1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

আবেগ থেকে বুদ্ধিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে

সৈয়দ মবনু
  • প্রকাশটাইম: রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

আর্থনৈতিক এবং ভৌগলিক দিকে আমাদের এই বাংলাদেশ বেশ বিপদজনক অবস্থানে। জনগোষ্ঠী আয়তনের তুলনায় বেশি এবং জনসংখ্যার বেশিভাগ সামাজিক, রাজনৈতিক, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদি সম্পর্কে অসচেতন। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা হোক মাদরাসা শিক্ষা কিংবা স্কুল-কলেজ, কোথাও স্বচ্ছতা এবং জ্ঞান ভিত্তিক নয়। ফাঁকিবাজি সব জায়গায় নিয়ম হয়েগেছে। যারা আমাদের শিক্ষার উপকরণ তৈরি করেন তাদের যেন ধারণাই নেই গ্রহণকারীর কতটুকু গ্রহণের যোগ্যতা। সবার মধ্যে পদ,পদবী আর অর্থের জন্য এত অস্থিরতা যে আমরা শুধু সবক পড়ছি, কিন্তু আমকতা ছাড়া। ( সবক হলো প্রতিদিনের পড়া, আমকতা হলো পিছনের পড়া)। যারা বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করে জাতিকে আলো-অন্ধকারের সংঘর্ষ বুঝিয়ে আলোর পথ দেখানোর কথা, সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র-শিক্ষক যেন আরও বেশি অস্থির। তাদের গবেষণাপত্র পড়লে মনে হয় কপিপেস্ট। বক্তব্য শোনলে হাসিতে পেট ভরে যায়। মাদরাসাগুলোর তাকমিল ফিল হাদিসের ক্লাসের একেক শিক্ষক টাকার জন্য হোক কিংবা বরকতের জন্য কয়েক মাদরসায় পড়াতে গিয়ে কংকটের মতো শুধু মতন পড়তে থাকেন। ফলে মাওলানা-মুফতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও আলেম বা ইলমওয়ালা আলেমের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। অনেক মাওলানা কোরআন, হাদিস, ফিকাহ বুঝেন বলেও মনে হয় না। অনেকের ওয়াজ শুনলে আর উপমা দিয়ে বুঝাতে হয় না মুর্খতা-অসচেতনতা কত প্রকার এবং কি কি? অসচেতন জনগণও শাস্ত্র থেকে বেশি শাস্ত্রিককে অনুসরণ করেন। এখানে চলে শুধু আবেগের খেলা। ফলে আবেগ, পেশিশক্তি আর চাপাবাজী এখন হয়েগেছে দেশের রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় মাঠের মূল হাতিয়ার। চিন্তার দিকে চলছে সব জায়গায় দীনতা। কেউ কেউ বুঝেন, তবে তারাও সিন্ডিকেটের আক্রমণের ভয়ে কথা বলেন না। ফলে আবেগের, নির্বুদ্ধিতার জয় জয় চলছে চারদিকে।
ধীরে ধীরে এই সুযোগে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ি, পূঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী চক্র এখানে রোডম্যাপ তৈরি করে এগিয়ে আসছে। আর আমরাও তাদের নীলনক্সার পথে হাটতে শুরু করেছি। উভয়দিকেই কালোবাজারী আর কালোটাকাওয়ালাদের প্রভাব বিস্তার হচ্ছে। চক্রান্তকারীরা প্রচুর ইনভেস্ট করছে এখানে একটি গৃহযুদ্ধ সৃস্টির জন্য। আমাদের সরকার, সরকার বিরোধী দল এবং ইসলামী সংগঠনগুলো যদি বিষয়টি না-বুঝেন তবে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে গৃহযুদ্ধের দিকে যাত্রা শুরু করবে। ইসলামপন্থী এবং নন-ইসলামিকরা যদি আবেগ থেকে বুদ্ধিকে বেশি কাজে ব্যবহার না করেন তবে অন্যরা তাদের মাথায় কাঁঠাল রেখে খেয়ে নিজেরা থেকে যাবে পাক-পবিত্র। ষড়যন্ত্রকারীকে দোষ দিয়ে আমরা মিথ্যা আত্মতৃপ্তি লাভ করতে পারি, কিন্তু স্বীকার করতে হবে আমাদের দোষের ফাঁক দিয়ে তারা বাঁশ ডুকিয়ে কাজ উঠিয়ে নিতেছে। তাই প্রথমে আমাদের এই ফাঁকগুলো বন্ধ করতে হবে। কোথায় কোথায় ফাঁক তা না-জানলে বন্ধ করবেন কীভাবে? আবেগি বক্তব্য আর শ্লোগান দিয়ে হবে না। সর্বস্থরে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি চিন্তার গণ-আন্দোলন গড়তে হবে প্রথমে এদেশের স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদরাসাগুলোতে। অতঃপর তা ব্যাপকভাবে ঘরে ঘরে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী কাজ করতে হবে। সমন্বয় করতে হবে সকল শ্রেণির মানুষের চিন্তায়। চিন্তায় সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজন সিলেবালের সমন্বয়। কেউ কাউকে দমন করে দখলের চিন্তা বাদ দিয়ে স্ব স্ব ক্ষেত্রে সবাই কাজ করার প্রেরণা তৈরি করতে হবে। তা হলে সম্ভব দেশ এবং দেশের মানুষকে রক্ষা ও স্থিতিশীল উন্নয়ন করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR