1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  4. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  5. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  6. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  7. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  8. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:১২ অপরাহ্ন

রাজকুমার ও ঈগলপাখি ||  জহির টিয়া 

জহির টিয়া
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
অনেক অনেক দিন আগের কথা। কোন এক রাজ্যের রাজকুমার হরিণ শিকারে বনে গেল । তার খুব শখ একা গিয়ে হরিণ শিকার করবে। তাই কোনো সহচর বা দেহরক্ষী সঙ্গে নিলো না। ধবধবে সাদা ঘোড়ায় চড়ে, খয়েরি রঙের একটা বন্দুক কাঁধে ঝুলিয়ে শিকারের উদ্দেশ্যে বের হলো ।
বনের ভেতরে ঢুকেই একটা নীলচে হরিণ দেখতে পেল। হরিণটি দেখে, রাজকুমারের চোখ খুশিতে তারা মতো জ্বলজ্বল করতে লাগল। হরিণটির পেছনে ধাওয়া করল মাঘের মতো । হরিণটিও অ্যাঁচালিপ্যাঁচালি দৌঁড় দিলো। হরিণটির রুপে রাজকুমারের মন এতোটাই আঁকড়ে ধরেছিল যে, একা আছে সে কথা ভুলে গেল। রাজপ্রাসাদ হতে সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছিল, বনের গভীরে প্রবেশ করবে না। যেহেতু সে একা এসেছে। বনের চারিদিকে ঘুরে ঘুরে আশেপাশেই হরিণ শিকার করবে।
কিন্তু হরিণটির লোভ সামলাতে পারল না রাজকুমার। পেছনে ছুটতে ছুটতে বনের একেবারে গভীরে ঢুকে পড়ে । যখনই হরিণটিকে তাক করে গুলি ছুড়তে যায়, সাথে সাথেই হরিণটি হাওয়া হয়ে যায়। এভাবে রাজকুমারের সাথে হরিণটি লুকোচুরির রঙিন খেলাতে মেতে উঠে। এক পর্যায়ে রাজকুমার ক্লান্ত হয়ে, এক বটগাছের নিচে হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ে। সে এমন ক্লান্তিবোধ করল যে, বনের শীতল হাওয়ায় ধীরেধীরে মিঠেল ঘুমে ঢোলে পড়ল। মুড়মুড়ে শুকনো পাতার ওপর।
এরপর দিন গড়িয়ে রাত আরম্ভ । রাজপ্রাসাদে হইচই পড়ে গেল। রাজকুমার কেন প্রাসাদে ফিরছে না ? তবে কি কোনো অঘটন ঘটে গেল ! নানান প্রশ্ন সবার মুখে মুখে । রাজা-রাণীও বেশ চিন্তিত । কি করা যায় ? কিভাবে রাজকুমারকে ফিরিয়ে আনা যায় ? মাথা চুলকায় আর আকাশপানে চেয়ে রাজপ্রাসাদের সামনে পায়চারি করতে থাকেন রাজা । সকল সৈন্যসামন্তকে ডেকে পাঠালেন রাজা। দলে দলে সকলেই আসতে লাগল। রাজপ্রাসাদ থৈথৈ করছে সকলের আগমনে।  তারপর রাজার আদেশে, সত্তর জনের একটি চৌকশ দল গঠন করা হল। তারা রাজকুমারকে উদ্ধারের লক্ষ্যে বনের দিকে রওনা দিলো ।
এদিকে ঝিঁঝিঁপোকার ঘ্যানঘ্যান শব্দ আর মশার কামড়ে রাজকুমারের ঘুম ভেঙে যায়। চোখ মেলে দেখে, চারিদিকে বিদঘুটে অন্ধকার নেমে আসছে । রাজকুমারের ভেতরে ভয় ঢুকে গেল । এখন তো রাতের আঁধারে বেরিয়ে যাবার পথ হারিয়ে ফেলেছে সে । কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। এমন সময় কিছু দূরে লক্ষ্য করে, টর্চলাইটের মতো জ্বলজ্বলে চোখে একটা বাঘ এগিয়ে আসছে। বাঘ দেখে রাজকুমারের চোখ ভয়ে বোমার মতো হয়ে গেল । রাজকুমার ভয়ে জড়সড় হয়ে, হাত-পা কাঁপাকাঁপি শুরু করে দিলো। যে বটগাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে, সেই বটগাছের ওপর উঠার চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু ব্যর্থ হলো তার মিশন । কারণ, রাজকুমার তো গাছে ওঠতে জানে না। সে তো রাজপ্রাসাদের মানুষ। কখনো গাছে চড়া শেখেনি। শিখেছে, কিভাবে অস্ত্র চালাতে হয়, বর্শা নিক্ষেপ করতে হয়।
বাঘের দিকে তাক করে বন্দুক ধরল রাজকুমার। কিন্তু ভয়ের চোটে হাতেপায়ে শক্তি পাচ্ছিল না সে । তবুও গুলি ছোঁড়ল। লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিটি অন্যদিকে চলে গেল । বাঘ তখন দাঁত কড়মড় করে  হুংকার দিয়ে ছুটে এলো । এদিকে রাজকুমার ভয়ে চোখ বন্ধ করে, সজোরে একটা চিৎকার দিলো। যে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিল, সেই গাছে বাস করতো একটা ঈগলপাখি। সে রাজকুমারের চিৎকার শুনে নিচের দিকে তাকালো। দেখে , একটা বাঘ ছুটে আসছে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার দিকে। ঈগলপাখি কোনো কালক্ষেপন না করেই, রাজকুমারকে পিঠে তুলে নিয়ে যায় গাছের ওপর । প্রাণে বেঁচে যায় রাজকুমার। কিন্তু রাজকুমার ভয়ের চটে এমনভাবে চোখ বন্ধ করে ছিল যে, সে বেঁচে আছে না মরে গেছে টের পায় নি। এমনই আতঙ্কে কাজ করছিল তার ভেতরে। আলতোভাবে ছোঁ মেরেই উড়াল দেয় ঈগলপাখি। নিয়ে গিয়ে, গাছের এক খাঁজে রাজকুমারকে বসিয়ে দেয়। বাঘের  মুখের আহার চলে যাওয়ায় , গর্জনে ভূ-কম্পিত করে তোলে সেই এলাকা । এদিকে ঈগলের ডাকে, রাজকুমার চোখ মেলে নিজেকে আবিষ্কার করে মস্ত বড় এক গাছের ওপর। তার সামনের আরেক ডালে ঈগল বসা। ঈগলপাখি জানতে চাইল, ‘ আপনি কিভাবে এই জঙ্গলের ভেতর আসলেন ?’ রাজকুমার সবকিছু বিস্তারিত বললো। রাজকুমারের সবকথা শুনে ঈগল মর্মাহত সুরে বলল, ‘ পশুপাখি শিকার করা কি ঠিক ? কেন আপনারা, মানুষ জাতি এমন ? কেন অবলাজাতিকে শিকার করে, হত্যা করেন ? তাদেরও তো জীবন আছে। আপনি যেমন জীবন বাঁচানোর জন্য চিৎকার করছিলেন। তেমনি পশুপাখিরাও বাঁচার জন্য দিকবেদিক ছোটাছুটি করে।’
ঈগলের কথা শুনে রাজকুমারের মুখ লজ্জায় লাল হয়ে যায়। কি জবাব দিবে খুঁজে পাচ্ছিল না। অবশেষে রাজকুমার লজ্জিত কণ্ঠে বলল, ‘ এরকম কাজের জন্য সত্যিই আমরা লজ্জিত। আমাদের ক্ষমা করে দিও । কথা দিলাম এরকম আর হেন কাজ হবে না। এটা আমি সারা রাজ্যময় ঘোষণা করে দিব। এখন আমাকে বাঁচাও ।’ ঈগল রাজকুমারের এমন সিন্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলল, ‘ শুনে খুউব খুশি হলাম। আর আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আপনার চুল পরিমাণও ক্ষতি হবে না ।’
ততক্ষণে বাঘটা হুংকার দিতে দিতে গাছের তলা ত্যাগ করে ।
ঈগলপাখি বলল, ‘ রাজকুমার, আপনি তো গাছের ওপর সারারাত জেগে থাকতে পারবেন না । চলেন আপনাকে একটা থাকার ব্যবস্থা করে আসি।’
ঈগল তার বাচ্চা দুটিকে সাবধানে থাকতে বলে, রাজকুমারকে নিয়ে উড়াল দিলো। উড়তে উড়তে বিশাল বন পার হয়ে একটা নদীর ওপারে থামল। সেখানে একটা কুঁড়েঘর দেখতে পেল ঈগলপাখিটা । কুঁড়েঘরে রাজকুমারকে রেখে ঈগল বলল, ‘আপনি, একটু কষ্ট করে রাতটা এখানে থাকেন। সকালে এসে, আপনাকে রাজপ্রাসাদে রেখে আসব। ছোট ছোট বাচ্চা দুটির রাতে, আমি না থাকলে অনেক কষ্ট হবে। তাই আমি এখন চলে যাচ্ছি।’
ঈগলপাখি ডানায় বাতাস কাটতে কাটতে  বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো ।
এদিকে রাজপ্রাসাদ হতে রাজকুমারকে খুঁজতে আসা সৈন্যসামন্ত, তন্নতন্ন করে বন খুঁজেও রাজকুমারকে পেল না। শুধু বনের ধারে ধবল ঘোড়াটাকে দেখতে পেল। ঘোড়ার আশপাশে রাজকুমারকে দেখতে না পেয়ে সবাই ভাবল, নিশ্চয় রাজকুমার বাঘের আহারে পরিণত হয়েছে। তাই সবাই ভগ্নহৃদয়ে প্রাসাদের দিকে পা বাড়ালো।
কুঁড়েঘরে রাজকুমার একা একা থাকতে ভয় পেলেও, ভেতরে ভেতরে সাহস সঞ্চয় করে। হঠাৎ গভীররাতে একটা কর্কশ শব্দ রাজকুমারের কানে আঘাত করল। তখন সে তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিল। চোখ মেলে, কান খাড়া করতেই আবার সেই শব্দের পুনরাবৃত্তি হলো। রাজকুমার এবার নড়েচড়ে শক্ত অবস্থান নিলো আর খোনা কণ্ঠে বলল, ‘ কেঁ রেঁ তুঁই ? এঁতোঁ রাঁতেঁ আঁমাঁর ঘুঁমেঁর ডিঁস্টাঁর্ব কঁরিঁস ?’ রাজকুমারের এমন কণ্ঠের আওয়াজ শুনে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাইনি বুড়ি ভয় পেল। কাঁপা কাঁপা গলায় উত্তর দিলো, ‘ আঁমি ডাঁইনি বুঁড়ি। এঁটা তোঁ আঁমার ঘঁর।’ এবার রাজকুমার দজ্জাল কণ্ঠে বলল, ‘ আঁমিঁ রাঁক্ষঁস, আঁর এঁকটাঁ বেঁশিঁ কঁথাঁ বঁলঁলে, তোঁর ঘাঁড়ঁ মঁটকাঁই গিঁলেঁ ফেঁলঁব।’ এমন কথা শোনে, ডাইনি বুড়ি ভয় পেয়ে দিলো ভোঁদৌড়। রাজকুমার বেড়ার ফাঁক দিয়ে লক্ষ্য করে, ডাইনি বুড়ি পালিয়েছে। একটা প্রশান্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে রাজকুমার। কিছুক্ষণ পরে, ডাহুক পাখির ডাক শুনতে পেল । তখন মনে মনে ভাবল, ভোর হতে আর বেশি দেরি নেই। তার বেঁচে যাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকুরিয়া আদায় করল। এর মধ্যেই ঈগলপাখি এসে ডাক দিলো। ডাক শুনে রাজকুমার বাইরে এলো। ঈগলপাখি বলল, ‘ চলেন, আপনাকে রেখে আসি।’ ঈগলপাখি রাজকুমারকে নিয়ে উড়াল দিলো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই উড়তে উড়তে পৌঁছে গেল রাজপ্রাসাদের গেটে । তারা বাইরে থেকে শুনতে পেল, রাজপ্রাসাদে চলছে মরণ কান্না। রাজকুমার ও ঈগলপাখি প্রাসাদের ভেতর প্রবেশ করতেই দৌঁড়ে এলো সবাই। সবাই ঘিরে ধরে তাদের। মা-বাবাকে কুর্নিশ করে সবকথা একেএকে খুলে বললো রাজকুমার। সব ঘটনা শুনে রাজা বললেন, ‘এসো ঈগল ভাই। আমার বুকে এসো। তুমি আমার বুকের মানিককে ফিরিয়ে দিলে, তুমি যা চাইবে তাই দিবো। বলো, তুমি কি চাও ?’  ঈগলপাখি মুচকি হেসে বলল, ‘ আমি কিছুই চাই না রাজা মহাশয়।  রাজকুমারকে যা বলার আমি বলে দিয়েছি।’ রাজকুমার তার আব্বাজানকে ঈগলের চাওয়ার কথাগুলো বললো। রাজা শুনে, মহাখুশি। রাজা, ঈগলকে কাছে টেনে, মাথায় আদরের হাত বুলাইতে বুলাইতে বললেন, ‘ আমি তোমার সব দাবি মেনে নিলাম। আজ হতে কেউ আর একটাও পশুপাখি শিকার করতে পারবে না। যদি কেউ করে আর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় তবে, তাকে উচ্চ শাস্তি প্রদান করা হবে।’ রাজা উজিরকে ডেকে বলে দিলেন , ‘পুরো রাজ্যে এই ঘোষণা জারি করে দাও। যেন একটাও পশুপাখি আর কেউ শিকার না করে। আর তা করলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।’ রাজার এমন ঘোষণা শুনে, ঈগলপাখি ভীষণ খুশি হলো।
তারপর রাজার কাছে ঈগলপাখি বিদায় নিলো। রাজা তখন তাকে মাঝেমধ্যে বা যখন প্রয়োজন তখনই রাজপ্রাসাদে আসার আমন্ত্রণ জানালো। সবার মুখে হাসি ফুটিয়ে ঈগল রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করল। রাজা-রাণী , রাজকুমার, সকল সৈন্যসামন্ত ঈগলের উড়ে চলে যাওয়ার আকাশপথে চেয়ে রইল।

লেখক পরিচিতি:- শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on "রাজকুমার ও ঈগলপাখি ||  জহির টিয়া "

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir