1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  4. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  5. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  6. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  7. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  8. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

কাছে টেনে নাও, দূরে ঠেলে দিও না || জুনায়েদ শামসী

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

কাছে টেনে নাও, দূরে ঠেলে দিও না || জুনায়েদ শামসী

 

 

এক.
ক্ষণিকের পৃথিবীতে কতরকম মানুষ বসবাস করে। সব মানুষ একত্রে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে না। প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ বুদ্ধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে হরেকরকম ভাবনার উদ্রেক হয়। সবাই নিজের মতো করে ভাবে। নিজ ইচ্ছা এবং নিজ স্বার্থকে সবাই সামনে রাখে। ভিন্ন চিন্তা-ভাবনাগুলো আবার কখনও একত্রিত হয়। আর এটাকেই আমরা ঐক্যবদ্ধতা বলে উত্থাপন করি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের এভাবেই সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্য একটাই; সৃষ্টিকর্তার গোলামি করা। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব হিসেবে দুনিয়ার মাঝে পাঠিয়েছেন। আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ কাজও নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি আমাদের জন্য একজন শ্রেষ্ঠ রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ও প্রেরণ করেছেন। আমাদের জীবন শ্রেষ্ঠ করে পরিচালনার জন্য শ্রেষ্ঠ ফেরেশতার মাধ্যমে মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ সংবিধান কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। তিনি আমাদের শ্রেষ্ঠ করে তৈরি করে সব শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পথ-পন্থা নির্ধারণ বা বাতলে দিয়েছেন। তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন- সমস্ত জগতের সৃষ্টিকর্তা।
তিনি দয়াময় রাহমান রাহিম। তিনি অত্যন্ত সুচারুভাবে আমাদের তৈরি করেছেন এবং উত্তমভাবে জীবন-যাপনের সব রাস্তা আমাদের সামনে দিয়ে রেখেছেন। আমাদের প্রয়োজন,তাঁর বাতলে দেওয়া রাস্তার অনুসরণ করা এবং সে অনুযায়ী জীবনের প্রতিটি পরত-কে পরিচালিত করা। আমাদের ইমাম দুজাহানের সরদার সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমাদের জীবনের পাথেয় এবং আকা হিসেবে পাঠিয়েছেন। এবং আমাদের দীন ইসলামের প্রতি দাওয়াত দিয়েছেন তাঁর-ই মাধ্যমে৷




দুই.
তিনি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোদার দেওয়া দীনের দাওয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত এবং নুসরতে তৈরি করেছেন একদল উত্তম চরিত্রের নমুনা আমাদের ইমান এবং উত্তম জীবনের মাপকাঠি সাহাবায়ে কেরাম। যাঁরা নবি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর চরিত্রে নিজেদের গড়ে তুলেছেন একদল খাঁটি দীনদার শ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে। তাঁরা নবিজি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রঙে নিজেদের রঙিয়েছেন। তাঁদের জীবন ছিলো শ্রেষ্ঠ নবির উম্মতদের জন্য মাপকাঠি। তাঁরা ছিলেন শ্রেষ্ঠ কিতাবের প্রতিটি হুকুম আহকাম মোতাবেক গঠিত জীবনের নমুনা এবং শ্রেষ্ঠ মানবের জলন্ত উপমা। তাঁদের অনেকে দুনিয়াতেই পরকালের জীবনে জান্নাতি হবার সুসংবাদ পেয়েছেন। সুমহান চরিত্রের অধিকারী সাহাবাদের সম্পর্কে নবি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বলেছেন-

الله الله في أصحابي، لا تتخذوهم غرض بعدي، فمن أحبهم فبحبي أحبهم، ومن أبغضهم فببغضي أبغضهم،




তিন.
সাহাবদের অনুসরণ এবং কুরআন হাদিসের রঙে গড়ে উঠেছিলেন পরবর্তীতেও তাবেয়ি,তবে তাবেয়ি, মুহাদ্দিসিন, মুহাক্কিকিন, দুনিয়া বিমুখ আল্লাহওয়ালা একদল দীনের অতন্দ্র প্রহরী উলামায়ে কেরাম। তাঁরা তাঁদের জীবনকে কুরআন হাদিসময় করে গড়ে তুলেছিলেন সাহাবাদের মতোকরে। তাঁদের অনেকের ছিলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাথে গভীর সম্পর্ক। তাঁদের অনেকেই দুনিয়ার চাকচিক্য বিলাসিতা ত্যাগ করে বেঁছে নিয়েছিলেন কষ্টের জীবন। তাঁরা কেউ নিজের শরীরের কাপড় পর্যন্ত বিক্রি করেছিলেন দীনের জন্য। দীনের জন্য মৃত্যুকে হাসি মুখে মেনে নিয়েছেন অনেকেই। ইমাম আবু হানিফা রাহ.-কে জেলের ভেতর বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছিলো। আরো কতো বুজুর্গ নিজেদের কুরবানি করেছিলেন নবির রক্তমাখা দীনের জন্য।
তাঁদের জন্যই এ জগত সুন্দর ছিলো। সহিহ ইমান-কে পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখতে নবিজির অনুসৃত পথের অনুসরণ অনুকরণে সালাফ খালাফের অনেকেই নিজেকে বিসর্জন দিয়েছেন। তাঁরা মহান আল্লাহর এতো নৈকট্যে যাবার পরও কখনো আত্মম্ভরিতা, হিংসা, লোভের পিছনে পড়েন নি। দীনকে কখনও বিক্রি করেন নি দুনিয়ার জন্য।




চার.
আমরা এমন এক যুগে পৃথিবীর মাঝে জন্মেছি, যে সময় চুখের সামনে শুধুই অন্ধকার। চারিদিক ফিতনায় জর্জরিত। কেউ কাউকে মেনে চলে না। সবাই নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করি ; যদিও শ্রেষ্ঠত্বের কোনো গুণাবলি আমাদের মাঝে নেই। আজকে আমরা ডুবে আছি আত্মগর্বে অহংকারের অতল গহ্বরে। নিজেদের নিঃশেষ করে দিচ্ছি হিংসার আগুনে পুড়িয়ে। দুনিয়ার জন্য দীনকে বিক্রি করছি প্রতিদিন প্রতিনিয়ত। এমন একযুগ আমরা অতিক্রম করছি, যেখানে স্বার্থ-ই সব। বৃষ্টির মতো ফিতনা আমাদের চারিপাশ ঘিরে রেখেছে। নবি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন যুগের কথা পরিস্কার করে বলে গিয়েছেন এভাবেই-
عن أبي هريرة أنّ رسول اللّه صلى الله عليه وسلم قال بادروا بالأعمال فتنا كقطع اللّيل المظلم. يصبح الرجل فيها مؤمنا ويمسي كافرا. أوْ يمسي مؤمنا ويصبح كافرا. يبيع دينه بعرضٍ من الدنيا.

নবিজির কথা থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়; এমন এক যুগ আসবে, যেখানে মানুষের কথা সকাল-বিকাল দু’রকম থাকবে। মিথ্যাচারই হবে এ যুগের মানুষের চরিত্র। বৃষ্টির মতো ফিতনা ঝরবে দুনিয়ার মাঝে। মানুষ দুনিয়ার লোভে পড়ে দীনকে বিক্রি করবে। দুনিয়ার মহব্বত আখিরাতের কথা ভুলিয়ে দিবে। কিতাবুল ফিতানে এরকম অসংখ্য হাদিস রয়েছে। যে সমস্ত হাদিসে বর্তমান যুগের কথা তুলে ধরেছেন নবিয়ে আরাবি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমরা মনে হয় সে যুগেই পৃথিবীতে আসলাম।


পাঁচ.
স্বার্থ-স্বেচ্ছাচারিতার মোহে আমরা পথহারা হয়ে যাচ্ছি। লোভের পাহাড় আমার “ইমান” ধ্বংসের দিকে নিযে যাচ্ছে। আমিত্ববোধের লড়াইয়ে নবির রক্তমাখা দীন আজ আমাদের সামনে ক্ষতবিক্ষত। আমিই সব এ নীতি আমাদের অতীত আদর্শ মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে। হিংসা আমাদের ঐক্যবদ্ধতা বিনষ্ট করছে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে দীনের তোয়াক্কা না করে যাচ্চাতাই করে যাচ্ছি। আমাদের এসব আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। নিজেদের সমস্যাগুলোই আমাদের ধ্বংসের কারণ হয়ে বসেছে। বাতিল সুযোগ নিয়ে বসেছে; ছোবল দিতে শুরু করেছে। আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাতিল তাঁর বাতুলতা সমাজের প্রতিটি সেক্টরে পৌঁছে দিতে শুরু করেছে। পৃথিবীর সব বাতিল আমাদের নিজেদের ব্যবহার করে তাঁদের ছেলাছুমান্ডা তৈরিতে একদাপ এগিয়ে আছে। তারা তাদের মিশনে সফল হতে চলছে। সবকিছুর পিছনে কারণ একটাই- দুনিয়ার লোভ মুসলিম উম্মাহর লিডারদের ভিতরে চেপে বসেছে। হয় পদ নয় টাকা এসবই এখন আমাদের কাছে সব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আলিম, পীরসহ সবাই এক কাতারে আমরা শামিল হতে চলছি। দীন নয় দুনিয়া আমাদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থা থেকে মুক্ত না হতে পারলে কত বিপদ আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে। কতরকম জটিলতা আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে।
এই অবস্থা থেকে উম্মাহর মুক্তি দরকার।




মোদ্দাকথা,
মুক্তির পথ একটাই আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। মহান আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের ক্ষমা করে দিলেই আমরা মুক্তি পাবো বর্তমান সংকট থেকে। মহান রবের কাছে অবনত মস্তকে তাওবা করা আমাদের জন্য জরুরী। আজ আমরা আল্লাহ থেকে অনেক দূরে। যদি আগের বুজুর্গদের মতো আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারি, ফিরে যেতে পারি আল্লাহর দিকে, ত্যাগ করতে পারি দুনিয়ার সকল ধান্দাবাজি, লোভ-লালসা; তাহলেই আমরা মুক্তি পাবো ফিতনার বেড়াজাল থেকে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ছাড়া আর কেউ নেই এ অবস্থা থেকে মুক্তি দানের। সিজদায় মহান রবের সামনে অবনত মস্তকে তাওবা করি; আমার কাঁধে পাপের বোঝা, আমি গোনাহগার, নিজের উপর জুলুম করা জালিম আমি, আমাকে ক্ষমা করো,আমাদের ক্ষমা করো।



আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে আমাদের আকুতি, হে আল্লাহ, আপনি মহান, আপনি রাহমান রাহিম, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। দাওনা ক্ষমা করে আরেকবার আমাদের সুযোগ করে। ক্ষমা করে কাছে টেনে নাও পূর্বে যেভাবে নিয়েছিলে তোমার প্রিয় বান্দাদের। রাগান্বিত হয়ে দূরে টেল দিও না যেভাবে দূরে টেলে দিয়েছিলে অভিশপ্তদের। আমরা আপনার হতে চাই, তুমি আমাদের তোমার করে নাও। আমরা আপনার বলে দেওয়া পথের পথিক হতে চাই; তুমি আমাদের করে দাও সে পথের বাসিন্দা, যে পথের কথা তোমার কালামে পাকে বলে দিয়েছো- “ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকিম”।
মুক্তি দাও অভিশপ্ত পথ থেকে, যে পথের বয়ান তুমি করে দিয়েছো তোমার গ্রন্থে- ” গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওলাজ জাললিন।”

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir