1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  4. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  5. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  6. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  7. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  8. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
  9. zahidnahid68@gmail.com : Hafiz Zahid : Hafiz Zahid
সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

আসুন বই পড়ুয়া প্রজন্ম গড়ি পর্ব-২

এস এম মুকুল
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০

একটি মজার খবর হলো- বই পড়লে আয়ু বাড়ে! ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারী-সংক্রান্ত বিদ্যার অধ্যাপক এবং বেকা আর লেভির মতে, দিনে আধা ঘণ্টা পড়লেও একদম বইবিমুখ লোকদের চেয়ে কিছু দিন বেশি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। বই কীভাবে মানুষের সুস্থতা ও আয়ুর ওপর এমন প্রভাব ফেলে তা অস্পষ্ট হলেও গবেষণা বলছে কবিতা, গল্প, উপন্যাস পড়লে মস্তিষ্কের সংযোগ সামর্থ্য ও সহানুভূতি সাধারণত বাড়ে। সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন সাময়িকীর অনলাইন সংস্করণে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলছেন, পড়ুয়া লোকজনের মৃত্যুঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ২০ শতাংশ কম হয়ে থাকে। এতে বলা হয়, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের মতো বই পড়ার অভ্যাসও মানুষের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।




ফলে সুযোগ হয় বেশি দিন বেঁচে থাকার। বিশ্ব সংস্কৃতি সূচক বলছে, সবচেয়ে বেশি বই পড়ার অভ্যাস আছে যথাক্রমে ভারত, থাইল্যান্ড ও চীনে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের বই পড়ার অভ্যাস আছে, বৃদ্ধ বয়সেও তাদের মস্তিষ্ক খুব তীক্ষè ও স্বাভাবিক থাকে। যারা নিয়মিত বই পড়ে তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমার হার ৪৮ শতাংশ কম। বই পড়ার সময় সহসাই ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করে তোলা হয়। মস্তিষ্ক ব্যস্ততায় থাকলে হৃদস্পন্দন, পেশি ও হাঁড়ের গঠন ঠিক থাকে। আর হৃদস্পন্দন ও ভালো হাড়ের গঠন স্মৃতিভ্রষ্টতার মতো রোগকে প্রতিরোধে ক্ষমতা রাখে।
বিশ্ব ব্রহ্মাÐের ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস ও সভ্যতা, বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার, জ্ঞানী ব্যক্তিদের চিন্তাধারা ও জীবন দর্শন প্রভৃতি বিষয় আমরা কেবল বই পড়ার মাধ্যমেই জানতে পারি। মহাজাগতিক রহস্য অথবা মহাশূন্য পরিভ্রমণ, সাহিত্য, ভ্রমণ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি, দর্শন, ধর্ম যে কোনো বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে হলে নিয়মিত বই পড়তে হবে।




অনেকেই মনে করে থাকতে পারেন যে, ইন্টারনেটের বদৌলতে বই না পড়েই দুনিয়ার সব জেনে যাচ্ছেন। এটি নিছক অমূলক ধারণা মাত্র। বই পড়তেই হবে। সেটা প্রিন্ট ভার্সন হোক কিংবা নেট ভার্সন বা ই-বুক। তবে প্রিন্ট ভার্সন বা কাগজে মুদ্রিত বইয়ের গুরুত্ব ও আবেদন সবসময়ই থাকবে। তাই বইয়ের প্রতি সবাইকে আকৃষ্ট করে তুলতে হবে। বিশেষত আমাদের শিশু-কিশোরদের মাঝে শৈশব থেকেই এ বোধ জাগিয়ে দিতে হবে। কারণ বিদ্যালয়ে যে পুঁথিগত জ্ঞান শিশু-কিশোররা লাভ করে তাতে মেধার তেমন বিকাশ ঘটে না। তাই পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বই পড়তে উৎসাহিত করতে হবে। আমরা অনেকভাবেই নিজেদের পরিবারের মাঝে বই পড়া, সংগ্রহ করা এবং বই উপহার দেয়ার রীতি চালু করতে পারি। কীভাবে হবে সেটাই বলছি। সামাজিক কোনো প্রতিক্রিয়ার দিকে না তাকিয়ে আমরা ঘর থেকেই শুরু করব বই পড়া আন্দোলনটি।





প্রথমে পরিবারের সদস্যদের বিয়ে, জন্মদিন, বিশেষ সাফল্য অর্জন, বিদেশযাত্রা, বিশেষ দিবসে অন্য গিফটের পরিবর্তে বই কিনে দিতে পারি। সামাজিক কারণে আমরা বিয়ে বা জন্মদিনে দাওয়াতে বিশেষ কিছু উপহার দিয়ে থাকি। আমরা যদি এসব ক্ষেত্রে বই উপহারকে বেছে নিই তাহলে অনেক ধরনের অনেকগুলো বই উপহার দেয়া যায়। সমাজে এই প্রচলন ছড়িয়ে দিলে দেশব্যাপী বই পড়া আন্দোলন জোরদার হবে এতে সন্দেহ নেই। ঘরে ঘরে প্রতিষ্ঠিত হবে পারিবারিক পাঠাগার। আর এর মাধ্যমে মেধায়, মননে ও সৃজনশীলতায় আমাদের প্রজন্ম গড়ে উঠবে পরিশীলিত ও মানবীয় গুণে। আমরা যত বই পড়ব, মনের চক্ষু ততই খুলবে। আজকের দিনের অস্থির সমাজের অহমিকার ব্যারিকেড ভেঙে দিতে পারে বইপড়া আন্দোলন। আপনার সন্তানকে মোবাইল, ইন্টারনেট আর ফেসবুকের নেশা কাটিয়ে দিতে পারে বইয়ের নেশা। কিন্তু সে নেশাটি ধরাতে হবে অভিভাবকদের প্রাণান্তকর চেষ্টায়।




সন্তানদেরকে মাদক আর জঙ্গিবাদ এমনসব বিপথগামিতার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে বই। তাই আমাদের সন্তানদের হাতে বই কিনে দিতে হবে। একটি সুন্দর জামার চেয়ে, দামি মোবাইলের চেয়ে কিংবা রেস্তরাঁয় বসে হাজার টাকার উদরপূর্তি করার চেয়ে বইয়ের গুরুত্ব অনেক অনেক বেশি। বই চিরকালের মননশীলতার সঙ্গী। আসুন বইকে আঁকড়ে ধরি। বই পড়ি- জীবন গড়ি।

লেখক:- সমাজ বিশ্লেষক ও উন্নয়ন গবেষক।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir