1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  4. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  5. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  6. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  7. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  8. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
  9. zahidnahid68@gmail.com : Hafiz Zahid : Hafiz Zahid
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

প্রশ্নের জবাব নয়; কিছু খোলাসা

জুনায়েদ শামসী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গতপর্বে আমি শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ.-এর পরিচয় দিয়ে কিছু অযাচিত প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলাম। কতশত প্রশ্ন। যা অবান্তর লোকগুলোই উপস্থাপন করছে। একটি কথা মনে রাখাই ভালো- ঐসকল লোকদের সারাদিন বোঝালেও তারা বুঝবে না। তাই তাদের অযথা বকওয়াসের জবাব দিতে যাওয়া বোকামি বলে মনে হয়। কিন্তু তাদের অবান্তর প্রশ্নগুলো সরলমনা মানুষের অন্তরে সন্দেহ তৈরি করে রাখে। তাই কোনো প্রশ্নের জবাব নয়; কিছু খোলাসা
করাই উত্তম।
আমরা যারা শায়খুল ইসলামের অনুসারী। আমাদের বিশ্বাস তিনি আমাদের মতো একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর বিশেষ কিছু গুণ ছিলো যাঁর সাক্ষ্য দিয়েছেন পুরো ভারতবর্ষের উলামায়ে কেরাম। শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ. ছিলেন সমকালীন যুগের একজন হাদিস বিশারদ। হাদিসের সাথে ছিলো তাঁর তাআললুক বর্ণনার উর্ধ্বে। তিনি ছিলেন সে যুগের একজন ওলি। আল্লাহর প্রতি তাঁর প্রেমছিলো সীমাহীন। নবিজি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর ভালোবাসায় তিনি ছিলেন সদা-সর্বদা বিমুগ্ধ। নবির প্রতি তাঁর মুগ্ধতা প্রকাশ হয় তাঁর লেখা-লেখিতে।

যুগে যুগে দুনিয়ায় আল্লাহর সাথে অধিক সম্পর্ক স্থাপনকারী ওলি-আওলিয়া নাইবে নবিদের আবির্ভাব হয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর নবি-রাসুলদের থেকে কিছু আশ্চর্যজনক ঘটনা প্রকাশ করতেন যাকে আমরা মুজিজা হিসেবে আখ্যায়িত করি। যেমন- নবি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করলেন, মিরাজে গমন করলেন এগুলো ছিলো আমাদের নবি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজিজা। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম-এর লাঠি সর্প হয় যায়, এরকম অসংখ্য আশ্চর্যজনক ঘটনা নবি-রাসুলদের থেকে মহান আল্লাহ প্রকাশ করেছেন। এগুলো হলো তাঁদের মুজিজা। এভাবে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আওলিয়ায়ে কেরামদের থেকে কিছু অনভিপ্রেত,আশ্চর্যজনক ঘটনা সংগঠিত করেন, যা আমরা কারামত বলে আখ্যায়িত করি। নবি-রাসুলদের মুজিজা যেমন সত্য, ঠিক তেমনই আল্লাহর প্রিয় বান্দা ওলি-আওলিয়াদের কারামতও সত্য। এটাই হলো আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা। উপরিউক্ত আকিদা পোষণকারীগণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত।

নবি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাফিরদের কথামতো চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করলেন, কাফির-মুশরিকরা তখন তাদের কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করে অযথা বকওয়াস শুরু করলো। বলতে লাগলো যে, এসব মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যাদু। এতদিন তাঁর যাদু জমিনে ছিলো এখন
আসমানে যাদু করা শুরু করেছেন, নাউজুবিল্লাহ।
মূসা আলাহিস সালামের মুজিজাগুলো জাহির হওয়ার পর তাঁর বদবখত উম্মতেরা বলেছিলো ইহাও যাদু। নাউজুবিল্লাহ। কিন্তু তারা শেষ অবধি ধ্বংস হয়েছে। ঠিক তেমনি যুগে যুগে আওলিয়া কেরামদের কারামতও অস্বীকার করে আসছে কিছু উম্মাতের কীটপতঙ্গ। তারা কখনো যাদু আবার ষড়যন্ত্রও বলে। তারা সিলসিলা অনুযায়ী সে গুষ্ঠির অনুসারী,যারা নবিদের মুজিজা অস্বীকার করেছিলো।

শায়খুল ইসলাম রাহি.-এর কবর থেকে সুবাতাস প্রবাহিত হবার সাক্ষী আমি একজন নালায়েক। শায়খ লক্ষীপুরি হাফিজাহুল্লাহ-সহ সিলেটের অসংখ্য বুজুর্গ উলামায়ে কেরাম। সবাই তাঁর কবর থেকে সুভাষিত ঘ্রাণ উপলব্ধি করেছেন। গতপর্বে কিছুটা এর আলোকপাত করেছি। সুতরাং কবর থেকে সুগন্ধি প্রবাহিত হচ্ছে বা অতীতে হয়েছে এ কথা শক্ত বর্ণনাকারী এক জামাত দ্বারা প্রমাণিত। অতএব, এটা যে ওলিয়ে কামিল শায়খুল ইসলাম রাহি.এর কারামত এতে আমি সন্দেহ রাখিনা।

কিন্তু কবর পূজা না জায়েজ হারাম এটাও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্যতম আকিদা। কবর থেকে মাঠি নেওয়া এবং কবর থেকে পানি নেওয়া, কবরে সাজদাহ দেওয়া, কবরে তাবাররুক বিতরণ করা, কবরে গিয়ে সন্তান চাওয়া সম্পুর্ণ বিদাত এবং নাজায়েজ-হারাম এটাও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের স্পষ্ট আকিদা। যদি এসব আকিদা পোষণ না করে কোনো মানুষ উপরিউক্ত কাজে লিপ্ত হয়ে যায়; তাহলে নিশ্চয়ই সে বিদাতে লিপ্ত হলো। এজন্য এসকল কাজ থেকে বিরত থাকা খুবই জরুরী। শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ.-এর কবর থেকে সুগন্ধি বের হবার পর সর্বপ্রথম আমরা এসব বিদাত যেনো এখানে না হয়, সে ব্যবস্থা বা ইনতিজাম করি। গতপরশু দিনও যথারীতি সকল বিদাত থেকে শায়খের কবরকে মুক্ত রাখার প্রস্তুতি আমরা নিয়েছিলাম। কারগুজারি পৃথক পোষ্টে আপনাদের অবহিত করবো।
আসাতিযায়ে কেরাম বারে-বার ঘোষণা করেছেন বিদাত থেকে মুক্ত রাখার পয়গাম। কিন্তু গতকাল হঠাৎ বৃষ্টির কারণে ক্লান্ত দায়িত্বশীল তালাবাগণ বিশ্রামে গেলে ছোটো-ছোটো কিশোর বয়সি কয়েকজন বোতল দিয়ে পানি নেবার পরিকল্পনা নেয়। পানি কেনো নিতে চেয়েছিলো তা বললে হয়তো অনেকের বিশ্বাস হবে না। এখানে বৃষ্টিতে জমা হওয়া পানিতেও সুগন্ধি উপলব্ধি করে মানুষজন। কিন্তু পানি নেবার শুরুতেই কতৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে কতৃপক্ষ ঘোষণা দেয় যে, কবর থেকে পানি নেওয়া ও বিদাত তাই কেউ পানি নিবেন না। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত বিশেষ সেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র বিদাত যেনো না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য। কিন্তু অনেক কিছু হয়ে যায়,ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত।

আমি দুটি ঘটনার আলোকপাত করি!
এক.
দারুল উলুম দেওবন্দে-এর সাবেক মুহতামিম মাওলানা ইয়াকুব নানুতবি রাহি.-এর কবর থেকে একবার মানুষ মাঠি নিতে শুরু করলো। কারণ-হযরত ইয়াকুব নানুতুবি রাহি.-এর কবরের মাঠি ব্যবহার করলে অনেক রোগের শিফা হয়ে যেতো। তাই মাঠি নেওয়ার কারণে কয়েকবার নতুনভাবে মাঠি দিয়ে ভরাট করতে হয়েছিলো। সর্বশেষ মাঠি ভরাট করে তার এক ছেলে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন। বাবা! আপনি কারামত দেখাবেন, আমরা মাঠি ভরাট করবো; এটা আর সম্ভব না। আর যদি কবর খালি হয়, ভরাট করবো না। একথা বলার পর থেকে মানুষ আর তাঁর কবর থেকে মাঠি নিলেও উপকার পায়নি। এতেই রক্ষা পায় কবরটি। মানুষ থামানো কঠিন কাজ।
দুই.
ইমাম বুখারি রাহি.-এর কবর থেকে যখন তাঁর মৃত্যুর পর সুগন্ধি প্রবাহিত হয়; তখন দীর্ঘদিন সে সুবাতাস অব্যাহত থাকে, মানুষজন দূরদূরান্ত থেকে এসে ইমাম বুখারি রাহি.-এর কবর থেকে মাঠি নিতে থাকে। কোনো একসময় গর্ত হতে লাগলে চারিদিক বেষ্টনি দিয়ে মাঠি নেওয়া বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু লোকজন প্রাচীরের বাহির থেকেও মাঠি নেওয়া আরম্ভ করে। অবশেষে অপারগ হয়ে কোনো এক বড় বুজুর্গের দুআর বদৌলতে আল্লাহর হুকুমে মিশকের ঘ্রাণ প্রবাহিত হওয়া বন্ধ হয়। এখানে একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, তৎকালীন উলামায়ে কেরাম চেষ্টা করেছিলেন মাঠি নেওয়ার মতো বিদাত থেকে ইমাম বুখারি রাহি.-এর কবর কে রক্ষা করতে। কিন্তু কতচেষ্টা করেও পারেননি। শেষতক দুআ করতে করতে করতে আল্লাহর হুকুমে ঘ্রাণ বন্ধ হওয়ায় মাঠি নেওয়া বন্ধ হয়৷ আমরাও চেষ্টা করেছি শতভাগ। যেনো এখানে কোনো ধরনের বিদাত কাজ না হয়। কিন্তু কোনো একসময় আমাদের অগোচরে যদি অনভিপ্রেত ঘঠনা ঘটে যায়; এবং পরে আমাদের গোচর হওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি,তারপরও কেনো অযথা বিতর্ক? তাই আহ্বান করবো বিতর্ক না করে আমাদের প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার যেকোনো প্রশ্নের জবাবদানে আমরা প্রস্তুত রয়েছি ইনশাআল্লাহ। আমাদের বিশ্বাস শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ. তাঁর জীবনের একটি অংশ বিদাত নির্মুলের জন্য চেষ্টা করেছেন। বিাদাত থেকে তাঁর এলাকাকে মুক্ত করার জন্য জীবস যৌবন উৎসর্গ করেছেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি কোনো বিদাত কাজ হতে দেননি তাঁর এলাকায়। তিনি নিজে ছিলেন সুন্নত জামাতের একজন ইমাম। বিশ্বাস রাখি! যেভাবে ইমাম বুখারি রাহ. এবং হযরত ইয়াকুব নানুতুবি রাহ.-সহ অসংখ্য ওলি-আওলিয়াদের কবরকে মহান আল্লাহ বিদাত থেকে মুক্ত রেখেছেন, ইনশাআল্লাহ আমাদের শায়খের কবরকেও মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবধরনের বিধাত থেকে মুক্ত রাখবেন। আমরা যারা শায়খের মুকাল্লিদ রয়েছি। আমরাও প্রতিজ্ঞা করেছি আল্লাহর উপর ভরসা রেখে। ইনশাআল্লাহ, আমাদের শায়খের কবরকে আমরা বিদাত মুক্ত রাখবো।

যারা মানে না, যারা পায় না,যারা সমালোচনা করে ; তারা তাদের গতিতে করুক। সবাই পাবে এমন কথা নয়। কেউ পাবে, কেউ পাবেনা।
যারা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করছে তারা কেউ জাননে ওয়ালা কোনো মানুষ নয়। তাদের চেহারার রঙ দেখলে মনে হয় যে, তারা মুসলিম নয় অন্য রঙে নিজেদের সাঁজিয়েছে। তাদের মুখে-শরীরে কোথাও নবির সুন্নাত নেই, তারা সাহাবাদের সমালোচনা করে, তারা নবি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইসমতের উপর আপত্তি করে ; তাদের নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করার মানে নেই।
শুধু এই খোলাসা কালাম তাদের তরে যারা শায়খুল ইসলাম-এর পরিবারভুক্ত ; কিন্তু কতিপয় পণ্ডিতের অযাচিত কথার কবলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সন্দেহ দূর করা একটু চেষ্টা।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সকলকে যেনো সহিহ দীনের সহিহ সমজ দান করেন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir