1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

রামাযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করি

মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম
  • প্রকাশটাইম: মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১

পবিত্র রামাযান মাস সন্নিকটে। গুটিকয়েক দিন পরেই দেখা মিলবে এ মাসের সঙ্গে। উদিত হবে রামাযানের সেই ঝলমলে বাঁকা চাঁদটি। মুমিনদের জন্য অন্যান্য মাসের তুলনায় এই মাস হলো বরকতময় ও খুশির মাস।  এই মাস মুমিনদের জন্য গুনাহ মাফের মাস। গুনাহ থেকে নিজেদের পবিত্র করার মাস। এই মাস তাসবীহ-তাহলীলের মাস। তিলাওয়াতের মাস। সিয়াম ও ক্বিয়ামের মাস। 



অন্যান্য মাসের তুলনায় এই মাস একটু ভিন্ন। এই মাস আসলে মুমিনদের অন্তরে কুদরতির এক শীতল হাওয়া বয়ে যায়। এই মাসে মুমিনদের জন্য বিশেষ কিছু দায়িত্ব রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো— পুরো মাসজুড়ে রোযা রাখা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন এরশাদ ফরমান, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেদের উপর। যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।
( সূরা বাকারাহ – ১৮৩)।



সিয়াম কিংবা রোযা শুধু আমাদের উপর ফরয করা হয় নি; আমাদের পূর্ববর্তীদের জন্যও ফরয ছিল। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) রাসূল (সা.)-এর প্রত্যেক হুকুম অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। কিন্তু,  আমাদের মতো দুর্বল ইমানদাররা যেন এমন মনে না করে যে— সিয়াম শুধু আমাদের উপরই ফরয করা হয়েছে। সারাদিন উপোস থাকা কতইনা কষ্টের! তাই আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি এরশাদ ফরমান। বিভিন্ন হাদিসে সিয়ামের ফযীলত, বরকতও এরশাদ ফরমান।  যাতে মোমেন বান্দা ভেঙে না পড়ে।



আবূ হুরায়রা (রা.) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ ফরমান— যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও নেকীর আশায় রামাযান মাসের সাওম রাখে, (এবং রাতে) দণ্ডায়মান হয়, (সালাত পড়ে) তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করা হয়।( বুখারী – ৩৫)।
অন্য এক হাদীসে এরশাদ ফরমান— আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ ফরমান— যখন রামাযান মাসের প্রথম রাত আসে, তখন শয়তান ও অভিশপ্ত জিনদের শৃংঙ্খলিত করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। তার একটি দরজাও খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়।  এর একটি দরজাও বন্ধ হয় না এবং একজন ঘোষক ডেকে বলেন, হে সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তি! অগ্রসর হও। হে অসৎকর্মপরায়ণ! থেমে যাও। আল্লাহ্‌ (রমযানের) প্রতিটি রাতে অসংখ্য লোককে জাহান্নাম থেকে নাযাত দেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ- ১৬৪২)।



মাহে রামাযানে মুমিনদের জন্য দু’টি খুশি, আনন্দ। প্রথমত যখন কোন বান্দা সারাদিন রোযা রেখে ইফতার সামনে নিয়ে বসে, তখন রোযাদারের বিশেষ একটি খুশি অনুভব হয়।( সহীহ বুখারী- ১৯০৪)।
এখনো মনে পড়ে সেই শৈশবের কথা। সেহরির সময় নিজে নিজেই উঠে যেতাম রোযা রাখব বলে। যোহর পর্যন্ত কোন কষ্ট হত না। পড়ন্ত বিকেলেই বাড়ত প্রচণ্ড খিদার জ্বালা। ইচ্ছে করে এখুনি ভেঙে ফেলি। কিন্তু, আম্মু শান্তনা দিতো, আব্বু আর কিছু সময়। বারবার থাকাতাম ঘড়ির দিকে। 



যখন ইফতারের সময় হতো, এতো যে খুশি লাগতো, তা বলে বুঝানো যাবে না! মুখে এক লুকমা ইফতারি মুখে দিয়ে বলতাম, আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ অশেষ দুয়ায় একটি রোযা রেখে ফেলেছি।

হাদীস বিশারদগণ বলেন— প্রথমত খুশি হলো, যখন ইফতার সামনে নিয়ে বসে। এর মানে হলো ইফতার সামনে রেখে যদি বান্দা কোনো দুআ করে, আল্লাহ তাআলা তা কবূল করেন। এরচেয়ে খুশির সংবাদ আর কি হতে পারে! এই কারণে মুমিনদের এই সময়টি অত্যন্ত খুশির, আনন্দের। তখন সে আল্লাহর কাছে যা ইচ্ছে, এই সময়টিতে তা মনভরে আবদার করতে পারে।

দ্বিতীয়ত যখন রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।(সহীহ বুখারী-১৯০৪)। ধরুন, এমন একজন ব্যক্তি যার পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া তো দূরের কথা, কথা বলা পর্যন্ত ভাগ্যে জোটে না। হঠাৎ সেই ব্যাক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের কোন সুযোগ এসে যায়, তাহলে আপনি কেমন খুশি হবেন? শুধু তাই নয়, দুনিয়াবি হাজত, যা সে চায়, সবকিছু পূরণ করে দিবেন। এমতাবস্থায় আপনি মনে করবেন— আপনার চেয়ে সুখি মানুষ এই ভূপৃষ্ঠে আর কেউ নেই। 

ঐ ব্যাক্তির জায়গায় যদি হয় স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা, যেই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা পর্যন্ত দুঃসাধ্য। তাহলে তো কথায় নেই! আপনার জন্য উভয়জাহান হয়ে যাবে হাতের মুঠোয়। কারণ, রাসূল (সা.) ফরমান— আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন,  ‘আদম সন্তানের প্রতিটি সৎকর্ম তার জন্যই, কিন্তু রোযা স্বতন্ত্র।তা আমারই জন্য। আর আমিই তার প্রতিদান দেব।’
(সহীহ বুখারী- ১৯০৪)।
আসুন, পবিত্র রামাযানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি।রহমত,নাজাত,মাগফিরাতে নিজেকে পবিত্র করে তোলি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR