1. abutalharayhan@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  2. asadkanaighat@gmail.com : Asad kg : Asad kg
  3. dulaljanna095@gmail.com : sohidul islam : sohidul islam
  4. abkfaruq@gmail.com : abdul kadir faruk : abdul kadir faruk
  5. junayedshamsi30@gmail.com : Mohammad Junayed Shamsi : Mohammad Junayed Shamsi
  6. sufianhamidi40@gmail.com : Sufian Hamidi : Sufian Hamidi
  7. izharehaque0@gmail.com : ইজহারে হক ডেস্ক: :
  8. rashidahmed25385@gmail.com : Rashid Ahmad : Rashid Ahmad
  9. sharifuddin000000@gmail.com : Sharif Uddin : Sharif Uddin
  10. Yeahyeasohid286026@gmail.com : Yeahyea Sohid : Yeahyea Sohid
  11. zahidnahid68@gmail.com : Hafiz Zahid : Hafiz Zahid
সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ১০:১৪ অপরাহ্ন

স্বাধীনতা যুদ্ধে আলেমসমাজ

সুলতান মাহমুদ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

হক্কানী ওলামা-মাশায়েখ সর্বদাই স্বাধীন চেতনা ও সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় অম্লান হয়ে আছেন। যুগে যুগে দেশ ও জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতার লক্ষ্যে তাঁরা আজীবন সংগ্রাম করেছেন। অত্যন্ত নিঃস্বার্থভাবে। তাঁরা দেশ ও জাতির কল্যাণের নিমিত্তে নিজেদের মূল্যবান সময় ও জীবন উৎসর্গিত করেছেন।




১৮৩১ সালের বালাকোটের যুদ্ধ, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ, বিংশ শতাব্দির শুরুর দিকের রেশমী রুমাল আন্দোলন,খেলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনসহ ১৯৪৭ সালের ইংরেজ খেদাও আন্দোলন এরই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অবৈধ দখলকার ইংরেজ রাজশক্তির বিরোদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সফল নায়ক শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রাহ.কে ভারত সরকার মন্ত্রী বানাতে চেয়েছিলো, কিন্তু মাদানী রাহ. এ লোভনীয় পদকেও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ ওলামায়ে কেরাম দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য বরাবরই নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন ও করে থাকেন। দুনিয়াবী যশ-খ্যাতি ও পদ-পদবীর জন্য তাঁরা কখনো লালায়িত নন। তাই বলা হয়ে থাকে-হক্কানী ওলামায়ে কেরাম দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব অর্জন ও রক্ষার জন্য অকোতভয় সৈনিক এবং তাঁরাই সত্যিকারের সেবক ও প্রকৃত দেশপ্রেমিক।

বেনিয়া ইংরেজ শক্তির হাত থেকে ভারতের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে এবং এ দেশবাসীকে বিদেশীদের গোলামী থেকে মুক্ত করতে ১৮৫৭ সালের ঐতিহাসিক ‘সিপাহী বিপ্লব’ বা ‘আজাদী আন্দোলন’ এর নেতৃত্বও দিয়েছিলেন এদেশের সংগ্রামী ওলামায়ে কেরাম। ইংরেজ খেদাও আন্দোলনের সর্বশেষ ও সফল অভিযান ১৯৪৭ সালের ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনেও ওলামায়ে কেরামের অবদান অনস্বীকার্য।




বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও হক্কানী ওলামায়ে কেরামের অবদান কোনক্রমেই ন্যূন ছিল না। তাঁদের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ইসলামী রাজনৈতিক দল ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম’ ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। জমিয়ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছিলো। স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছিলো। যার ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালিন বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেও ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম’ নিষিদ্ধ হয়নি।




তৎকালীন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন উপ-মহাদেশের বরেণ্য আলেমে দ্বীন ও বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান (সীমান্ত প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী) আল্লামা মুফতী মাহমুদ রাহ.। তাঁর বাড়ি পশ্চিম পাকিস্তানে হলেও তিনি তৎকালীন পূর্ব-পশ্চিম উভয় পাকিস্তানের ওলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ জনগণের ছিলেন অতি আপনজন এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। তিনি পাকিস্তান সরকারের তান্ডবলীলার বিরুদ্ধে ছিলেন জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো প্রজ্বলিত। ছিলেন সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও বজ্রকন্ঠ। তাই তিনি বাঙ্গালী উলামায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “আপনারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলুন, দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের জন্যে উৎসাহিত করুন।”


এদেশের হক্কানী ওলামায়ে কেরাম বিশেষতঃ জমিয়ত নেতৃবৃন্দ জায়গায় জায়গায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সম্ভাব্য সবধরণের সহযোগিতা করতে থাকেন। জমিয়ত নেতা আল্লামা শামসুদ্দীন কাসেমী রাহ. সমগ্র বাঙ্গালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হবার অনুরোধ জানিয়ে এবং পাকিস্তানী বাহিনীর সমালোচনা করে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেয়ার অপরাধে (?) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হোন। অবশেষে মাওলানার ঈমানী জয্বার কাছে সেনা কমান্ডার হার মানলো। মহান আল্লাহপাকের অপার মহিমায় তিনি মুক্তিলাভ করেন। (দ্রষ্টব্য: আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে)


মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বদলীয় মুক্তিসংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ছিলেন মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি। তিনি ছিলেন উপ-মহাদেশের শ্রেষ্ট ইসলামী বিদ্যাপিঠ দারুল উলূম দেওবন্দের সূর্যসন্তান। শুধু তিনিই নন, বাংলাদেশের খ্যাতিমান বুযুর্গ হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ. এর দিকনির্দেশনায় মাওলানা এমদাদুল হক আড়াইহাজারী রাহ. আড়াইহাজার থানার কমান্ডার হয়ে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন।


হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ. একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধকে ‘জালিমের বিরোদ্ধে মজলুমের সংগ্রাম’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘জামেয়া হুসাইনিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসা’র প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’ এর কেন্দ্রীয় নেতা আল্লামা শামসুদ্দীন কাসেমী রাহ.,জমিয়ত নেতা আল্লামা মোস্তফা আজাদ দা. বা.,মাওলানা উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী ও মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী ভ্রাতৃদ্বয়, ‘জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ’ এর সাবেক মোহতামিম ও শায়খুল হাদীছ আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রাহ. এবং আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসঊদসহ প্রমূখ অসংখ্য ওলামায়ে কেরাম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বলিষ্ঠ অবদান রেখেছিলেন। খলীফায়ে মাদানী আল্লামা লুৎফুর রহমান শায়খে বর্ণভী রাহ.এর বাড়িতে অনেক মুক্তিযোদ্ধা রাত্রীযাপন করেছিলেন এবং অনেক হিন্দু পরিবারকে বরুণার পীরসাহেব রাহ.আশ্রয় দিয়েছিলেন। (সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব, ২১ মার্চ ২০১৭,ইসলামী জীবন পাতা)।


একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল ‘জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের’। পাকিস্তানিরা ছিল জালিম এ দেশের নিরীহ মানুষ ছিল মজলুম। মজলুমকে সাহায্য করা, তাদের পক্ষে অস্ত্র ধরা, তাদের প্রতি সহনুভূতির হাত বাড়ানো, তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মনুষত্বের পরিচয়ই ছিল না, ছিল ঈমানি দায়িত্ব। এই ঈমানি দায়িত্ব পালনে আলেম সমাজের অগ্রণী ভূমিকা ছিল।


দেশের অতন্দ্র প্রহরী ওলামায়ে কেরাম মুক্তিকামী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জান-মাল সর্বশক্তি বিলিয়ে দিয়ে পাকিস্তানি জালিম শাসকের কবল থেকে মুক্ত করেছেন দেশের মানুষকে, মুক্ত করেছেন দেশকে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন হাজারো দেশপ্রেমিক ওলামায়ে কেরাম। একাত্তরে ওলামায়ে কেরাম ছিলেন মুক্তিকামী বাঙ্গালির সিপাহসালার। মুক্তির সংগ্রামে উলামায়ে কেরামের অবদান অনস্বীকার্য।


মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতির আধ্যাত্মিক নেতা মাওলানা মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ. বাঙ্গালি জাতির মুক্তির স্বপক্ষে ঘোষণা করে বলেছিলেন ‘এ যুদ্ধ ইসলাম আর কুফরের যুদ্ধ নয়, এই যুদ্ধ জালেম আর মজলুমের যুদ্ধ’। পাকিস্তানিরা জালেম, এদেশের মানুষ মজলুম। তাই মজলুমকে মুক্তি করতে জালেমের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়া সময়ের বড় কর্তব্য।



হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখায় বিগত ১০-৪-২০১৪ ইং বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়েরর পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় মোজ্জাম্মেল হকের হাত থেকে মরণোত্তর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান করা হয়।




আল্লামা এমদাদুল হক আড়াইহাজারী রহ. ও ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সরব অংশগ্রহণ করেছিলেন পাকহানাদার বাহিনী হটানোর আন্দোলনে। তিনি ১৯৭১ সালে লালবাগ মাদরাসার ছাত্র। যুদ্ধ শুরু হলে মাদরাসা বন্ধ হয়ে যায়। তখন তিনি হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দ্বীপ্ত ঘোষণা শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
চট্টগ্রামের পটিয়া মাদরাসা  ও বরিশালের চরমোনাই মাদরাসা ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প।
এছাড়াও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মালা গাঁথুনীতে লাল-সবুজের পতাকা ওড়াতে ময়দানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন মাওলানা ফজলুল করীম রহ. পীর সাহেব চরমোনাই।


এছাড়াও স্বাধীনতা যুদ্ধে আলেমদের অংশ গ্রহণের এক দলীল হয়ে আছে ‘আলেম মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজে’ বইটি। যাতে শতাধিক আলেম মুক্তিযোদ্ধাকে দলীলসহ নিবন্ধিত করা হয়েছে।সুতরাং,হক্কানী ওলামায়ে কেরামকে বাদ দিয়ে
স্বাধীনতার ইতিহাস অপূর্ণাঙ্গ। স্বাধীনতার ইতিহাসে আলেমদের অবদান অস্বীকার্য।

লেখক: সম্পাদক,ইত্তেহাদ টাইমস।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir