1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

সালাত আল্লাহর শ্রেষ্ঠ উপহার

মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম
  • প্রকাশটাইম: শুক্রবার, ২ এপ্রিল, ২০২১

অধুনা জুমার নামাযে মুসল্লীদের উপস্থিতি, সমাগম দেখে মনে হয়— জুমার নামাযই কেবল মুসলমানদের জন্য ফরয। জুমার নামাযকে এতটা গুরুত্ব দেয় যে, মদখোর, সুদখোর, গাঁজাখোররা পর্যন্ত উপস্থিত হয়। মনে হয় যেন ওয়াক্তিয়া নামাযগুলো না পড়লে কাল ক্বিয়ামতের দিনে কোন ধরা-পাকড়াও হবে না।




অনেকে জুমার নামায পড়ে এসে জোর আওয়াজে ঢেকুর তুলে। অথচ ওয়াক্তিয়া নামাযের কোন খবর থাকে না। আবার অনেকে বেহুদা সময় ব্যয় করে, কিন্তু প্রতি ওয়াক্ত নামাযের জন্য দশ মিনিট ব্যয় করার সময় হয় না। অনেকের নামাযের প্রতি এত এত অনীহা যে— দুনিয়াবি ও ব্যক্তিগত কাজ শেষ করে সামান্যটুকু সময় পেলে মসজিদে যায়। অথচ, নামায হলো সবার উপরে।

অনেক সময় দেখা যায় দোকানে, আড্ডাখানায় বসে গল্প জুড়ে, আড্ডা দেয়। এদিকে মুয়াজ্জিন  সুমধুর স্বরে আযান ফুঁকায়,সেদিকে তার কোন খেয়ালই নেই। পুরো আড্ডা জুড়ে থাকে গীবত, হাসি-ঠাট্টা, বেহুদা কথোপকথন, ঠাট্টার ছলে অন্যকে অপদস্ত, লাঞ্চিত করা ইত্যাদিতে। কিন্তু নামাযের জন্য তাদের সময় হয়ে ওঠে না।




অধুনা আমাদের সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় হলো দশটা। প্রত্যুষে উঠা কেমন যেন অসভ্যতা প্রকাশ পায়। দশটার পরে উঠলে নিজেকে সভ্য ঘরের সন্তান বলে মনে হয়। যদি ভোর চারটায় কোন সফরের পোগ্রাম হয়, এতে কতো প্রস্তুতি! আগেরদিন রাত্রে কাপড় চোপড় সব গুছানো। মোবাইলে এলার্ম দিয়ে রেখেছে সাড়ে তিনটায়। মাকেও বলে দেয়, আমাকে সাড়া তিনটায় ডেকে দিতে হবে। অথচ সফরে বের হবে চারটায়।

অথচ এই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল নামাযের জন্য। তাদের আচার আচরণে বুঝা যায় , “নামায”গুরুত্ব দেওয়ার মতো তেমন বিষয় না। ইচ্ছে হলে পড়লাম না হয় ছেড়ে দিলাম। অথচ নামায আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য হাদিয়া, উপহারস্বরূপ। যা আল্লাহ তাআলা রাসূল সা. এর সম্মানার্থে উম্মাতে মুহাম্মাদিয়ার জন্য দিয়েছেন।




আপনাকে কোন এক প্রিয় বন্ধু একটি মিসওয়াক হাদিয়ে দিলো নবীর সুন্নাত পালন করার জন্য। এখন যদি আপনি এই মিসওয়াককে আলমারিতে রেখে দেন তো হাদিয়াকারী কতটা কষ্ট পাবে? আরো সহজ করে বলি—আপনার প্রিয়তমা একটি জামা উপহার পাঠিয়ে চিঠিতে লিখলো, “আমরা অমুক তারিখে দেখা করবো। আসার সময় তুমি আমার দেওয়া জামাটা পড়ে আসবে। ” এখন আপনি দেখা করতে গেলেন ঠিক কিন্তু জামাটি পরে যান নি। এমতাবস্থায় আপনার প্রিয়তমা আপনার উপর কতটা আক্রোশ হতে পারে?

তদ্রূপ সালাতের ক্ষেত্রেও।সালাত, সেটা তো খোদা প্রদত্ত একটি নি’আমত, উপহার। যা আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুহাম্মাদীর জন্য দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা চান আমরা যেন তাঁর কাছে প্রতিদিন পাঁঁচবার নত হই। আল্লাহ তাআলা চান নামাযের মধ্যে আমরা তাঁর কাছে আমাদের প্রয়োজনের কথা বলি। আমরা যেন আল্লাহর কাছে আবদার করি। আল্লাহ তাআলা এরশাদ ফরমান—
“হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।” (সূরা বাকারাহ ১৫৩)।

একজন প্রিয়তম অধীর আগ্রহে চেয়ে থাকেন যে, কখন প্রিয়তমা একটি আবদার করবে? তদ্রূপ আল্লাহ তাআলাও চেয়ে থাকেন, বান্দা কখন এসে দরবারে হাত দু’খানি তুলে বলবে, হে আল্লাহ!  আমার গুনাহগুলো মাফ করে দিন!
যদি আমরা আল্লাহর দেওয়া উপহারের যথা উপযুক্ত কদর না করি, আল্লাহ তাআলা কতটা রাগান্বিত হবেন?




এরপরেও আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ছাড় দেন। আল্লাহ তো রাহমানুর রাহীম(অতি দয়ালু)।

আমরা আল্লাহ তাআলার এত এত নাফরমানি করা সত্ত্বেও আল্লাহ আমাকে আপনাকে অভাবে রাখছেন না। সুযোগ দিচ্ছেন বারেবার। আপনার প্রিয়তমা আপনাকে কখনো কি এতো সুযোগ দিবেন ? অথচ আমরা প্রিয়তমাকে খুশি রাখার জন্য কতো কিছুর আয়োজন করি! আর আল্লাহর রেজামন্দীর প্রতি অনীহা!আহ…

রাসূলে আকরাম (সা.) আল্লাহর  প্রিয় হাবিব হওয়ার সুবাদে আল্লাহ তাঁকে ৫০ ওয়াক্তা নামায উপহার দেন।রাসূল ( সা.) উপহার নিয়ে ফিরে আসতেই দেখা হয় মূসা (আ.) এর সঙ্গে । কথোপকথন ও পরামর্শক্রমে নবীজি ( সা.)  আবার ফিরে যান আল্লাহর দরবারে। কমিয়ে দেওয়া হয় পাঁচ ওয়াক্ত নামায। এভাবে নয়বার যাওয়া আসা হলে  প্রতিবার পাঁচ ওয়াক্ত করে ৪৫ ওয়াক্ত নামায কমিয়ে দেওয়া হয়। আর পাঁচ ওয়াক্ত নামায বাকি থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন— যে এই পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বে, তাঁকে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাযের সাওয়াব প্রদান করা হবে।সুবহানাল্লাহ!(সহীহ বুখারী ৩০০)।




নামায পড়লে মন প্রফুল্ল থাকে। আর মন প্রফুল্ল থাকলে কাজে মন বসে। নামায হলো আত্মার খোরাক। যদি কখনো শরীর ও আত্মাকে পৃথক করা যেতো, তাহলে মানুষ শঙ্কিত থাকতো। আত্মাকে দেখা মাত্রই মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হতো। কারণ, শরীর থাকতো বিশ বছরের যুবকের মত সুস্থসবল। আত্মা থাকতো ষাট বছরের কুঁজো বুড়োর মতো অতি দুর্বল। নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব হয়ে যেতো।
আমরা শরীরকে চাহিদার অধিক খাদ্য ভক্ষণ করাচ্ছি। কিন্তু, আত্মার ব্যাপারে উদাসীন। আমরা ক্ষুধার্ত অনুভব করতেই ক্ষুধা নিবারণে ছুটে চলি। যার নিমিত্তে শরীর থাকে সুস্থসবল। কিন্তু, আত্মার ক্ষুধা নিবারণে আমরা বেখায়াল। তাই আসুন,আত্মার খোরাকি নামায আদায়ে মনযোগী হই।


নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR