1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৯:২৮ অপরাহ্ন

রহিমার স্বপ্ন

তারিকুল ইসলাম সুমন
  • প্রকাশটাইম: সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১

বিপদটা হতেই পারতো। ভাগ্যিস পাশেই পচা ডোবাটি ছিল। ডোবায় নেমে অনেক্ষণ নাক ভাসিয়ে থাকতে হয়েছিল রতনকে। হঠাৎ করেই টর্চ জ্বালিয়ে আসছিলো আজিজ মাতব্বর। ফিরছিলো মিলিটারীদের ক্যাম্প থেকে। ওই লোকটিইতো ওদের রশদ যোগান দিচ্ছে। রতনের ব্যাপারে কিছুই জানতে পারলে সবকিছু পণ্ড হয়ে যাবে। এত রাতে রাস্তায় দেখতে পেলে নিশ্চই কিছু জিজ্ঞেস করতো-কোথায় গিয়েছিল? ও হ্যাঁ, রতনের বয়স এবার মাত্র তের বছর, মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য করে সে।




রহিমা রতনের থেকে দুই বছরের বড়। রতন রাতে বেরুলে ঠিকমত বালিশে কান দিতে পারে না সে । অনেক রাতে রতন বাড়ি ফেরে। দরজার কড়ায় একটা নাড়া দিলেই দরজা খুলে দেয় ঠিকঠাক। ছোটভাই মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী, ভাবতেই গর্বে ভরে ওঠে ওর বুক। শফিক ভাইয়া সেদিন বলছিল খুব ভালো কাজ করছে রতন, ও যুদ্ধও করতে পারবে নিশ্চই। কিন্তু আজ ভেজা শরীর দেখে একটু যেন থতমত খেয়ে যায়। শব্দ করে কথা বলতে পারে না, ওপাশে মা ঘুমাতে থাকে। চাপা গলায় বলে ওঠে
-কি হয়েছে রতন, ভিজা ক্যান?
-আর বলিসনা আপু। বলছি এসে, গামছাটা দেও। গাডা ধুয়ে আসি।




মনটা অানচান করতে থাকে রহিমার। জানতে ইচ্ছে করে তার, রাতে অমন করে কিভাবে ভিজেছিল। ঘরে ফিরলে জিজ্ঞাসা করে,
-কিরে, কি হয়েছিল ভাই?
-ওদের ক্যাম্পর কোনায় ষাড়াগাছটিতে বসেছিলাম সন্ধ্যা থেকে। ক্যাম্পে কে কে আসে, কোথায় যায়, কতজন লোক আছে এসব দেখতে বলেছিলেন বশির ভাই। কি কি অস্ত্র আছে তাও দেখেছি। ওদের কাছে অনেক গুলি আছে, কয়েকটা বাক্সো ভরা। ওগুলো ওদের ঐ চুলপাকা একটা লোকটার কাছেই থাকে। আমি ফেরার পথে দেখি আজিজ মাতব্বর যাচ্ছে। লোকটা তো ওদের দালাল। আমাকে না দেখতে পায় তাই ডোবায় ডুব দিয়েছিলাম।


ঘুমাতে যায় রহিমা। ইশকুলত বন্ধ, বাবার সাথে ক্ষেতে যেতে হবে কাল সকালেই। ঘুম পেয়ে আসে রতনেরও। হাইতুলে পাতামাদুরে শুয়ে পড়ে রতন।

একদিন পার হয়। পরদিন ভোরে কিছু মুক্তিযোদ্ধা এসে হামলা করে ক্যাম্পে। সকল ও সন্ধ্যায় সিপাহীরা এতটু অপ্রস্তুত থাকে। কেউ টয়োলেটে, কেউ ঝিমায়, এটাই কি হামলার উপযুক্ত সময়! বেশকিছু অস্ত্র ও কয়েকটি এ্যামোনেশন বক্স লুট করে নিয়ে যায়।




তবু ক্যাম্প ছাড়নি ওরা। ব্রিগেড থেকে অনেক সিপাহী এসে যোগ হয় ওদের সাথে। যোগ দিয়েছে কিছু রাজাকারও। ক্যাম্পে ধরে এনেছে কিছু নীরিহ মানুষকে। বাদ যায়নি কিছু নারীও। এদিকে হাল ছাড়েনি মুক্তিযোদ্ধারাও। থমথমে গ্রাম। খালি হতে থাকে অনেক বাড়ি, ভয়ে পালাতে থাকে অনেক মানুষ।

রহিমাদের বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়নি। গ্রামের এক কোণে বাড়ি হওয়ায় এটাই সুবিধা হয়েছে। সন্ধ্যার পরপর নদী পার হয়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা গ্রামে ঢুকে পড়ে। কিছু একটা হতে চলেছে নিশ্চই, বুঝতে বাকি থাকেনা রহিমার।




সন্ধ্যায় খানিকটা অসুস্থ বোধ করছিল রতন। মাথায় যন্ত্রণা এই বাড়ে এই কমে অবস্থা। মনটাও কেন জানি ভালো নেই। রাত দশটার দিকে বশির ভাই যেতে বলেছে। শশ্মানঘাটের পিছে থাকবে সবাই। হয়তো কোন কাজে আসতে পারে সে। এরই মধ্যে তন্দ্রা এসে যায় রতনের, শুয়ে পড়ে মশারীটা পেড়ে।

কখন যেন রহিমার ডাকে ঘুম ভাঙে রতনের। চুপিচুপি ডাকতে থাকে,
-ভাই যাবিনা, কোথায় যেন তোর যাবার কথা ছিল?
-হ্যাঁ, বশির ভাই যেতে বলেছিলেন। আজ ওদের ক্যাম্পে হামলা দিবে।
-তাহলে যাসনা কেন?
-আমার শরীরটা ভালো ঠেকেনা আজ।
-যা ভাই যা,একটু কষ্ট কর। পাকিস্থানিরা হারলেই আমরা ইশকুলে যেতে পারবো।
-ঠিকাছে।




রহিমার কথায় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায় রতন। ঘন্টা দুয়েক বাদেই জ্বলতে থাকে গ্রাম। হাওয়ায় ভাসে এলএমজির বিরামহীন লংবাষ্ট ও গ্রেনেড ফাটার শব্দ। আবার একসময় নিস্তব্ধ হয় গ্রাম। আবার ভোর হয়। রতনের ফেরার অপেক্ষায় থাকে রহিমা। বেলা গড়িয়ে আবার সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে, তবু আর ফিরে আসেনি রতন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR