলন।




তিনি দুধমাতার একটি স্তন পান করতেন, অপরটি রেখে দিতেন দুধভাইয়ের জন্য। একটি শিশুর কাছ থেকে প্রস্ফুটিত হচ্ছে কেমন ইনসাফের নমুনা! এ বিষয়গুলো এদিকেই ইঙ্গিত করছিল, তিনি হবেন ইনসাফ মানবতার পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী।




হালিমা সাদিয়া দু’বছর দুধ পান করিয়ে মা আমেনার কাছে ফিরিয়ে দেন তাঁকে। পরে মক্কায় মহামারি এসে পড়ায় আবার কিছুদিন তাঁকে লালনপালনের দায়িত্ব পালন করেন হালিমা সাদিয়া।




শিশু মুহাম্মাদ জন্মের পূর্বেই হারিয়ে ফেলেন পিতৃস্নেহ। মাত্র ছ’বছর বয়সে হারিয়ে ফেলেন মায়ের আদর। দাদা আবদুল মুত্তালিবের প্রযত্নে বেড়ে ওঠেছিলেন তিনি। আট বছর দু’মাস বয়সে দাদাও চলে যান পরপারে। দাদার ইন্তেকালের পর তিনি চাচা আবু তালিবের স্নেহপরশে বেড়ে ওঠতে থাকেন।




বালক মুহাম্মাদ সবার প্রিয়পাত্র। সকলের আস্থাভাজন। একজন সাফ সত্যবাদী। মিথ্যার কালিমা তার যবান স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি সবারচে আলাদা এক কিশোর। তাঁর চালচলন, আচার ব্যবহার মুগ্ধ করতো সবাইকে।




তিনি কোনো সাধারণ কিশোর না। তাঁকে মহান রব পাঠিয়েছেন আঁধার জগতে আলোকবর্তিকা করে। তাঁর মাধ্যমে ফিরে আসবে মানবতা।





তিনি শিখিয়েছেন মানবতার সবক। শৈশবে তিনি যেভাবে হালিমা সাদিয়ার বকরি চরিয়েছেন মাঠে, কৈশোরেও চাচা আবু তালিবের ব্যবসার কাজে জড়িত ছিলেন। উদ্যমী ও কর্মঠ হওয়ার সবক আমাদেরকে দিয়েছেন কিশোর মুহাম্মাদ।




মহানবী সা. এর গোটা জীবনই আমাদের জন্য আদর্শ ও অনুকরণীয়। শৈশবের পর কৈশোরেই তিনি মানবতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর সততা, সৎ স্বভাব ও কোমল আচরণের জন্য তখনই সর্বশ্রেণীর লোক তাঁকে ‘আল আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। কৈশোরকাল থেকেই তিনি ছিলেন সংকল্পে অবিচল। কোনো প্রকার লোভ লালসা তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি। সমুদয় বাধা বিপত্তি পায়ে দলে তিনি নিজেকে তৈরি করছিলেন একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে।




সত্য সুন্দর ও আলোকিত পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে তিনি করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রম। পরের কল্যাণে উৎসর্গ করেছেন নিজের জীবন। কৈশোরের এসব মহান গুণাবলীর প্রভাবেই তিনি হতে পেরেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। শিষ্টাচার, সভ্যতা ও স্বীয় প্রতিভায় তিনি ছিলেন অতুলনীয়।





আলোকিত সমাজ গঠনে কৈশোরেই তিনি ছিলেন বদ্ধপরিকর।  একটি সুষ্ঠু সমাজ ও আলোকিত মানুষ হবার দ্যুতি আমরা সে মহামানবের কৈশোর জীবন থেকেই আহরণ করতে পারি। প্রেম মমতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার সবক নিতে পারি কিশোর মুহাম্মাদের সোনালি কৈশোর থেকে।

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

লেখক:- ইজহারে হক প্রবন্ধ বিজয়ী।




নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on "নবিজির কৈশোর ও আমাদের শিক্ষা"

  1. তোফায়েল আহমদ আতিক says:

    আলহামদুলিল্লাহ। ইজহারে হক পরিবারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir