1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  4. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  5. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  6. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  7. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  8. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
  9. zahidnahid68@gmail.com : Hafiz Zahid : Hafiz Zahid
সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন

একজন বীরপুরুষ রাজনীতিবীদ ছিলেন সৈয়দ ফজলুল করীম রহ.

আমিনুল ইসলাম কাসেমি
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০

চরমোনাই এর মরহুম পীর সৈয়দ ফজলুল করীম রহ.ছিলেন একজন বীরপুরুষ।মর্দে মুজাহিদ। সত্যিকার মর্দে মুজাহিদ বলা যায় তাঁকে। অরজিনাল পুরুষ মানুষ ছিলেন তিনি। কেননা, রাজনীতির ময়দানে এমন ব্যক্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। যিনি সারাজীবন আপোসহীন ছিলেন। কিঞ্চিত পরিমাণ তিনি বাতিলের সাথে সমাঝোতা করেন নি। যতই আসুক বিপদ- আপদ, তিনি স্বীয় নীতি আদর্শের উপর অটল- অবিচল ছিলেন।




সামান্য পরিমাণ ঝড়- ঝাপটা আসলে আমাদের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। আমরা পরাজয় বরণ করি বাতিল শক্তির কাছে। স্বকীয়তা বলতে আর কিছু বাকি থাকে না। কিন্তু এমন ব্যক্তি ছিলেন মরহুম পীর সাহেব, যিঁনি চিরদিন তাঁর শির উঁচু করে রেখেছিলেন। মিথ্যের কাছে কখনো তাঁর মাথা নত হয় নি।
একজন সাহসী বীর ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে যে সাহসিকতার সাথে চলেছেন, তা আজো মানুষের হৃদয়ে অঙ্কিত রয়েছে। দেশের যে কোন ইস্যুতে তাঁর ভূমিকা থাকত প্রসংসনীয়। বীর দর্পে এগিয়ে যেতেন। পিছপা হন নি কখনো।




সৈয়দ ফজলুল করীম রহ.কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলেন নি। সে যেই হোক, যত ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোক, যত শক্তি তার থাকুক, কিন্তু তিনি হক কথা বলে গেছেন। যখন যে সরকার ক্ষমতায় ছিল, সরকারকে সমীহ করে চলেন নি। ইসলামের বিরুদ্ধে যদি কথা বলেছে,ইসলাম বিরোধী কাজ করেছে, তৎক্ষনাৎ প্রতিবাদ করেছেন। বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেন নি।




অনেকে বলে থাকেন, সৈয়দ ফজলুল করীম সাহেব তিনি ২০০১ সনের নির্বাচনে সাবেক প্রসিডেন্ট এরশাদ সাহেবের সাথে সমাঝোতা করেছিলেন। তাদের সাথে তিনি নির্বাচনে যান , ইত্যাদি , ইত্যাদি,। এরকম অভিযোগ তুলে বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন এর লোকজনকে হেয় করতে চান।




এখানে একটা জিনিস বুঝতে হবে আমাদের। আমাদের রাজনৈতিক সমাঝোতা আর চরমোনাই এর সৈয়দ ফজলুল করীম রহ,, এর নির্বাচনী সমাঝোতা আকাশ- পাতালের ব্যবধান।




আমাদের অবস্হাতো এমন, কেউ ছেলের জন্য মেয়ে খুঁজতে গিয়েছে, কিন্তু মেয়ে এমন শ্রীমতি, ছেলের জন্য আর অপেক্ষা নয়, নিজেই বিয়ে করে বাড়ী নিয়ে এসেছেন।
আমরা নির্বাচনী সমাঝোতা ঠিক ঐরকম করেছি। নিজেদের পরামর্শ হয়েছে একটা, আর করেছি আরেকটা। আমরা নির্বাচনী সমাঝোতায় কোন কিছু রক্ষা করতে পারিনি।কোন নীতিমালা তাদের কাছে উপস্হাপন করিনি। বরং ওনারা যা বলেছেন, তাই হ্যাঁ, হ্যাঁ, করে চলে এসেছি।


আমাদের নির্বাচনী সমাঝোতাটা এমন, ওরা সবকিছু ভাগ- বাটোয়ারা করে নেওয়ার পর উচ্ছিষ্ট কিছু থাকলে আমাদের দিয়েছে, তাও অনেক ইনিয়ে- বিনিয়ে নিতে হয়েছে।




কিন্তু সৈয়দ ফজলুল করীম রহ, যে সমাঝোতা করেছিলেন এরশাদ সাহেবের সাথে,তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। এই বাংলাদেশের মানুষ চিরদিন স্মরণ করবে, বাপের বেটা থাকলে চরমোনাই এর মরহুম পীর সাহেব ছিলেন।
এরশাদ সাহেব ছিলেন নয় বছরের প্রেসিডেন্ট। তাঁর সাথে চরমোনাই এর পীর সাহেব নির্বাচনী সমাঝোতা করলেন, দুজনের সমান ক্ষমতা। এরশাদ সাহেবের যতটুকু পাওয়ার,ঠিক চরমোনাই এর পীর সাহেবের ততটুকু পাওয়ার। দুজনই কো- চেয়্যারম্যান হিসেবে ছিলেন।

বিভিন্ন প্রোগ্রামে দেখেছি, এরশাদ সাহেবের যেমন চেয়ার ঠিক পীর সাহেবের তেমন চেয়ার। দু’জনের ক্ষমতা সমান সমান।




একজন নয় বছরের প্রেসিডেন্ট, তাঁকে একদম বশে নিয়ে এসেছিলেন। এরশাদ সাহেব, একাকী কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। যা কিছু করতে হবে পীর সাহেবের পরামর্শ নিয়ে করতে হবে। এজন্য এরশাদ সাহেব,পীর সাহেবের সকল শর্ত মেনে নিয়ে তাঁর সাথে জোট বদ্ধ হয়েছিলেন।




আমরাতো নির্বাচনী সমাঝোতা করি বা জোট করি, নিজেদের কোন পাওয়ার নেই। বড় দলের কাছে ধর্ণা দিতে হয়। তারা যা বলে, সেটার উপরে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। তারা যদি কিছু দেয়, তাহলে কিছু পাওয়ার আশা থাকে,নচেৎ খালি হাতে ফিরে আসতে হয়।

বীরপুরুষ কাকে বলে, একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং যার দল দেশ পরিচালনা করেছিল, তাঁকে এরকম শর্ত- শরায়েতের মাধ্যমে তাঁর সাথে জোটবদ্ধ হয়েছিলেন। আমরা কি পারব এমনটি? আমরা যাদের সাথে জোট করছি, তাদের সাথে এমন শর্ত দেওয়ার যোগ্যতা কি রাখি? আমরা কি বলতে পারব এ কথা, আমাদেরকে কো- চেয়্যারম্যান বানাতে হবে। সমান ক্ষমতা থাকবে,নচেৎ তোমাদের সাথে জোট হবে না। এরকম বলার সাহস মনে হয় আমাদের নেই।

কিন্তু সৈয়দ ফজলুল করীম রহ, দেখায়ে গেছেন। কিভাবে হক- হক্কানিয়্যাতের উপর অটল থাকতে হয়। তিনিতো ক্ষমতার স্বাদ নেওয়া পাগল ছিলেন না। এমন চিন্তা থাকলে, আপোস করতেন সবার সাথে। তিনি যেখানে যেকাজে গিয়েছেন, সেখানে হকের উপর দৃঢ় থাকার প্রচেষ্টা ছিল।

কত ধরনের জুলুম- নির্যাতন,কোনঠাসা করা হয়েছিল তাঁকে। তাঁর ইন্তিকালের এক দেড় বছর আগে যখন তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছিলেন,ঢাকা এয়্যারপোর্টে দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল। অসুস্হ ব্যক্তিকে এক শ্রেণীর মানুষের জুলুমের শিকার হয়েছিলেন। তারপরেও তিনি অটল- অবিচল সব সময়।

তাঁর সাহসিকতার প্রসংসা করতে হয়।হকের উপর তাঁর দৃঢ়তার জন্য তাঁকে সাধুবাদ জানাতে হয়। তিনি যেভাবে ফেরাকে বাতেলার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, ঐরকম আর কেউ নেই।
মওদুদীবাদের বিরুদ্ধে এবং ভন্ড দেওয়ানবাগীর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, সেটা কল্পনা করা যায় না। ভ্রান্ত মওদুদীবাদের চ্যালেন্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। মওদুদীবাদীদের সংগঠন কোন ইসলামী দল নয়, এরকম চ্যালেন্জের মোকাবেলায় মওদুদীবাদীরা লা- জওয়াব হয়ে পড়েছিল। এবং মওদুদীবাদের মুখোশ উম্মোচন করেছিলেন তিনি।

এমনি ভাবে ভণ্ড দেওয়ানবাগীর বিরুদ্ধে তাঁর অবদান সবচেয়ে বেশী। তিনি যেভাবে দেওয়ানবাগীদের উৎখাত করার জন্য মাঠে নেমেছিলেন, তিনি এমন পদক্ষেপ না নিলে জাতি আরো গোমরাহীর দিকে ধাবিত হত।

এমনি ভাবে মরহুম পীর সাহেব চরমোনাই বাতিলের আতঙ্ক ছিলেন। সকল বাতিল তাঁকে ভয় পেত। কেননা, তিনিতো কোন বাতিলের সাথে আপোসকামিতায় যান নি। কাউকে ছেড়ে কথা বলেন নি। একারণে তাঁর প্রতি সকল বাতিল শক্তির ভয় থাকত সব সময়।




বর্তমান প্রেক্ষাপটে বড্ড স্মরণ সেই মহান ব্যক্তির কথা। বেশী মনে পড়ে তাঁর বীরত্বের কথা। একজন মুজাহিদ, সিপাহসালার, বীরপুরুষ।
মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি, আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে সুউচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir