1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  4. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  5. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  6. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  7. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  8. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

আমার দেখা মাওলানা রূহুল আমিন আস’আদি || মুহাম্মদ জাবির আহমদ

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

আমার দেখা মাওলানা রূহুল আমিন আস’আদি

আল্লাহ সুবহানাহু তায়া’লার অশেষ দয়ায় যে সকল প্রথিতযশা ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ক্ষণজন্মা চিন্তাশীল আলেম বাংলাদেশের সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করে এ অধ:পতনের যুগে জাতিকে ইলমে ওহী জ্ঞানের আলোকে সঠিক পথে পরিচালনার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন: পার্থিব লোভ-লালসা ও ক্ষমতার মোহ যাদেরকে ন্যায় ও সত্যের আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র পদস্খলন ঘটাতে পারেনি, যারা অন্যায় ও অসত্যের নিকট কোনোদিন মাথা নত করেননি, ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে সারাটা জীবন যারা বিলীন করে গিয়েছেন।
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন; হযরতুল উসতায শাইখুল হাদীস মাওলানা রূহুল আমিন আসআদি হাফিযাহুল্লাহ।

 

 




 

মাওলানা শাইখ রূহুল আমিন আস’আদি দামাত বারাকাতুহুম আমার একজন প্রিয়-উস্তায ও মুরব্বি। আমি তাঁর সম্পর্কে কী লিখবো? যিনি আমাদের সকলের প্রাণপ্রিয়। আমাদের সন্তানের মতো আদর করেন। আমি যে-বছর হেদায়াতুন নাহু ক্লাসে পড়তাম, ওই বছর আমাদের জামেয়ায় কাওমী মাদ্রাসার সর্বোচ্ছ ক্লাস তাকমীল ফীল হাদীস ‘টাইটেল ক্লাস’ খোলা হয়, এবং এই বছরই হূযুর আমাদের মারকাযে শুভাগমণ করেন। প্রিয়-জামিয়া তাজুল উলূম দারুল হাদীস জাতুগ্রাম গোয়াইনঘাট-এ হূযুরের কাছে সহিহ বুখারি ১ম খন্ড, সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড, হেদায়া, আল-ফাউযুল কাবির পড়ার সৌভাগ্য হয়ে ছিলো। তিনি এখনও দারুল হাদীসের মসনদ অলংকৃত করে আছেন। অনেক দূরদূরান্ত থেকে জ্ঞান পিপাসুরা আসছে, এবং জ্ঞানী হচ্ছে।

 

 


বহূমূখী প্রতিভার অধিকারী। আমার দেখা তিনি একজন, দুনিয়াবিমূখী, আখেরাতমূখী অবিসংবাদিত এক ব্যক্তি। তিনি ব্যক্তিজীবনে নিরহংকার,সহজ-সরল একজন মানুষ। বিনয়-নম্রতা তাঁর ব্যক্তিত্বের পূর্ণতা। সততা ও তাকওয়াপূর্ণ তিনির জীবনের বিরল দৃষ্টান্ত। তাঁর বক্তিত্বের কোন তুলনা হয়না। তাঁর জ্ঞানের গভীরতা টের পাওয়া যেতো দরসে বসলে। কতো যে ইলমের অধিকারী তিনি, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

 




 

তিনি’তো শায়খুল আরব ওয়াল আজম আল্লামা সায়্যিদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.’র শাগরিদ, তৎকালিন দারুল উলূম দেওবন্দের শাইখুল হাদীস মাওলানা শাইখ নাসির খাঁ রাহি. শাইখুল ইসলাম মুফতি সাঈদ পালনপুরী রাহি. মাওলানা আরশাদ মাদানি হাফি.’র মতো যুগশ্রেষ্ঠ আলেমদের দরসে নববি জ্ঞান আহরণ করার সুযোগ হয়েছিলো। তাই তাঁর দরসের এক অনন্য বৈশিষ্ট খুঁজে পাওয়া যায়।

 




 

দরস-তাদরীসে তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট: মাদরে ইলমী দারুল উলূম দেওবন্দের প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা ইবরাহীম বলয়াবীর বৈশিষ্ট ছিল, দরসে অন্য হূযুর যে’সবকটি ৩ ঘন্টায় উপস্থাপন করতেন, তিনি এ সবকটিকে দশ মিনিটে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম ছিলেন। তদ্রূপ শায়খে আকুনি দা.বা. সহিহ বুখারি’সহ অন্যান্য কিতাবের পাঠদানে অতি লম্বা আলোচনাকে অল্পসময়ে তালাবাদের সামনে উপস্থাপন করতেন; যাতে সকল- স্তরের তালিবুল-ইলমরা আসানের সহিত বুঝে নিতে পারতো।

 

 


চারিত্রিক জীবনের দিকে লক্ষ-করলে দেখা’যায়:
পবিত্র কুরআনের বাণী ”হে নবী আপনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী”। হাদীসের বাণী ”চরিত্রের পূর্ণতা দান করার জন্যই আপনাকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছে”। এর মাপকাঠিতে যাচাই করে দেখলে নির্দ্বিধায় স্বীকার করতে হয় যে,শাইখে আকুনি হূযুর হাফি.’র চরিত্র সেই আদর্শেই নিজেকে গড়েছেন। বাহ্যিক ও রূহানী উভয় ক্ষেত্রেই সুন্নাতে নববীর প্রতিচ্ছবি তিনি।

 




 

তাঁর কয়েকটি উত্তম গুণ ছিলো, তিনি সকলকেই ভালোবাসতেন, ছোটদের প্রতি মায়া-দয়া বড়দের তা’যীম আসলাফ-আকাবির,উস্তাযবৃন্দ এবং দেশ ও বিদেশের শীর্ষস্থানীয় উলামা-কিরাম, পীর-মাশায়েখদের প্রতি অসাধারণ শ্রদ্ধা
ও ভক্তি ছিল তাঁর অন্তরে।

 


মুরব্বী, সমবয়সী, সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় -স্বজন ও অধীনস্থ সকল লোকের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ও অফুরন্ত ভালোবাসা উন্মুক্ত ছিলো।
তাঁর জীবনের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য দিক হল স্পষ্টবাদিতা, বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, মুখ ও অন্তরের মিল ইত্যাদি। অন্তরে যা আছে তা উচ্চারণ করতে কখনো দ্বিধাবোধ করতেন না। যা একজন খাঁটি ঈমানদারের পরিচয় বহন করে। আজকের সমাজে এমন চরিত্র বিরল।

 




 

আমরা দেখেছি শাইখ রূহুল আমিন আস’আদি হাফি.’র সেই ব্যক্তি সম্পন্ন চেহারা, যেটা দেখলে তালাবারা ভক্তি- শ্রদ্ধায় মাথা নিচু করে রাখতো।
হুযুরও সবাইকে খুবই স্নেহ করেন।তিনি আমার পরামর্শক ও শাইখ। তাঁর একান্ত পরামর্শ, উৎসাহ-উদ্দিপনা নেক-দুয়া আমার জীবন চলার পাথেয়। সে’নুযায়ী চলার চেষ্টা করি।

 




 

আসলে তাঁর ব্যক্তিত্বের সামনে সবাই কাবু হয়ে যেতো। তিনি যেরকম আলেম আবার তাঁর বে মেছাল ব্যক্তিত্ব। কুরআন-হাদীস পাঠদানের পাশাপাশি সকল-স্তরের মানুষের বহূমূখী সমস্যাবলী সমাধানে আছেন অগ্রগামী। এবং ইসলামী সম্মিলন সমূহে ওয়াজ-নাসিহতের মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথের দিশা দিয়ে যাচ্ছেন।

 

 


বিভিন্ন সময়ে হূযুরের বক্তৃতা শুনেছি, তাঁর উচ্চাঙ্গের ভাষা এবং উপস্থাপনার প্রসংসা না করে পারা যায় না। সবচেয়ে মজার ছিল- তালিবুল-ইলমদের উদ্দেশে জামিয়ার কোন সেমিনারে বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষত; দারুল উলূম দেওবন্দের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান সম্পর্কে, বা আকাবির হযরাতগণের জীবন ও কর্ম নিয়ে তিনি চমৎকার নাসিহত উপস্থাপন করতেন, তা খুব মনোযোগ দিয়ে উস্তায-তালাবা সবাই শ্রবণ করতো। কাউকে বিরক্তি-বোধ হতে দেখা যেতো-না। তিনি আরবী সাহিত্যের এক মহা-পন্ডিত। যেটা তাঁর কথোপকতন ও লিখনির মাধ্যমে আন্দাজ হতো।

তাঁর অসংখ্য শিষ্য রয়েছেন; যারা দেশের প্রত্যন্ত
শহর-বন্দর, এলাকায় মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, মুহতামিম, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, মুফতি’সহ দেশ ও জাতির কল্যাণে ইহতিরামের সহিত বহূমূখী খিদমাত করে যাচ্ছেন।




নাস্তিক মুরতাদ সহ যখন কোনো বাতিল ফিরকার আর্বিভাব হতো,সেই আন্দোলনেও তিনি বলিষ্ঠ নেতা। অরাজনৈতিক সংগঠণ-জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ’র যুব সংগঠণ,জমিয়তে আনসার বাংলাদেশ-এর সদর তিনি। তাঁর নেতৃত্বে জমিয়তে আনসার এগিয়ে চলেছে। তিনি আমিরে জমিয়ত মাওলানা শাইখ আলিম উদ্দীন দুর্লভপুরী হাফি.’র আস্থাভাজন এক ব্যক্তিত্ব। দুর্লভপুরী’র শিষ্য না হলে হযরতের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।




তাঁর ইলমি গভিরতা ও পান্ডিত্ব কী পরিমাণ ছিলো, সেই হিসেব একটু অনুমান করা যায়।
হযরতের সান্নিধ্য ও সাহচর্যের মূহুর্তগুলো লিখে স্বল্প পরিসরে শেষ করা অধমের পক্ষে সম্ভব নয়।




দুয়া করি, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সুস্থতার সহিত নেক হায়াত দান করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir