1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  4. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  5. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  6. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  7. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  8. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

কুরবানির সেকাল একাল || মাওলানা কয়েস আহমদ

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০

কুরবানির সেকাল একাল

মাও.কয়েস আহমদ গোয়াইনঘাটি ||

আদিকাল থেকেই কুরবানির প্রচলন রয়েছে।এখনো সৃষ্টি জগতের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, প্রতিটি জীবন অন্যের জন্য নিবেদিত প্রাণ।তরুলতা নিবেদিত জীবজন্তুর জন্য, আর জীবজন্তু হচ্ছে মানুষের জন্য কুরবান।বিষয়টা আরো গভীরভাবে তলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে,মানুষও সর্বদা একে অপরের জন্য কুরবান হচ্ছে।মা বাবা সন্তানের পিছনে বিলীন করছে নিজেদের জীবন।নিম্ন স্তরের লোক উচ্চস্তরের জন্য উৎসর্গ করছে আপন সত্ত্বা, রক্ত-মাংস এবং তার মূল্যবান সময়। একজন সাধারণ সৈনিক থেকে নিয়ে কমান্ডার,ইনচিফ পর্যন্ত সকলেই নিজেদের মাতৃভূমির জন্য কুরবান হচ্ছে।




মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম হচ্ছে অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলা।কেননা সৃষ্টি জগতের প্রতিটি বস্তুর মধ্যেই ক্রমোন্নতির সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।আর মানুষ হলো আশরাফুল মাখলুকাত।সুতরাং মানুষের একান্ত কর্তব্য হচ্ছে আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতি ধাবিত হওয়া যা সকল উন্নতির চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
পৃথিবীতে এমন কোনো জাতি ছিল না যারা স্বীয় মাযহাব অনুসারে কুরবানি করত না।
হযরত আদম (আ)এর সন্তান হাবিল কাবিল এর মধ্যে বিবাহ নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে হযরত আদম (আ )তাদেরকে কুরবানি করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, তোমাদের মধ্যে যার কুরবানি কবুল হবে তার সঙ্গেই বিবাহ দিব।আর এখান থেকেই কুরবানির প্রচলন শুরু হয়েছে।




সমস্ত মুসলমান প্রতি বৎসর জিলহজ্ব মাসের ১০,১১ ও ১২ তারিখে যে কুরবানি করে আসছে তা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মৃতিচারণ করে, যা বিশ্বের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। বক্ষমাণ প্রবন্ধে
ঘটনাটি সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করছি।
একদিন হযরত ইবরাহীম( আ) স্বপ্নযোগে দেখলেন, একজন ঘোষক ঘোষণা করছেন ইব্রাহিম আল্লাহর নামে কুরবানু দাও।স্বপ্ন ছিল জিলহজ মাসের ৮ তারিখের।প্রভাতের স্নিগ্ধ আলো উঁকি মারার সাথে সাথে হযরত ইবরাহীম (আ) একশত উট কুরবানি করেন। ৯ তারিখের রাত্রিতে পুনরায় তিনি একই স্বপ্ন দেখেন। সারাদিন তিনি আল্লাহর হুকুম পালনের গুরুত্বের মধ্যে কাঠিয়ে দেন এবং আরো একশত উট কুরবানি করেন।




জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখের রাত্রিতে সেই স্বপ্ন পুনরাবৃত্তি ঘটে। হযরত ইবরাহীম (আ) স্বপ্নে জিজ্ঞাসা করেন যে, আমি কি কুরবানি করবো?জানিয়ে দেওয়া হলো তোমার নিকট সবচে’ প্রিয় বস্তু যা তাই কুরবানি কর।ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর একমাত্র সন্তান ছিলেন তার কাছে সর্বাপেক্ষা আদরের এবং প্রিয়।কেন না, বৃদ্ধ বয়সে সন্তান কতটুকু আদরের তা সহজেই অনুমান করা যায়। তাছাড়া ইসমাইল আলাইহিস সালাম তখন যৌবনে পদার্পণ করেছিলেন।আল্লাহ প্রদত্ত অনুপম সৌন্দর্য তারমধ্যে বিকশিত হচ্ছিল ফুটন্ত গোলাপের মতো।এরপর হযরত ইব্রাহিম আ.এ কুরবানি দেওয়ার সংকল্প করে ফেলেন। এদিকে শয়তান হযরত হাজেরা আ.কে বিভিন্নভাবে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তার কাছে ব্যর্থ হয়। অতপর সে হযরত ইব্রাহীম আ. ও ইসমাইল আ. এর প্রতি ছুটে।প্রথমে সে বন্ধুর ছুরতে ইব্রাহিম আ.কে বাধা প্রদানে ব্যর্থ হয়।অতপর জমরায়ে আক্বাবার নিকট বিকট আকৃতিতে হযরত ইব্রাহিম আ.এর গতি রোধ করে।




তিনি আল্লাহু আকবার তাকবীর ধ্বনি দিয়ে শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ করেন। ফলে শয়তান সেখান থেকে পলায়ন করে জমরায়ে উস্তায় পথ আটকে ফেলে। ইব্রাহিম আ. আবার তাকবীর বলে কংকর নিক্ষেপ করেন এবং শয়তান পালিয়ে যায়। তৃতীয়বার জমরায়ে উলাতে পুনরায় শয়তান পথ বন্ধ করে তখন ইব্রাহীম আ. পূর্বের মতোই তাকবীর বলে কংকর নিক্ষেপ করেন । কোনো কোনো বর্ণনায় দেখা যায় যে,হযরত ইসমাইলের সাথে শয়তানের তর্ক যুদ্ধ হয়েছিল।ইসমাইল আলাইহিস সালাম শয়তানকে অভিসম্পাত করেন এবং আল্লাহর রাস্তায় কুরবানি হওয়ার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন। ভোরের সোনালি সূর্য পূর্বাকাশে উঁকি মেরেছে । তার মিষ্টি আলোয় ভরে উঠেছে ধরাপৃষ্ঠ।এদিকে ইব্রাহিম আ. ছুরি ধার দিচ্ছেন।


আর ঊর্ধ্বজগতে ফেরেস্তাদের মাঝে পড়েছে হাহাকার । এমন এক দৃশ‍্যের অবতারণা হচ্ছে যার উপমা আজ পর্যন্ত দ্বিতীয়টি নেই। কিন্তু খলিলুল্লাহর মুখমণ্ডলে চিন্তা ও ব্যাকুলতার চিহ্ন পর্যন্ত নেই। নেই ইসমাইল আলাইহিস সালাম এর চেহারায় হতাশার কোনো ছাপ। ছুরি ধার দেওয়া হয়ে গেছে।হযরত ইব্রাহিম কুরবানির জন্তুর মতো সন্তানকে শুইয়ে দিলেন উপুড় করে। অদৃশ্য জগতে পড়ে গেল ক্রন্দনের রোল। কিন্তু কারো ক্ষমতা হচ্ছে না যে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবে, হে মাবুদ!কোন মঙ্গলের উদ্দেশ্যে আপনি এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটাচ্ছেন ।আল্লাহই ভালো জানেন, ইব্রাহিম আ.এর হৃদয়ে কি পরিমাণ তার প্রেম দিয়েছেন।তিনি তার সন্তানের কাঁধ ও কোমরের মাঝে বসে তড়িৎ গতিতে বিসমিল্লাহ বলে ছুরি বের করে নিলেন এবং পুত্রের কোমল কণ্ঠদেশে চালিয়ে দিলেন । এদিকে ইব্রাহিম আলাইহিসালাম নবুওয়াতের ফুল বাগানের কচি ফুলের উপর ছুরি চালালেন। অন‍্যদিকে সমস্ত মাখলুকাতের মধ‍্যে হাহাকার শুরু হয়ে গেল।ইসমাইল এর এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে আল্লাহ তাআলার রহমতে জোশ মেরে উঠলো। জিব্রাইলকে রাব্বুল আলামিন বললেন হে জিবরাঈল, তুমি বেহেশত থেকে একটি দুম্বা নিয়ে যাও এবং ইসমাইল এর পরিবর্তে এটাকে কুরবানি করতে বল। আমি তার কুরবানি কবুল করে নিয়েছি।




আর স্বয়ং মহান রব্বুল আলামীন ইব্রাহিমকে সম্বোধন করে বলেন হে ইব্রাহীম, তুমি স্বপ্নকে সত‍্য করে দেখিয়েছ।তুমিই আনুগত্যের যথার্থ আদর্শ স্থাপন করেছ। কুরআনে কারীমের ভাষায় ইসমাইলের গলাকাটানো আমার উদ‍্যেশ‍্য ছিল না।তোমাদের পরীক্ষা করাই ছিল আমার উদ্দেশ্য।তোমরা পিতা-পুত্র উত্তমরূপে পরীক্ষায় কামিয়াব হয়েছ।



হযরত ইব্রাহিম এর উক্ত আমলকে আল্লাহপাক এত অধিক পছন্দ করেছেন যে কিয়ামত পর্যন্ত এটা জিন্দা রাখার হুকুম দিয়েছেন এবং এটাকে তার প্রিয় এবাদতরূপে বান্দার উপর ওয়াজিব করে দিয়েছেন।তারই ফলস্বরূপ আমরা কুরবানিকে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পবিত্র স্মৃতি হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছি।আর এটা প্রাচীন রীতি যে, কোনো অবিস্মরণীয় ঘটনা স্মারক স্থাপন করা হলে মানুষ তার কোনো মূর্তি বা কোনো স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে। কিন্তু এরূপ করা ইসলামে কোনো অনুমতি নেই। কেন না, ইহা দ্বারা প্রকৃতপক্ষে ওই স্মৃতিটি অনন্তকাল পর্যন্ত বাকি থাকে না। এজন্য ইসলাম আসল ঘটনার অনুসরণকে এবাদত বানিয়েছে এবং
মানুষের উপর কেয়ামত পর্যন্ত তা ওয়াজিব করা হয়েছে।মুসলিম উম্মাহর নিকট ইব্রাহিম এর এ ঘটনা এমন একটি স্মারক যা প্রতিমুহূর্তেই থাকে হৃদয় মাঝে বিরাজমান। এর আকুল আবেগ অন্তরের অন্তস্থলকে ও করে তুলে আলোড়িত।আর মূর্তি তো কালের অতল গহ্বরে বিলীন হয়ে যায়।শেষ পর্যন্ত তার নাম নিশানাটুকুও থাকে না। পক্ষান্তরে কুরবানির ঘটনাকে প্রাণবন্ত করে রাখার জন্য প্রতিবছর উম্মতে মুহাম্মদীর সামর্থ্যবানদের উপর ওয়াজিব করা হয়েছে।




পবিত্র কালামে পাকে এবং হাদীস শরীফে এর ঘটনা উল্লেখ করে তা কেয়ামত পর্যন্ত মাহফুয রাখা হয়েছে। এ পবিত্র স্মৃতি শিক্ষা দিচ্ছে যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সবকিছু উৎসর্গ করে দিতে পারলেই ইনসানিয়াত এর পরিপূর্ণতা অর্জিত হয়। কুরবানি আমাদের উপর ওয়াজিব। স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সা. সাহাবায়ে কেরাম রা. ও তাবেয়ীনে এজাম এটি পালন করে গেছেন। বর্তমানে পৃথিবীর প্রত্যেক দেশের মুসলিম সমাজ প্রতিবছর ওয়াজিব আদায় করে আসছেন।কুরবানির এ ওয়াজিব ইসলামের অন্যান্য ওয়াজিব সমূহের অন্তর্গত নয়, বরং এটি একটি ইসলামের নিদর্শন। আল্লাহপাক ঘোষণা করেন
অর্থাৎ আর কুরবানির গরু এবং খাসি দুম্বাকে আমি আল্লাহর নিদর্শন করেছি ওগুলোতে তোমাদের আরও কল্যাণ নিহিত রয়েছে।




হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, হুজুর সা. মদীনায় অবস্থান করেছেন আর প্রতিবছরই কোরবানি দিয়েছেন।
হযরত জায়েদ ইবনে আরকম থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সাহাবাগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ এই কুরবানি কী? জবাবে তিনি বললেন, তোমাদের পিতা হযরত ইব্রাহিম এর সুন্নত। সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন হে আল্লাহর রাসূল, এর মধ্যে আমাদের কী কল্যাণ নিহিত রয়েছে? হুজুর সা. এরশাদ করেন, কুরবানির জন্তুর প্রত্যেকটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকী হবে। সুতরাং তোমরা মোটাতাজা কুরবানি করো।এই কুরবানির জন্তুই হবে তোমাদের পুলসিরাতের বাহন।




হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কুরবানির দিন কুরবানি করার চেয়ে প্রিয় এবাদত আল্লাহর নিকট আর নেই।কুরবানির দিনে এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ সোয়াবের কাজ। আর কুরবানি করার মুহূর্তে রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর নিকট কুরবানি কবুল হয়ে যায়। তাই প্রাণ খুলে তোমরা কুরবানি করো।



আল্লাহ পাক যেন আমাদের সকলকে এখলাসের সাথে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কুরবানী করার তৌফিক দান করেন। আমীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir